বিচারকাজে সরকারি ফির অতিরিক্ত টাকা লেনদেন করলে আইনজীবীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা
জেলা আইনজীবী সমিতি, কক্সবাজার

টাউট-দালাল দমনে কঠোর কক্সবাজার আইনজীবী সমিতি, নির্দেশনা জারি

কক্সবাজার জেলা আইনজীবী সমিতি আদালত প্রাঙ্গনে টাউট, দালাল ও তদবিরবাজদের দৌরাত্ম্য বন্ধে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের ঘোষণা দিয়েছে। এ লক্ষ্যে আইনজীবী, এডভোকেট ক্লার্ক এবং সর্বসাধারণের জন্য একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে।

সমিতির বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট-এর হাইকোর্ট বিভাগের ২০ আগস্ট ২০২০ তারিখে রিট পিটিশন নং ২৩০৫/২০২০ এর আদেশ অনুযায়ী দেশের সব আইনজীবী সমিতিকে টাউট, দালাল, তদবিরবাজ এবং ভুয়া মামলা গ্রহণকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, দীর্ঘদিন ধরে কিছু ব্যক্তি আইনজীবীর পরিচয় ব্যবহার করে বা আইনজীবী সহকারী/মহুরী পরিচয়ে মক্কেলের কাছ থেকে মামলা গ্রহণ করে বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাৎ করে পালিয়ে যাচ্ছে। এতে আইন পেশার মর্যাদা ক্ষুণ্ন হচ্ছে এবং বিচারপ্রার্থী জনগণ প্রতারণার শিকার হচ্ছে।

এ ধরনের কার্যক্রম The Bangladesh Legal Practitioners and Bar Council Order, 1972-এর ৪১ অনুচ্ছেদের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন এবং এর জন্য সর্বোচ্চ ৬ মাসের কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে বলেও বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।

গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনাসমূহ

বিজ্ঞপ্তিতে আদালত প্রাঙ্গনে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে একাধিক নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, যেমন:

  • ওকালতনামা শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট আইনজীবীর মাধ্যমে গ্রহণ ও দাখিল করতে হবে। আইনজীবীর স্বাক্ষর ছাড়া কোনো ওকালতনামা গ্রহণযোগ্য হবে না।
  • আদালত এলাকায় টাউট ও দালালদের প্রবেশ ও কার্যক্রম কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হবে।
  • কোর্ট ড্রেস, নিবন্ধন নম্বর ও পরিচয়পত্র ছাড়া কোনো এডভোকেট ক্লার্ক আদালতে তদবির করতে পারবেন না।
  • স্ট্যাম্প ভেন্ডার বা দোকানে ওকালতনামা ক্রয়-বিক্রয় সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
  • আদালতের রেকর্ড শুধুমাত্র আইনজীবীরা আদালতের অনুমতি সাপেক্ষে পরিদর্শন করতে পারবেন।
  • নতুন মামলা দায়েরের সময় অ্যাডভোকেট ক্লার্ক বা সংশ্লিষ্ট আইনজীবীর উপস্থিতি বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
  • হাজতী আসামীর ক্ষেত্রে ওকালতনামা গ্রহণে অভিভাবকের স্বাক্ষর ও জাতীয় পরিচয়পত্র দাখিল বাধ্যতামূলক।
  • ওকালতনামায় নির্বাহী কমিটির সদস্যদের অনুমোদন নেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
  • কোর্ট হাজতে টাউট ও দালালদের উপস্থিতি সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ আবদুল মন্নান এবং সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ আখতার উদ্দিন হেলালী স্বাক্ষরিত এ বিজ্ঞপ্তিতে সকল সংশ্লিষ্ট পক্ষকে নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, আদালত প্রাঙ্গনে টাউট ও দালালদের দৌরাত্ম্য উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে, যার ফলে বিচারপ্রার্থীরা প্রতিনিয়ত প্রতারণার শিকার হচ্ছেন। এ পরিস্থিতি মোকাবেলায় জরুরি ভিত্তিতে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

আইনজীবী সমিতি আশা প্রকাশ করেছে, সংশ্লিষ্ট সকলের সহযোগিতায় আদালত প্রাঙ্গনে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে এবং আইন পেশার মর্যাদা পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হবে।