রিট
হাইকোর্ট; রিট (প্রতীকী ছবি)

আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিল চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট, দায় নিতে নারাজ কর্তৃপক্ষ

কোর্ট রিপোর্টার, ঢাকা | রাজধানীর মগবাজারের আদ্-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের সরকারি সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে একটি রিট পিটিশন দায়ের করা হয়েছে। তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সাফ জানিয়ে দিয়েছে, এই রিট দায়েরের সঙ্গে তাদের প্রাতিষ্ঠানিক কোনো ধরনের সম্পর্ক বা সম্পৃক্ততা নেই।

আজ সোমবার (১৫ জুন) সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী অ্যাডভোকেট ইউনূছ আলী আকন্দ জনস্বার্থে উচ্চ আদালতের সংশ্লিষ্ট শাখায় এই রিট আবেদনটি দায়ের করেন।

এদিকে রিট দায়েরের খবর ছড়িয়ে পড়ার পরপরই আদ্-দ্বীন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির গণমাধ্যমকে একটি বিবৃতি দিয়েছেন। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে আইনজীবী শিশির মনির স্পষ্ট করে বলেছেন, “এই রিট দায়েরের সঙ্গে আদ্-দ্বীন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কোনো সম্পর্ক নেই।” হাসপাতাল প্রশাসন এই আইনি পদক্ষেপের সাথে কোনোভাবেই জড়িত নয়।

৬ নবজাতকের মৃত্যুর জেরে লাইসেন্স বাতিলের খতিয়ান

এর আগে গত ১১ জুন (বৃহস্পতিবার) মগবাজারের আদ্-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের লাইসেন্স সম্পূর্ণ বাতিল করে প্রজ্ঞাপন জারি করে সরকার। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সেই নির্দেশনায় উল্লেখ করা হয়েছে, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ চাইলে আগামী ৩০ দিনের মধ্যে এই বাতিল আদেশের বিরুদ্ধে যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে আইনি আপিল করার সুযোগ পাবে।

সরকারি এই কঠোর সিদ্ধান্তের নেপথ্যে ছিল গত মাসের একটি হৃদয়বিদারক ও চাঞ্চল্যকর ঘটনা। গত ২৭ মে ভোরে আদ্-দ্বীন হাসপাতালের পোস্ট-অপারেটিভ ওয়ার্ডে একসঙ্গে ছয় নবজাতক শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়। মৃত নবজাতকদের বয়স ছিল মাত্র এক থেকে তিন দিন। সদ্যজাত হওয়ায় এসব শিশুর কোনো নামও রাখা সম্ভব হয়নি; ফলে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত শিশুদের তাদের নিজ নিজ মায়ের নামে চিহ্নিত করা হচ্ছিল।

এই চরম মর্মান্তিক ঘটনায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে অবহেলাজনিত কারণে মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট অভিযোগ এনে রাজধানীর রমনা থানায় একটি ফৌজদারি মামলা দায়ের করেন মৃত এক নবজাতকের বাবা হাবিবুর রহমান।

তদন্ত কমিটির লুকোচুরি ও মন্ত্রণালয়ের অবস্থান

৬ নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনাটি দেশজুড়ে ব্যাপক ক্ষোভের জন্ম দিলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দ্রুত ৩ সদস্যের একটি শক্তিশালী উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়। গত ৩০ মে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন গণমাধ্যমকে জানিয়েছিলেন, তদন্ত কমিটি আগামী ৩ জুনের মধ্যে ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ বিশ্লেষণ করে একটি পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন জমা দেবে। সেই তদন্ত প্রতিবেদনের সুপারিশের ভিত্তিতেই মূলত গত ১১ জুন হাসপাতালটির লাইসেন্স বাতিল করা হয়।

অন্যদিকে, ঘটনার পর পর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষও নিজেদের দায় এড়াতে একটি অভ্যন্তরীণ তদন্ত কমিটি গঠন করেছিল। শুরুতে তারা এই তদন্ত প্রতিবেদনটি সম্পূর্ণ জনসমক্ষে (Publicly) প্রকাশের আনুষ্ঠানিক ঘোষণাও দিয়েছিল। তবে পরবর্তীতে তারা সেই সিদ্ধান্ত থেকে রহস্যজনকভাবে সরে আসে এবং জানায় যে, অভ্যন্তরীণ প্রতিবেদনটি সাধারণ মানুষের সামনে প্রকাশ না করে সরাসরি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে জমা দেওয়া হবে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের এমন সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের মাঝেই আজ সুপ্রিম কোর্টে এই লাইসেন্স বাতিলের আদেশ বাতিলের রিট দায়ের হলো, যা নিয়ে আদালত পাড়ায় চলছে নানা গুঞ্জন।