স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, সংবিধান সংস্কারের ক্ষেত্রে জনপ্রত্যাশা এবং ছাত্র-গণঅভ্যুত্থানের শহিদদের আকাঙ্ক্ষাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে। রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে স্বাক্ষরিত ‘জুলাই জাতীয় সনদ’-এর ভিত্তিতে সমঝোতার মাধ্যমে সংশোধনী প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে বলেও জানান তিনি।
আজ শনিবার (২৮ মার্চ) রাজশাহীর বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমি প্রাঙ্গণে ৪৩তম বিসিএস (পুলিশ) ব্যাচের প্রশিক্ষণ সমাপনী কুচকাওয়াজ শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
সংবিধানে জিয়াউর রহমান-এর নাম স্বাধীনতার ঘোষক হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, এ বিষয়ে একটি সংবিধান সংস্কার কমিটি গঠন করা হবে। সেখানে বিস্তারিত আলোচনা শেষে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, “জুলাই জাতীয় সনদের ভিত্তিতে আমরা সব কিছুই অগ্রাধিকার ভিত্তিতে প্রণয়ন করবো। সেখানে দেশের মানুষের বর্তমান প্রত্যাশা এবং গণঅভ্যুত্থানের শহিদদের স্বপ্নকে গুরুত্ব দেওয়া হবে।”
মন্ত্রী জানান, রাজনৈতিক সমঝোতার দলিল হিসেবে ‘জুলাই জাতীয় সনদ’-এ স্বীকৃত বিষয়গুলোকে প্রাধান্য দিয়ে সংবিধান সংশোধন কমিটি খসড়া প্রস্তুত করবে। এরপর জাতীয় সংসদে বিধি মোতাবেক প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় পাঠের মাধ্যমে আলোচনা শেষে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
এর আগে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “আজ থেকে আপনাদের জীবনের এক নতুন অধ্যায় শুরু হলো। এই ইউনিফর্ম কেবল ক্ষমতার প্রতীক নয়—এটি দায়িত্ব, ত্যাগ এবং সেবার প্রতীক।” তিনি নবীন পুলিশ কর্মকর্তাদের সততা, সাহস ও মানবিকতার সঙ্গে দেশসেবায় আত্মনিয়োগের আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে ৪৩তম বিসিএস (পুলিশ) ব্যাচের সদস্যদের মাঝে সনদপত্র বিতরণ করা হয়। মন্ত্রী নবীন কর্মকর্তাদের সফলভাবে প্রশিক্ষণ সমাপ্তির জন্য অভিনন্দন জানান এবং তাদের পেশাগত ও ব্যক্তিগত জীবনের সর্বাঙ্গীণ সাফল্য কামনা করেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন পুলিশের মহাপরিদর্শক মোঃ আলী হোসেন ফকির এবং বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমির প্রিন্সিপাল (অ্যাডিশনাল আইজিপি) জি এম আজিজুর রহমানসহ অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

