বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট। ছবি: জয়দীপ্তা দেব চৌধুরী
বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট। ছবি: জয়দীপ্তা দেব চৌধুরী

কাল থেকে ১৭ দিন বন্ধ থাকবে সুপ্রিম কোর্ট

সরকারী ও সাপ্তাহিক ছুটিসহ ১৭ দিনের জন্য অবকাশে যাচ্ছে সুপ্রিম কোর্ট। এসময় দেশের সর্বোচ্চ আদালতের উভয় (হাইকোর্ট ও আপিল) বিভাগের নিয়মিত বিচারিক কার্যক্রম বন্ধ থাকবে।

আগামীকাল ১৭ মার্চ থেকে অবকাশ চলবে ২ এপ্রিল পর্যন্ত। তবে এসময় মামলা সংক্রান্ত জরুরি বিষয়াদি শুনানি ও নিষ্পত্তির জন্য অবকাশকালীন বেঞ্চ গঠন করে দিয়েছেন প্রধান বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী।

হাইকোর্টে অবকাশকালীন ৬ বেঞ্চ ও বিচারিক এখতিয়ার

অবকাশে সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের বিচারকাজ পরিচালনার জন্য অবকাশকালীন ৬টি বেঞ্চ গঠন করা হয়েছে। আগামী ২০ মার্চ থেকে ৩১ মার্চ পর্যন্ত এসব বেঞ্চে হাইকোর্ট বিভাগের বিচারকাজ পরিচালিত হবে।

বিচারপতি কে এম কামরুল কাদের ও বিচারপতি খিজির হায়াত -এর সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চের এখতিয়ার

বিচারপতি কে এম কামরুল কাদের ও বিচারপতি খিজির হায়াত একত্রে ডিভিশন বেঞ্চে বসবেন। দ্বৈত বেঞ্চে গ্রহণযোগ্য অতীব জরুরি ফৌজদারি মোশন, ফৌজদারি আপিল মঞ্জুরীর আবেদন এবং এ সংক্রান্ত জামিনাবেদন, ফৌজদারি মঞ্জুরীকৃত আপিল ও এ সংক্রান্ত জামিনাবেদন, ফৌজদারি মঞ্জুরীকৃত আপিল ও সকল জেলা আপীলের মঞ্জুরীর আবেদন ও শুনানি; ফৌজদারি রিভিশন এবং ফৌজদারি বিবিধ মোকদ্দমাসমূহ; যেসব বিষয় এই বেঞ্চে স্থানান্তরিত হবে এবং উপরোল্লিখিত বিষয়াদি সংক্রান্ত রুল ও আবেদন গ্রহণ এবং শুনানি করবেন।

বিচারপতি আবু তাহের মো. সাইফুর রহমান এবং বিচারপতি মহি উদ্দিন শামীম -এর সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চের এখতিয়ার

বিচারপতি আবু তাহের মো. সাইফুর রহমান এবং বিচারপতি মহি উদ্দিন শামীম একত্রে ডিভিশন বেঞ্চে বসবেন। শুনানির জন্য অতীব জরুরি ভ্যাট, সম্পূরক শুল্ক, কাস্টমস ও ইনকাম ট্যাক্সসহ সকল প্রকার রিট মোশন ও এ সংক্রান্ত শুনানি; ২০০৯ সালের ট্রেডমার্ক আইনের অধীনে আপিল; ১৯৯১ সালের পেন্টেন্ট ও ডিজাইন আইনের ৫১(ক) এবং ২৬ (খ), (গ), (ঘ) ও (ঙ) ধারা মোতাবেক রিভিশন/আপিলসহ মূল্য সংযোজন কর আইন, ১৯৯১ -এর ধারা ৪২(১)(গ) ক্ষমতাবলে অ্যাপিলেট ট্রাইব্যুনাল কর্তৃক প্রদত্ত সিদ্ধান্ত বা আদেশের বিরুদ্ধে আপিল; আয়কর রেফারেন্স মোকদ্দমা ও আয়কর সংক্রান্ত রিট, কাস্টমস অ্যাক্ট, ১৯৬৯ -এর ধারা ১৯৬(ডি) অনুযায়ী আপিল শুনানি; হাইকোর্ট বিভাগ এবং এর অধীনস্থ আদালত সমূহের অবমাননার অভিযোগ গ্রহণ এবং উপরোল্লিখিত বিষয়াদি সংক্রান্ত রুল ও আবেদন গ্রহণ এবং শুনানি করবেন।

বিচারপতি মাহমুদুল হক ও বিচারপতি মো. রিয়াজ উদ্দিন খান -এর সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চের এখতিয়ার

