জুলাই আন্দোলনের সময় যুবদল কর্মী হত্যা এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকার সংক্রান্ত রায় জালিয়াতিসহ চার মামলায় জামিন দেওয়ার সময় হাইকোর্ট বলেছেন, বয়স বিবেচনায় ৮১ বছর বয়সী সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হক-কে জামিন দেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট-এর হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি মো. খায়রুল আলম ও বিচারপতি মো. সগীর হোসেন-এর বেঞ্চ জামিনের রায়ে এ পর্যবেক্ষণ দেন।
রোববার (১৫ মার্চ) সাত পৃষ্ঠার রায় সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে।
পর্যবেক্ষণে হাইকোর্ট বলেন, মামলার ঘটনা ও পরিস্থিতি বিবেচনায়, বিশেষ করে আটক থাকার দীর্ঘ সময়, ঘটনার সাথে আবেদনকারীর কোনো প্রত্যক্ষ ও স্পষ্ট সম্পৃক্ততার প্রমাণ না থাকা, আবেদনকারীর বার্ধক্য ও শারীরিক অবস্থার বিষয়টি, এবং আপিল বিভাগের নির্ধারিত নীতিমালা বিবেচনা করে আমরা মনে করি যে, আবেদনকারী জামিন পাওয়ার জন্য একটি গ্রহণযোগ্য ভিত্তি উপস্থাপন করতে সক্ষম হয়েছেন।
এর আগে গত ৪ মার্চ চার মামলায় সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হককে জামিন দেন হাইকোর্ট। একই বেঞ্চ ওই আদেশ দেন।
গত বছরের ২৪ জুলাই রাজধানীর ধানমন্ডির বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে জুলাই আন্দোলনের সময় ঢাকার যাত্রাবাড়ীতে যুবদল কর্মী আবদুল কাইয়ুম আহাদ হত্যা মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
এ মামলার পাশাপাশি খায়রুল হকের বিরুদ্ধে আরও চারটি মামলা দায়ের করা হয়। এর মধ্যে তত্ত্বাবধায়ক সরকার সংক্রান্ত রায় জালিয়াতির অভিযোগে গত ২৭ আগস্ট শাহবাগ থানায় মামলা করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মুজাহিদুল ইসলাম শাহীন।
আরও পড়ুন : এখনই মুক্তি মিলছে না সাবেক প্রধান বিচারপতি খায়রুল হকের
এর আগে ২৫ আগস্ট নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থানায় একই অভিযোগে মামলা করেন জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি ও ফতুল্লা থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল বারী ভুঁইয়া। একই অভিযোগে নারায়ণগঞ্জের বন্দর থানায় ২৫ আগস্ট আরেকটি মামলা করেন নুরুল ইসলাম মোল্লা।
এছাড়া গত ৪ আগস্ট প্লট জালিয়াতি ও দুর্নীতির অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) একটি মামলা দায়ের করে।
এসব মামলায় নিম্ন আদালতে জামিন নামঞ্জুর হওয়ার পর খায়রুল হক হাইকোর্টে জামিন চেয়ে আবেদন করেন। পরে হাইকোর্ট পাঁচ মামলায় জামিন প্রশ্নে রুল জারি করেন।
এরপর গত ১১ মার্চ বিধিবহির্ভূতভাবে রাজউকের প্লট গ্রহণের অভিযোগে দুদকের করা মামলায়ও তাকে জামিন দেন হাইকোর্ট।
এ মামলায় হাইকোর্টের বিচারপতি শেখ মো. জাকির হোসেন ও বিচারপতি মো. জাকির হোসেন-এর বেঞ্চ আদেশ দেন।
আদালতে খায়রুল হকের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মনসুরুল হক চৌধুরী, অ্যাডভোকেট মোতাহার হোসেন সাজু এবং ব্যারিস্টার মোস্তাফিজুর রহমান খান।
গত বছরের আগস্টে বিধিবহির্ভূতভাবে রাজউকের প্লট গ্রহণের অভিযোগে সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হকের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে দুদক। মামলায় তাকে সহ মোট আটজনকে আসামি করা হয়।
অন্য আসামিরা হলেন রাজউকের সাবেক চেয়ারম্যান মো. নুরুল হুদা, সাবেক সদস্য (অর্থ) ও সদস্য (এস্টেট) আ ই ম গোলাম কিবরিয়া, সাবেক সদস্য (অর্থ) মো. আবু বক্কার সিকদার, সাবেক সদস্য (পরিকল্পনা) মো. আনোয়ারুল ইসলাম সিকদার, সাবেক সদস্য (এস্টেট) আখতার হোসেন ভুইয়া, সাবেক যুগ্মসচিব ও সদস্য (উন্নয়ন) এম মাহবুবুল আলম এবং সদস্য (প্রশাসন ও ভূমি) নাজমুল হাই।
তবে যাত্রাবাড়ী থানার আরও একটি মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হওয়ায় তিনি আপাতত মুক্তি পাচ্ছেন না।

