ভুয়া নিয়োগপত্র: রিট করে ফাঁসলেন ৩৪ আবেদনকারী
বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট। ছবি: জয়দীপ্তা দেব চৌধুরী

বার কাউন্সিলের প্রথম রিভিউয়ের ফল বাতিলের সিদ্ধান্ত অবৈধ ঘোষণা হাইকোর্টের

কোর্ট রিপোর্টার, ঢাকা | বার কাউন্সিলে আইনজীবী তালিকাভুক্তির (এনরোলমেন্ট) লিখিত পরীক্ষার ফলাফল নিয়ে চলমান এক বড় আইনি জটিলতার অবসান ঘটিয়েছেন উচ্চ আদালত। গত বছরের ১৮ই নভেম্বর প্রকাশিত প্রথম রিভিউ ফলাফল বাতিলের বিষয়ে বার কাউন্সিলের নেওয়া সিদ্ধান্তকে সম্পূর্ণ অবৈধ ও বেআইনি ঘোষণা করেছেন হাইকোর্ট।

একই সাথে, প্রথম রিভিউ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়া সত্ত্বেও পরবর্তীতে বার কাউন্সিলের দ্বিতীয় রিভিউ ফলাফলে যারা বাদ পড়েছিলেন, তাঁদেরকে সরাসরি আইনজীবী তালিকাভুক্তির মৌখিক (Viva-Voce) পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

আজ বুধবার (১০ জুন) বিচারপতি খিজির আহমেদ চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চ এই ঐতিহাসিক রায় ঘোষণা করেন।

ইতোপূর্বে ৬৩২ জন পরীক্ষার্থীর দায়েরকৃত রিট আবেদনের প্রেক্ষিতে উচ্চ আদালতের জারি করা রুলকে চূড়ান্তভাবে যথাযথ (Rule Absolute) ঘোষণা করে আজ এই রায় দেওয়া হলো।

আদালতে আজ পরীক্ষার্থীদের পক্ষে অধিকার আদায়ের এই গুরুত্বপূর্ণ আইনি লড়াই ও শুনানি পরিচালনা করেন সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ব্যারিস্টার বদরুদ্দোজা বাদল এবং ব্যারিস্টার এম আশরাফুল ইসলাম।

রিট আবেদন ও মামলার প্রেক্ষাপট

আইনজীবী সনদ পাওয়ার চূড়ান্ত ধাপে থাকা ৬৩২ জন পরীক্ষার্থীর জীবন ও ক্যারিয়ারের সুরক্ষায় এই মামলার ব্যাকগ্রাউন্ডটি নিচে তুলে ধরা হলো:

  • ১৮ নভেম্বর, ২০২৫: বার কাউন্সিল কর্তৃক আইনজীবী সনদ পাওয়ার লিখিত পরীক্ষার খাতা খতিয়ে দেখে প্রথম ‘রিভিউ ফলাফল’ প্রকাশ করা হয়। এতে অনেক পরীক্ষার্থী কৃতকার্য হন।

  • ২৪ নভেম্বর, ২০২৫: প্রথম রিভিউ ফলাফল প্রকাশের মাত্র ৬ দিনের মাথায় এক আকস্মিক সিদ্ধান্তে বার কাউন্সিল সেই ফলাফলটি সম্পূর্ণ বাতিল করে দেয়। তারা সিদ্ধান্ত নেয়, রিভিউ আবেদনকারী প্রতিটি প্রার্থীর লিখিত পরীক্ষার উত্তরপত্র আবার ‘পুনর্মূল্যায়ন’ করা হবে।

  • দ্বিতীয় রিভিউ ও জটিলতা: বার কাউন্সিলের ওই সিদ্ধান্তের পর দ্বিতীয়বারের মতো রিভিউ ফলাফল ঘোষণা করা হয়। দেখা যায়, প্রথম ফলাফলে যারা পাস করেছিলেন, তাদের একটি বড় অংশ এই দ্বিতীয় তালিকায় বাদ পড়ে যান। পরবর্তীতে এই দ্বিতীয় তালিকায় উত্তীর্ণদের দ্রুত ভাইভা পরীক্ষাও সম্পন্ন করে ফেলে বার কাউন্সিল।

প্রথম তালিকায় পাস করার পর আকস্মিকভাবে বাদ পড়া ৬৩২ জন পরীক্ষার্থী বার কাউন্সিলের এই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট পিটিশন দায়ের করেন। দীর্ঘ শুনানি শেষে আজ আদালত বার কাউন্সিলের ২৪ নভেম্বরের বাতিলকরণের সিদ্ধান্তকে অবৈধ ঘোষণা করে প্রথম ফলাফলে উত্তীর্ণদের আইনি অধিকার পুনর্বহাল করলেন।

হাইকোর্টের আজকের এই রায়ের ফলে শত শত শিক্ষানবিস আইনজীবীর দীর্ঘদিনের মানসিক চাপের অবসান ঘটল। রিটকারীদের আইনজীবীরা জানিয়েছেন, আদালতের এই আদেশের ফলে প্রথম রিভিউ ফলাফলের আইনি বৈধতা ফিরে এলো। ফলে ওই ফলাফলে যারা পাস করেছিলেন, তাদের নতুন করে কোনো লিখিত বা প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় বসতে হবে না; তারা সরাসরি পরবর্তী ভাইভা বা মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নিয়ে আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্ত হওয়ার সুযোগ পাবেন।

এদিকে আগামী ১২ জুন যেখানে নতুন মেয়াদের প্রিলিমিনারি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে, তার ঠিক দুদিন আগে উচ্চ আদালতের এমন রায়কে দেশের শিক্ষানবিস আইনজীবী সমাজ একটি ঐতিহাসিক বিজয় হিসেবে দেখছেন।