বিচারপতি মাহমুদুল হক ও বিচারপতি মো. রিয়াজ উদ্দিন খান একত্রে ডিভিশন বেঞ্চে বসবেন। এই বেঞ্চে শুনানির জন্য গ্রহণযোগ্য অতীব জরুরি দেওয়ানি মোশন, শুনানির জন্য প্রথম আপিল, প্রথম আপিল (প্রবেট), প্রথম বিবিধ আপিল, প্রথম বিবিধ আপিল (প্রবেট); ছয় কোটি টাকার উর্ধ্বমানের প্রথম বিবিধ আপিল, ডিভিশন বেঞ্চে গ্রহণযোগ্য দেওয়ানি রুল ও রিভিশন মোকদ্দমা; হাইকোর্ট রুলস -এর ৯ অধ্যায়ের ৩৪ রুল অনুযায়ী শুনানির জন্য এবং ৬ কোটি টাকার উর্ধ্বমানের আপিল; ডিভিশন বেঞ্চে গ্রহণযোগ্য দেওয়ানি রুল ও দেওয়ানি রিভিশন মোকদ্দমা এবং এ সংক্রান্ত আবেদন থেকে উদ্ভূত সকল লয়াজিমা বিষয়; শালিশী আইন,২০০১ এর ৪৮ (ক), (খ), এবং (গ) ধারা মোতাবেক আপিল, দেউলিয়া বিষয়ক আপিল, ইউনিয়ন পরিষদ ও পৌরসভা (বিশেষ দায়িত্ব) অধ্যাদেশ, ১৯৯১ -এর অধীন আপিল; ডিভিশন বেঞ্চে গ্রহণযোগ্য দেওয়ানি কার্যবিধি আইনের ৪১ অর্ডারের ১১ রুল অনুযায়ী আপিলসমূহ এবং উপরোল্লিখিত বিষয়াদি সংক্রান্ত রুল ও আবেদন গ্রহণ এবং শুনানি করবেন।

উল্লেখ্য, ২০২১ সালের ১ ফেব্রুয়ারির পূর্বে দায়েরকৃত, স্থানান্তরিত বা চলমান সকল প্রকার মোকদ্দমা বা কার্যধারা এই বেঞ্চেই শুনানি ও নিষ্পত্তি হবে।

বিচারপতি খিজির আহমেদ চৌধুরীর একক বেঞ্চের এখতিয়ার

বিচারপতি খিজির আহমেদ চৌধুরী একক বেঞ্চে বসবেন। শুনানির জন্য অতীব জরুরি আদিম অধিক্ষেত্রাধীন বিষয়; সাকসেশন আইন, ১৯২৫ অনুযায়ী ইচ্ছাপত্র ও ইচ্ছাপত্র ছাড়া মৃত ব্যক্তির বিষয়বস্তুর অধিক্ষেত্র; বিবাহ বিচ্ছেন আইন, ১৮৬৯ অনুযায়ী মোকদ্দমা, প্রাইজ কোর্ট বিষয়সহ অ্যাডমিরেলটি কোর্ট আইন, ২০০০ অধিক্ষেত্রাধীন মোকদ্দমা; মার্চেন্ট শিপিং অর্ডিন্যান্স, ১৯৮৩ -এর অধীনে আবেদন; ট্রেডমার আইনের অধীন আবেদন; কোম্পানি আইনের আবেদন; ব্যাংক কোম্পানি আইন অনুযায়ী আবেদন, সালিশ আইন অনুযায়ী আপিল ও আবেদন; সহকারী জজ ব্যতীত অন্য বিচারকের ডিক্রি ও আদেশের বিরুদ্ধে অনূর্ধ্ব ৬ কোটি টাকা মানের এবং সহকারী জজের মান নিরপেক্ষ ডিক্রি ও আদেশের বিরুদ্ধে দেওয়ানি রিভিশন; যেসব বিষয় এই বেঞ্চে স্থানান্তরিত হবে এবং উপরোল্লিখিত বিষয়াদি সংক্রান্ত রুল ও আবেদন গ্রহণ এবং শুনানি করবেন।

উল্লেখ্য, ২০২১ সালের ১ ফেব্রুয়ারির পূর্বে দায়েরকৃত, স্থানান্তরিত বা চলমান সকল প্রকার মোকদ্দমা বা কার্যধারা এই বেঞ্চেই শুনানি ও নিষ্পত্তি হবে।

