দেশজুড়ে সরকারি সড়কে অবৈধভাবে গেট নির্মাণ এবং ব্যক্তি স্বার্থে যত্রতত্র স্পিড ব্রেকার স্থাপনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব বরাবর একটি লিখিত আবেদন দেওয়া হয়েছে।
গতকাল বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট-এর আইনজীবী মো. আছাদুজ্জামান এই আবেদনটি দাখিল করেন।
আবেদনে বলা হয়, ঢাকা শহরসহ দেশের বিভিন্ন জেলা শহর ও সিটি কর্পোরেশন এলাকায় বিভিন্ন সোসাইটি, সংগঠন ও সমিতি নিরাপত্তার অজুহাতে সরকারি সড়কে স্থায়ী ও অস্থায়ী গেট নির্মাণ করেছে।
একই সঙ্গে কিছু ব্যক্তি নিজস্ব স্বার্থে রাস্তায় স্পিড ব্রেকার স্থাপন করছে।
এতে সাধারণ জনগণের চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
আবেদনে যেসব সমস্যার কথা তুলে ধরা হয়েছে—
- চলাচলে বাধা: অনেক গেট নির্দিষ্ট সময় বা সারাদিন বন্ধ রাখা হয়, ফলে নাগরিকদের স্বাভাবিক যাতায়াত বাধাগ্রস্ত হচ্ছে
- জরুরি সেবা ব্যাহত: ফায়ার সার্ভিস, অ্যাম্বুলেন্স ও পুলিশের গাড়ি সময়মতো পৌঁছাতে পারছে না
- আইন লঙ্ঘন: অনুমোদন ছাড়া সরকারি সড়কে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করা আইনত দণ্ডনীয়
- হয়রানি: গেটে দায়িত্বরত প্রহরীদের অসৌজন্যমূলক আচরণের অভিযোগ রয়েছে
আবেদনে উল্লেখ করা হয়, নিরাপত্তার প্রয়োজন থাকলেও তা কোনোভাবেই জনগণের চলাচল ব্যাহত করে বাস্তবায়ন করা উচিত নয়।
আবেদনে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে বিষয়টি তদন্ত করে—
- অবৈধভাবে নির্মিত গেট অপসারণ
- অননুমোদিত স্পিড ব্রেকার তুলে ফেলা
- জনসাধারণের স্বাভাবিক চলাচল নিশ্চিত করা
—এসব বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
আবেদনটির অনুলিপি দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরে পাঠানো হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে—
- স্থানীয় সরকার বিভাগ
- বাংলাদেশ পুলিশ (আইজিপি)
- ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন
- ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন
- চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন
- রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন
- খুলনা সিটি কর্পোরেশন
- সিলেট সিটি কর্পোরেশন
- বরিশাল সিটি কর্পোরেশন
- রংপুর সিটি কর্পোরেশন
- কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশন
- নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন
- গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন
- ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশন
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের অবৈধ স্থাপনা শুধু জনদুর্ভোগই বাড়ায় না, বরং জরুরি সেবা ব্যাহত করে জননিরাপত্তার জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করে। ফলে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

