বিনা খরচে আইনি সেবা নিশ্চিতে অধিদপ্তর করার সুপারিশ

বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তিতে ২০ জেলায় মামলার জট কমেছে ৬২.০২ শতাংশ

দেশের আদালতগুলোতে দীর্ঘদিনের মামলাজট কমিয়ে দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি বা এডিআর ব্যবস্থাকে গুরুত্ব দিয়ে বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এরই অংশ হিসেবে ২০টি নির্ধারিত জেলায় মামলা দায়েরের আগে মধ্যস্থতা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এতে মাত্র ছয় মাসে ওই জেলাগুলোতে বিদ্যমান মামলার জট ৬২ দশমিক ০২ শতাংশ কমেছে।

বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. মঞ্জুরুল হোসেন জানান, ২০২৬ সালের মার্চ থেকে আগস্ট পর্যন্ত ছয় মাসে ২০টি প্রকল্প জেলায় মামলা দায়েরের আগে মধ্যস্থতা বাধ্যতামূলক করার ফলে বিদ্যমান মামলার জট ৬২ দশমিক ০২ শতাংশ কমেছে। এসব এলাকার মানুষ আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার আগে প্রথমে মধ্যস্থতার প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন। মধ্যস্থতার কার্যক্রম পরিচালনার জন্য প্রতিটি জেলায় চার থেকে পাঁচজন করে বিচারিক কর্মকর্তাকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

এই ছয় মাসে ২০টি প্রকল্প জেলায় মধ্যস্থতার জন্য মোট ২৮ হাজার ৯০৪টি আবেদন পেয়েছে বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড অধিদপ্তর। এর মধ্যে ২২ হাজার ১৫৬টি আবেদন সফলভাবে নিষ্পত্তি হয়েছে।

মামলার বিদ্যমান জট কমানোর পাশাপাশি বয়স, লিঙ্গ, সামাজিক অবস্থান বা আর্থিক সক্ষমতা নির্বিশেষে মানুষের দোরগোড়ায় ন্যায়বিচার পৌঁছে দিতে বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড অধিদপ্তর আরও বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে।

সমাজের ঝুঁকিপূর্ণ ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের কাছে আইনি সহায়তা পৌঁছে দিতে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় এবং মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে ত্রিপক্ষীয় চুক্তিও করেছে অধিদপ্তর।

এ ছাড়া অধিদপ্তর ওয়ান-স্টপ সেবা চালু করেছে এবং নয়টি জেলার ৩০০টির বেশি ইউনিয়নকে ডিজিটাল ব্যবস্থার আওতায় এনেছে। এর ফলে বিচারপ্রার্থীদের অভিযোগ জানাতে জেলা শহরে আসতে হবে না। তারা নিজ নিজ ইউনিয়ন ডিজিটাল কেন্দ্র থেকেই অভিযোগ দাখিল করতে পারবেন।

আরও পড়ুন : সাইবার অপরাধ মোকাবিলায় গঠিত হচ্ছে স্বতন্ত্র ‘সাইবার পুলিশ ইউনিট’

বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. মঞ্জুরুল হোসেন বলেন, ‘আমরা ওয়ান-স্টপ সেবা চালু করেছি। নয়টি জেলার ৩০০টির বেশি ইউনিয়নকে ডিজিটাল ব্যবস্থার আওতায় আনা হয়েছে। সেখানে বিচারপ্রার্থীদের অভিযোগ দায়েরের জন্য জেলা শহরে আসতে হবে না; তারা নিজ নিজ ইউনিয়ন ডিজিটাল কেন্দ্র থেকেই অভিযোগ দায়ের করতে পারবেন।’

প্রবাসীদের জন্যও অনলাইনে অভিযোগ দায়েরের ব্যবস্থা চালু করেছে অধিদপ্তর। বিশেষ করে প্রবাসীরা বিদেশে অবস্থান করায় সরাসরি অভিযোগ করতে পারেন না। তাদের অনেক সময় স্বামী-স্ত্রীর বিরোধের পাশাপাশি বাবা-মা, ভাই-বোনসহ পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে বিরোধের মুখোমুখি হতে হয়। এসব ক্ষেত্রে বিদেশ থেকেই যাতে তারা অভিযোগ জানাতে পারেন, সে জন্য অনলাইন অভিযোগ দাখিলের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

মধ্যস্থতা প্রক্রিয়া সম্পর্কে শিক্ষার্থীদের পরিচিত করানোর উদ্যোগও নিয়েছে বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড অধিদপ্তর। বর্তমানে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের মধ্যে মধ্যস্থতা প্রক্রিয়া সম্পর্কে সচেতনতা তৈরিতে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

এদিকে আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বিভিন্ন সময়ে বলেছেন, যেসব মামলা আপসযোগ্য, সেগুলো আইনি সহায়তার আওতায় মধ্যস্থতার মাধ্যমে দ্রুত নিষ্পত্তি করা উচিত।

আইনমন্ত্রী বলেন, সম্প্রতি মানিকগঞ্জের পরিসংখ্যান দেখে তিনি খুব খুশি হয়েছেন। সেখানে সহজে নিষ্পত্তিযোগ্য বিদ্যমান মামলার প্রায় ৫০ শতাংশ ইতোমধ্যে বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তির মাধ্যমে কমে এসেছে।

মামলার সংখ্যা কমাতে সরকারের নতুন পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী। তিনি বলেন, আগামী এক বছরের মধ্যে বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি এবং অন্যান্য কার্যকর পদক্ষেপের মাধ্যমে যেসব জেলা তাদের মামলার জট সবচেয়ে বেশি কমাতে পারবে, সেসব জেলাকে বিশেষ পুরস্কার দেওয়া হবে।