বিচারপতি শশাঙ্ক শেখর সরকারের একক বেঞ্চের এখতিয়ার

বিচারপতি শশাঙ্ক শেখর সরকার একক বেঞ্চে বসবেন। শুনানির জন্য সহকারী জজ ব্যতীত অন্য বিচারকের ডিক্রি ও আদেশের বিরুদ্ধে অনূর্ধ্ব ৬ কোটি টাকা মানের এবং সহকারী জজের মান নিরপেক্ষ আদেশ ও ডিক্রির বিরুদ্ধে অতীব জরুরি দেওয়ানি মোশন; দেওয়ানি কার্যবিধি আইনের ৪১ অর্ডারের ১১ রুল অনুযায়ী শুনানির জন্য অনূর্ধ্ব ৬ কোটি টাকা মানের আপিল; সহকারী জজ ব্যতীত অন্য বিচারকের আদেশ ডিক্রির বিরুদ্ধে অনূর্ধ্ব ৬ কোটি টাকা মানের এবং সহকারী জজের মান নিরপেক্ষ আদেশ ও ডিক্রির বিরুদ্ধে দেওয়ানি রুল ও দেওয়ানি রিভিশন মোকদ্দমা; অনূর্ধ্ব ৬ কোটি টাকা মানের আবেদন এবং একক বেঞ্চে গ্রহণ যোগ্য সকল লয়াজিমা বিষয় ও অনূর্ধ্ব ৬ কোটি টাকা মানের প্রথম বিবিধ আপিল, প্রথম বিবিধ আপিল (প্রবেট); গণপ্রতিনিধিত্ব অধ্যাদেশ মোতাবেক ‘নির্বাচনী’ আবেদন; যেসব বিষয় এই বেঞ্চে স্থানান্তরিত হবে এবং উপরোল্লিখিত বিষয়াদি সংক্রান্ত রুল ও আবেদন গ্রহণ এবং শুনানি করবেন।

বিচারপতি খোন্দকার দিলীরুজ্জামানের একক বেঞ্চের এখতিয়ার

বিচারপতি খোন্দকার দিলীরুজ্জামান একক বেঞ্চে বসবেন। শুনানির জন্য গ্রহণযোগ্য অতীব জরুরি ফৌজদারি মোশন; ফৌজদারি আপিল মঞ্জুরীর আবেদন এবং এ সংক্রান্ত জামিনাবেদন, ফৌজদারি মঞ্জুরীকৃত আপিল ও এ সংক্রান্ত জামিনাবেদন, ফৌজদারি রিভিশন ও রেফারেন্স মোকদ্দমা এবং একক বেঞ্চে গ্রহণযোগ্য দুর্নীতি দমন কমিশন আইনের অধীন দায়েকৃত মামলা, রায়, আদেশ হতে উদ্ভূত সকল প্রকাশের মোশন ও এ সংক্রান্ত শুনানি; যেসব বিষয় এই বেঞ্চে স্থানান্তরিত হবে এবং উপরোল্লিখিত বিষয়াদি সংক্রান্ত রুল ও আবেদন গ্রহণ করবেন।

অবকাশে হাইকোর্টের ১১ বেঞ্চে ডেথ রেফারেন্স মামলার শুনানি

অবকাশে সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে ডেথ রেফারেন্স এবং এর সঙ্গে সম্পর্কিত অন্যান্য মামলাসমূহ নিষ্পত্তিতে গঠিত ১১ বেঞ্চে মামলার সন ও নাম্বার অনুযায়ী বণ্টন করে দেওয়া হয়েছে।

এসব বেঞ্চ মামলার সন ও নম্বরের ধারাবাহিকতা অনুসরণ করে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে মৃত্যুদণ্ডাদেশ করফারমেশনের রেফারেন্স এবং একই রায় থেকে উদ্ভূত সকল ফৌজদারি আপিল ও জেল আপিল এবং রায় থেকে উদ্ভূত ফৌজদারি আপিল ও জেল আপিল মঞ্জুরীর আবেদন ও ফৌজদারি বিবিধ যদি থাকে এবং উল্লেখিত বিষয়াদি সংক্রান্ত রুল ও আবেদন গ্রহণ ও শুনানি করবেন।

মামলার সন ও নাম্বার অনুযায়ী বণ্টন

বিচারপতি সৈয়দ জিয়াউল করিম এবং বিচারপতি সরদার মো. রাশেদ জাহাঙ্গীরের সমন্বয়ে গঠিত অবকাশকালীন হাইকোর্ট বেঞ্চে ডেথ রেফারেন্স সংক্রান্ত ২০১৬ সালের ৩৮ ৬০, ৬১, ৬২ ও ৬৪ নম্বর মামলার শুনানি অনুষ্ঠিত হবে।

বিচারপতি এস. এম. এমদাদুল হক এবং বিচারপতি কে এম জাহিদ সারওয়ারের ডিভিশন বেঞ্চে ডেথ রেফারেন্স সংক্রান্ত ২০১৬ সালের ৮০, ৮১, ৮২, ৮৩ ও ৮৪ নম্বর মামলার শুনানি অনুষ্ঠিত হবে।

