স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ

প্রধান বিচারপতির অবসরের বয়স ৬৭ থেকে কমিয়ে ৬৫ বছর করার প্রস্তাব দেবেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

বিচার বিভাগের স্বাধীনতা সুসংহত করতে সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে এ প্রস্তাব উত্থাপনের কথা জানালেন সালাহউদ্দিন আহমদ, ২০০১ সালে অবসরের বয়স বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েও স্মৃতিচারণ

প্রধান বিচারপতির অবসরের বয়সসীমা ৬৭ বছর থেকে কমিয়ে ৬৫ বছর করার প্রস্তাব দেবেন বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। বিচার বিভাগের স্বাধীনতা আরও সুসংহত করতে সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে এ প্রস্তাব উত্থাপন করা যেতে পারে বলে মনে করেন তিনি।

শনিবার (৭ নভেম্বর) রাতে রাজধানীর অফিসার্স ক্লাবে ‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস ২০২৬’ উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, প্রধান বিচারপতির অবসরের বয়স ৬৫ বছর নির্ধারণ করা হলে কেমন হয়, তা বিবেচনা করা যেতে পারে। ভবিষ্যতে তিনি নিজেই এ বিষয়ে প্রস্তাব দেবেন।

২০০১ সালে কেন বাড়ানো হয়েছিল অবসরের বয়স

বক্তব্যে প্রধান বিচারপতির অবসরের বয়সসীমা বাড়ানোর পেছনের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। এ প্রসঙ্গে তিনি ১৯৯৬ সালের একটি ঘটনার স্মৃতিচারণ করেন।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ১৯৯৬ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার গাড়িতে করে বঙ্গভবনে ক্ষমতা হস্তান্তর অনুষ্ঠানে গিয়েছিলেন তিনি। ২০০১ সালে বিএনপি সরকারের মেয়াদ শেষে সংবিধানের একটি অনুচ্ছেদ পরিবর্তনকে কেন্দ্র করে কিছুটা জটিলতা তৈরি হয়েছিল।

তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, একজনকে প্রধান উপদেষ্টা করার সুযোগ তৈরি করতে তৎকালীন সময়ে প্রধান বিচারপতির অবসরের বয়সসীমা ৬৫ বছর থেকে বাড়িয়ে ৬৭ বছর করা হয়েছিল।

তিনি বলেন, ইতিহাস একদিন এ সিদ্ধান্তের যথাযথ বিশ্লেষণ ও মূল্যায়ন করবে। তবে ব্যক্তিগতভাবে তিনি মনে করেন, প্রধান বিচারপতির অবসরের বয়সসীমা ৬৫ থেকে ৬৭ বছর না বাড়ানোই ভালো হতো।

অবসরের বয়স ৬৫ বছরে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়নি

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ওই সিদ্ধান্তের সুবিধা বিচার বিভাগ পেলেও পরবর্তী সময়ে অবসরের বয়সসীমা আবার ৬৫ বছরে ফিরিয়ে আনার দাবি ওঠেনি। ভবিষ্যতে তিনি নিজেই এ বিষয়ে প্রস্তাব দেবেন।

তিনি আরও বলেন, সব দায় শুধু বিএনপির ওপর চাপানো হয়। কিন্তু পরবর্তী সময়ে অন্যরাও চাইলে প্রধান বিচারপতির অবসরের বয়সসীমা ৬৫ বছরে ফিরিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ নিতে পারতেন।

পঞ্চম সংশোধনী প্রসঙ্গে যা বললেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

১৯৭৯ সালের পঞ্চম সংশোধনী প্রসঙ্গেও বক্তব্য দেন সালাহউদ্দিন আহমদ।

তিনি বলেন, বিচারপতি খায়রুল হক পঞ্চম সংশোধনীকে অসাংবিধানিক ঘোষণা করে বাতিল করেছিলেন। তবে ওই সংশোধনীর মাধ্যমে বিচার বিভাগের জন্য যেসব সুবিধা যুক্ত হয়েছিল, সেগুলোর কোনোটিই বাদ দেওয়া হয়নি। অবসরের বয়সসীমাসহ বিভিন্ন সুবিধা বহাল রাখা হয়েছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, অবসরের বয়সসীমা ৬৫ বছরে ফিরিয়ে আনার প্রস্তাব দেওয়া হলে বর্তমানে দায়িত্বে থাকা বিচারক এবং যেসব বিচারকের বিরুদ্ধে সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলের তদন্ত হয়নি, তাঁদের বিষয়টিও আলোচনায় আসবে।

বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে সংবিধান সংশোধনের প্রস্তাব

সালাহউদ্দিন আহমদের মতে, সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা আরও সুসংহত করা গেলে বর্তমান পরিস্থিতির পরিবর্তন সম্ভব। এ কারণে প্রধান বিচারপতির অবসরের বয়সসীমা ৬৭ বছর থেকে কমিয়ে ৬৫ বছর করার প্রস্তাব আনা প্রয়োজন বলে তিনি মনে করেন।