কোর্ট রিপোর্টার, ঢাকা | বাংলাদেশের সর্বোচ্চ আইন কর্মকর্তা বা অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ পদ ‘ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল’ (DAG) থেকে ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে পদত্যাগ করেছেন অ্যাডভোকেট মো. বদিউজ্জামান তপাদার। ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ঐতিহাসিক ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের বিশেষ নিয়োগে এই পদে যুক্ত হয়েছিলেন তিনি।
আজ সোমবার (২২ জুন) মহামান্য রাষ্ট্রপতি বরাবর প্রেরিত এক অফিশিয়াল চিঠির মাধ্যমে তিনি তাঁর এই পদত্যাগপত্র দাখিল করেন।
পদত্যাগপত্রে সাবেক এই ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. বদিউজ্জামান তপাদার তাঁর দায়িত্ব পাওয়ার মুহূর্ত এবং সুপারিশকারীদের স্মরণ করে আবেগঘন বার্তা দিয়েছেন। চিঠিতে তিনি উল্লেখ করেন:
২০২৪ এর জুলাই-আগস্ট অভ্যুত্থানের পর আগস্ট, ২০২৪ মাসে আমাকে বাংলাদেশের একজন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে নিয়োগ প্রদান করেন। আমাকে নিয়োগ দেওয়ায়, আমার নাম প্রস্তাব ও সুপারিশকারীদের প্রতি হৃদয় নিংড়ানো কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি এবং নিজেকে সম্মানিত মনে করছি। ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে যোগদানের পর থেকে আমি শ্রদ্ধা, সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে আমার ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালনের জন্য সচেষ্ট ছিলাম। বর্তমানে আমার ব্যক্তিগত বিশেষ অসুবিধার কারণে বাংলাদেশের ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেলের পদত্যাগপত্র দাখিল করলাম।
সুপ্রিম কোর্ট ও অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ের প্রথা অনুযায়ী, যেকোনো ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেলের নিয়োগ ও পদত্যাগ সরাসরি মহামান্য রাষ্ট্রপতির কার্যালয় এবং আইন মন্ত্রণালয়ের সলিসিটর অনুবিভাগের মাধ্যমে কার্যকর করা হয়। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর রাষ্ট্রপক্ষে উচ্চ আদালতে আইনি লড়াই জোরদার করতে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. বদিউজ্জামান তপাদারকে এই গুরুদায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। প্রায় দুই বছর অত্যন্ত সততা ও নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালনের পর তিনি আজ স্বেচ্ছায় পদ থেকে সরে দাঁড়ালেন।
সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবীরা মনে করছেন, রাষ্ট্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ আইনি পদ থেকে তাঁর এই বিদায় সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তের অংশ। পদত্যাগের আনুষ্ঠানিকতা শেষে তিনি পুনরায় সুপ্রিম কোর্টের বারে একজন আইনজীবী হিসেবে তাঁর নিয়মিত ব্যক্তিপ্র্যাকটিসে লিপ্ত হবেন।