বিচারপতি মো. রেজাউল হাসান এবং বিচারপতি কাজী ইবাদাত হোসেনের ডিভিশনের দ্বৈত বেঞ্চে ডেথ রেফারেন্স সংক্রান্ত ২০১৬ সালের ৮৫, ৮৬, ৮৭ ও ৮৮ নম্বর মামলার শুনানি হবে।

বিচারপতি শেখ মো. জাকির হোসেন এবং বিচারপতি মো. জাকির হোসেনের ডিভিশন বেঞ্চে ডেথ রেফারেন্স সংক্রান্ত ২০১৬ সালের ৮৯, ৯০, ৯১, ৯২ ও ৯৩ নম্বর মামলার শুনানি হবে।

বিচারপতি হাবিবুল গণি এবং মো. খায়রুল আলমের ডিভিশন বেঞ্চে ডেথ রেফারেন্স সংক্রান্ত ২০১৬ সালের ৯৪, ৯৫, ৯৬ ও ৯৭ নম্বর মামলার শুনানি হবে।

বিচারপতি মোস্তফা জামান ইসলাম এবং বিচারপতি আহমেদ সোহেলের ডিভিশন বেঞ্চে ডেথ রেফারেন্স সংক্রান্ত ২০১৬ সালের ৯৮, ৯৯, ১০০, ১০১ ও ১০২ নম্বর মামলার শুনানি হবে।

বিচারপতি মোহাম্মদ উল্লাহ এবং বিচারপপিত মো. আতোয়ার রহমানের ডিভিশন বেঞ্চে ডেথ রেফারেন্স সংক্রান্ত ২০১৬ সালের ১০৩, ১০৪, ১০৫ ও ১০৬ নম্বর মামলার শুনানি হবে।

বিচারপতি মো. ইকবাল কবির এবং মো. কামরুল হোসেন মোল্লার ডিভিশন বেঞ্চ ডেথ রেফারেন্স সংক্রান্ত ২০১৬ সালের ১০৭, ১০৮, ১০৯, ১১০ ও ১১১ নম্বর মামলার শুনানি গ্রহণ করবেন।

বিচারপতি এএসএম আব্দুল মোবিন এবং বিচারপতি এস এম মনিরুজ্জামানের ডিভিশন বেঞ্চ শুনানি গ্রহণ করবেন ডেথ রেফারেন্স সংক্রান্ত ২০১৬ সালের ১১২, ১১৩, ১১৪, ১১৫, ১১৬ নম্বর মামলার।

বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমান এবং বিচারপতি মুহাম্মদ মাহবুব-উল-ইসলামের ডিভিশন বেঞ্চে শুনানি অনুষ্ঠিত হবে ডেথ রেফারেন্স সংক্রান্ত ২০১৬ সালের১১৭, ১১৮, ১১৯, ১২০ ও ১২১ নম্বর মামলার।

বিচারপতি এসএম কুদ্দুস জামান এবং বিচারপতি মোহাম্মদ আলীর ডিভিশন বেঞ্চ ডেথ রেফারেন্স সংক্রান্ত ২০১৬ সালের ১২২, ১২৩, ১২৪, ১২৫ ও ১২৬ নম্বর মামলার শুনানি গ্রহণ করবেন।

অবকাশকালীন চেম্বার জজ বিচারপতি ইনায়েতুর রহিম

আগামী ২০ মার্চ থেকে ৩১ মার্চ পর্যন্ত সাপ্তাহিক ও সরকার ঘোষিত ছুটিসহ কোর্টের অবকাশকালে প্রধান বিচারপতি আপিল বিভাগের মামলা সংক্রান্ত জরুরি বিষয়াদি নিষ্পত্তির জন্য বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিমকে ভ্যাকেশন জজ (Vacation Judge) মনোনীত করেছেন।

বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিম আগামী ২২ মার্চ এবং ২৯ মার্চ ভ্যাকেশন জজ হিসেবে সকাল ১১টা থেকে শারীরিক উপস্থিতির মাধ্যমে আপিল বিভাগের চেম্বার কোর্টে শুনানি গ্রহণ করবেন।

উল্লেখ্য, অবকাশ শেষে আগামী ৩ এপ্রিল সুপ্রিম কোর্ট খুলবে। সেদিন থেকে সর্বোচ্চ আদালতের উভয় বিভাগ তথা হাইকোর্ট ও আপিল বিভাগে যথারীতি নিয়মিত বিচারিক কার্যক্রম পরিচালিত হবে।