কোর্ট রিপোর্টার, ঢাকা | গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীন ‘বাংলাদেশ আইনগত সহায়তা প্রদান সংস্থা’ (জাতীয় আইনগত সহায়তা প্রদান সংস্থা)-র আওতাধীন সুপ্রিম কোর্ট লিগ্যাল এইড কমিটি তাদের প্যানেল আইনজীবীদের তালিকা হালনাগাদের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আর্থিকভাবে অসচ্ছল, সহায়-সম্বলহীন এবং নানাবিধ আর্থ-সামাজিক কারণে বিচার প্রাপ্তিতে অসমর্থ বিচারপ্রার্থী জনগণের মামলা উচ্চ আদালতে পরিচালনা ও আইনি পরামর্শ প্রদানের জন্য যোগ্য আইনজীবীদের নিকট হতে দরখাস্ত আহ্বান করা হয়েছে।
আজ শনিবার (২৩ মে) সুপ্রিম কোর্ট লিগ্যাল এইড অফিসার (অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ) এবং সুপ্রিম কোর্ট লিগ্যাল এইড কমিটির সদস্য-সচিব মো: ইমতিয়াজুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এই নিয়োগের তথ্য জানানো হয়।
প্রয়োজনীয় যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতার শর্ত
-
অভিজ্ঞতা: আবেদনকারী আইনজীবীকে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টে দায়েরযোগ্য বা দায়েরকৃত মামলার পরামর্শ প্রদান ও পরিচালনার জন্য হাইকোর্ট বিভাগে অন্যূন ০৫ (পাঁচ) বছর মামলা পরিচালনার বাস্তব অভিজ্ঞতা থাকতে হবে।
-
নিয়োগের ধরণ: এই নিয়োগ সম্পূর্ণ অস্থায়ী ভিত্তিতে ০১ (এক) বছরের জন্য প্রদান করা হবে। তবে সন্তোষজনক পারফরমেন্সের ভিত্তিতে এই নিয়োগ নবায়নযোগ্য।
-
বর্তমান প্যানেলভুক্তদের জন্য নির্দেশনা: বর্তমানে যারা সুপ্রিম কোর্ট লিগ্যাল এইড-এর প্যানেল আইনজীবী হিসেবে কর্মরত আছেন, তাদেরও এই বিজ্ঞপ্তি মোতাবেক নতুন করে আবেদন করতে হবে। নতুন প্যানেল অনুমোদিত হওয়ার সাথে সাথেই পুরাতন প্যানেলটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে বিলুপ্ত হয়ে যাবে।
বিল ও ফি সংক্রান্ত নিয়মাবলী
১. প্রত্যেক প্যানেল আইনজীবী ‘আইনগত সহায়তা প্রদান প্রবিধানমালা, ২০১৫’ কর্তৃক অনুমোদিত নির্ধারিত হারে ফি (Fee) প্রাপ্ত হবেন। ২. কোনো প্যানেল আইনজীবী বিচারপ্রার্থীর নিকট হতে কোনো প্রকার ফি বা বাড়তি খরচাদি দাবি করতে বা গ্রহণ করতে পারবেন না। ৩. মামলার সাথে সম্পৃক্ত আনুষঙ্গিক খরচাদির প্রকৃত ব্যয় কমিটি কর্তৃক নির্বাহ করা হবে।
দায়িত্ব ও অন্যান্য শর্তাবলি
-
নিয়োগকৃত আইনজীবীকে প্রতি মাসে তার অধীনস্থ মামলার অগ্রগতির প্রতিবেদন নির্ধারিত ফরম্যাটে সুপ্রিম কোর্ট লিগ্যাল এইড অফিসার বরাবর দাখিল করতে হবে।
-
মামলা পরিচালনায় গাফিলতি, অবহেলা বা শর্ত পালনে ব্যর্থ হলে সুপ্রিম কোর্ট কমিটি সংশ্লিষ্ট আইনজীবীকে যুক্তিসংগত শুনানির সুযোগ প্রদান করে প্যানেল থেকে তার নাম কর্তন করতে পারবে।
-
কোনো প্যানেল আইনজীবী স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করতে চাইলে, তাকে অবশ্যই ০৩ (তিন) মাস পূর্বে সুপ্রিম কোর্ট লিগ্যাল এইড অফিসকে লিখিতভাবে অবহিত করতে হবে।
আবেদন প্রক্রিয়া ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র
আগ্রহী প্রার্থীদের সুপ্রিম কোর্ট লিগ্যাল এইড অফিসের নির্ধারিত ফরমে আবেদন করতে হবে। উক্ত আবেদন ফরম অফিস চলাকালীন সুপ্রিম কোর্ট লিগ্যাল এইড কার্যালয় অথবা বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট (www.supremecourt.gov.bd) থেকে সংগ্রহ করা যাবে।
আবেদনের সাথে উল্লেখিত কাগজপত্রের ফটোকপি সংযুক্ত করতে হবে: ১. সর্বশেষ শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদপত্র। ২. পেশাগত যোগ্যতার (বাংলাদেশ বার কাউন্সিল) সাময়িক বা স্থায়ী সনদ। ৩. হাইকোর্ট পারমিশন (High Court Permission) সনদ। ৪. সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির মেম্বারশিপ আইডি কার্ড (SCBA ID)। ৫. জাতীয় পরিচয়পত্রের (NID) ফটোকপি। ৬. সম্প্রতি তোলা ০২ (দুই) কপি পাসপোর্ট সাইজের রঙিন ছবি। ৭. বর্তমান ঠিকানা সম্বলিত ভিজিটিং কার্ড (যদি থাকে)।
আবেদনের সময়সীমা ও জমা দেওয়ার পদ্ধতি
পূরণকৃত আবেদন ফরম প্রয়োজনীয় সকল তথ্যাদি ও কাগজপত্রসহ সুপ্রিম কোর্ট লিগ্যাল এইড অফিসার বরাবর ডাকযোগে অথবা সরাসরি জমা দিতে হবে।
-
আবেদনের শেষ সময়: ৩০ জুন, ২০২৬ খ্রি. (অফিস সময় পর্যন্ত)।
-
বিশেষ সতর্কবার্তা: অসম্পূর্ণ বা ত্রুটিপূর্ণ দরখাস্ত কোনো প্রকার যোগাযোগ ছাড়াই সরাসরি বাতিল বলে গণ্য হবে এবং পদ সংখ্যা প্যানেল আইনজীবী তালিকা প্রণয়ন কমিটি কর্তৃক নির্ধারিত হবে।

