ফরিদপুর জেলা জুডিসিয়ারি ও পুলিশের সমন্বয়ে পুলিশ–ম্যাজিস্ট্রেসি কনফারেন্স অনুষ্ঠিত হয়েছে। ফরিদপুর জেলার চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. সেলিম রেজার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ কনফারেন্সে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ফরিদপুরের সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ মো. জিয়া হায়দার।
কনফারেন্সে বিচার বিভাগ, পুলিশ, প্রসিকিউশন, চিকিৎসা বিভাগসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তারা অংশ নেন। ফৌজদারি মামলার দ্রুত নিষ্পত্তি, ওয়ারেন্ট তামিল, যথাসময়ে জখমী সনদ প্রাপ্তি এবং বিচারিক কার্যক্রমে বিদ্যমান বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা ও মতবিনিময় হয়।
পাঁচ বছরের মামলার নিষ্পত্তির পরিসংখ্যান উপস্থাপন
কনফারেন্সের শুরুতে ফরিদপুর চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের গত পাঁচ বছরের মামলার নিষ্পত্তির সামগ্রিক পরিসংখ্যান উপস্থাপন করা হয়।
এ সময় বিভিন্ন আদালতে বিচারাধীন ফৌজদারি মামলার কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনকারী ওয়ারেন্ট তামিলের হার এবং যথাসময়ে জখমী সনদ প্রাপ্তির বিষয়েও বিস্তারিত আলোচনা ও পর্যালোচনা করা হয়।
এসব ক্ষেত্রে বিদ্যমান সমস্যা ও প্রতিবন্ধকতা চিহ্নিত করার পাশাপাশি কার্যকর সমাধানের সম্ভাব্য উপায় নিয়েও অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে মতবিনিময় অনুষ্ঠিত হয়।
ফৌজদারি মামলার বাস্তব সমস্যা নিয়ে আলোচনা
পরবর্তীতে চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. সেলিম রেজার সভাপতিত্বে উন্মুক্ত আলোচনা পর্ব অনুষ্ঠিত হয়।
এ পর্বে ফৌজদারি মামলা পরিচালনা ও নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে বিভিন্ন সময়ে গোচরীভূত বাস্তব সমস্যা, তদন্ত কার্যক্রম, ওয়ারেন্ট তামিল, জখমী সনদ প্রাপ্তি এবং বিচারিক কার্যক্রমের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সংশ্লিষ্ট সব দপ্তরের সমন্বিত উদ্যোগ ও পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে এসব সমস্যা নিরসনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
বিচার বিভাগ ও পুলিশের সমন্বয়ের ওপর গুরুত্ব
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ফরিদপুরের সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ মো. জিয়া হায়দার বিচারিক কার্যক্রম সুষ্ঠু ও দ্রুত নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে বিচার বিভাগ, পুলিশ, প্রসিকিউশন, চিকিৎসা বিভাগ এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য সরকারি দপ্তরের পারস্পরিক সহযোগিতা ও সমন্বয়ের গুরুত্ব তুলে ধরেন।
তিনি বিদ্যমান সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে তা নিরসনের লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট সবাইকে আন্তরিকভাবে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান। একই সঙ্গে এ বিষয়ে বিচার বিভাগের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস দেন তিনি।
কনফারেন্সে অংশগ্রহণকারী বিভিন্ন দপ্তরের প্রতিনিধিরাও তাঁদের নিজ নিজ ক্ষেত্রে বিদ্যমান সমস্যা ও বাস্তব অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। পারস্পরিক সমন্বয়ের মাধ্যমে এসব সমস্যা সমাধানের বিষয়ে তাঁরা বিভিন্ন মতামত প্রদান করেন।
এর মাধ্যমে ফৌজদারি বিচারব্যবস্থার কার্যকারিতা বৃদ্ধি, মামলার দ্রুত নিষ্পত্তি এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর মধ্যে আরও কার্যকর সমন্বয় প্রতিষ্ঠার বিষয়ে একটি ফলপ্রসূ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।
যাঁরা উপস্থিত ছিলেন
কনফারেন্সে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ফরিদপুরের পুলিশ সুপার, পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই), ফরিদপুরের কর্মকর্তারা, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, সিভিল সার্জনের প্রতিনিধি, ফরিদপুর মেডিকেল কলেজের উপপরিচালক, পাবলিক প্রসিকিউটর, ফরিদপুর জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক, জেল সুপার, ফরিদপুর, জেলার বিভিন্ন থানার অফিসার ইনচার্জ, সিআইডি ও ডিবির অফিসার ইনচার্জসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা।
পরিশেষে ফরিদপুরের চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. সেলিম রেজার সমাপনী বক্তব্যের মাধ্যমে পুলিশ–ম্যাজিস্ট্রেসি কনফারেন্সের কার্যক্রম সফলভাবে সমাপ্ত হয়।

