কোর্ট রিপোর্টার, ঢাকা | বাংলাদেশে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন এবং যৌতুক নিরোধ আইনের অপব্যবহার রোধসহ পুরুষদের অপ্রয়োজনীয় আইনি হয়রানি থেকে সুরক্ষা দিতে ‘পুরুষ নির্যাতন দমন ও প্রতিরোধ আইন’ নামে পৃথক আইন প্রণয়নের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে একটি রিট পিটিশন দায়ের করা হয়েছে।
আজ মঙ্গলবার (২১ জুলাই ২০২৬) বিচারপতি রাজিক আল জলিল ও বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরীর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চের দৈনন্দিন কার্য তালিকায় (Cause List) রিট আবেদনটি শুনানির জন্য অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট কাজী ইলিয়াসুর রহমান এই রিট আবেদনটি দায়ের করেন।
দায়েরকৃত রিট পিটিশনে মন্ত্রিপরিষদ সচিব, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিবকে বিবাদী (Respondent) করা হয়েছে।
রিটের মূল বিষয়বস্তু ও আইনি যুক্তিসমূহ
আদালতে পেশকৃত রিট আবেদনে বলা হয়েছে, সমাজে অনেক ক্ষেত্রে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন এবং যৌতুক নিরোধ আইনের অসৎ ব্যবহার করে পুরুষ ও তাঁদের পরিবারকে চরম অপ্রয়োজনীয় আইনি হয়রানির শিকার করা হচ্ছে। যদি রাষ্ট্রে ‘পুরুষ নির্যাতন দমন ও প্রতিরোধ আইন’ নামে একটি সুনির্দিষ্ট ও কার্যকর আইন প্রণয়ন করা হয়, তবে আইনের সমতা ও মৌলিক ন্যায়বিচারের স্বার্থে নারীরা আর উক্ত আইনসমূহের অপব্যবহার করতে পারবে না।
রিট আবেদনে উল্লেখ করা হয়, পুরুষদের ওপর পারিবারিক ও সামাজিক নির্যাতন প্রতিরোধ এবং মিথ্যা মামলার হাত থেকে সুরক্ষা দিতে পৃথক আইন প্রণয়ন না করা সংশ্লিষ্ট বিবাদীদের এক ধরনের প্রশাসনিক নিষ্ক্রিয়তা ও চরম ব্যর্থতা।
রুল ও অন্তর্বর্তীকালীন আদেশের আর্জি
রিটে হাইকোর্টের কাছে দুই দফা মূল আইনি প্রতিকার ও আর্জি জানানো হয়েছে:
-
রুল জারি: ‘নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন’ এবং ‘যৌতুক আইন’-এর অপব্যবহারের মাধ্যমে পুরুষদের অপ্রয়োজনীয় হয়রানি থেকে রক্ষা করতে ‘পুরুষ নির্যাতন দমন ও প্রতিরোধ আইন’ নামে একটি নতুন আইন প্রণয়নে বিবাদীদের ব্যর্থতা ও নিষ্ক্রিয়তা কেন আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত এবং বেআইনি ঘোষণা করা হবে না; এবং উক্ত নতুন আইন প্রণয়নের জন্য বিবাদীদের প্রতি কেন নির্দেশ প্রদান করা হবে না—এ মর্মে কারণ দর্শানোর রুল জারির আর্জি জানানো হয়েছে।
-
অন্তর্বর্তীকালীন নির্দেশ: এই রুল বিবেচনা ও শুনানি বিচারাধীন (Pending) থাকা অবস্থায়, পুরুষদের অন্যায্য আইনি হয়রানি থেকে তাৎক্ষণিক সুরক্ষার লক্ষ্যে বিবাদীদের ‘পুরুষ নির্যাতন দমন ও প্রতিরোধ আইন’ প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়ার জন্য সুনির্দিষ্ট অন্তর্বর্তীকালীন নির্দেশনা প্রদানের প্রার্থনা করা হয়েছে।
আইনজীবীরা বলছেন, সংবিধানের অনুচ্ছেদ ২৭ অনুযায়ী সকল নাগরিক আইনের দৃষ্টিতে সমান এবং আইনের সমান আশ্রয় লাভের অধিকারী। মিথ্যা মামলার কারণে অনেক নির্দোষ পুরুষ ও তাঁদের পরিবার সামাজিকভাবে নিঃস্ব হচ্ছেন। ফলে উচ্চ আদালতে এই রিটের বিচারিক শুনানি দেশে ভারসাম্যপূর্ণ আইন কাঠামোর বিকাশে বিশেষ ভূমিকা রাখতে পারে।

