সুপ্রিম কোর্ট বার নির্বাচন
সুপ্রিম কোর্ট বার নির্বাচন

সুপ্রিম কোর্ট বার নির্বাচন: শেষ দিনের ভোটগ্রহণ চলছে

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা | সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির ২০২৬-২৭ সেশনের দুই দিনব্যাপী নির্বাচনের শেষ দিনের ভোটগ্রহণ আজ বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত হচ্ছে। সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির অডিটোরিয়ামে সকাল ১০টায় ভোটগ্রহণ শুরু হয়, যা দুপুর ১টা থেকে ২টা পর্যন্ত এক ঘণ্টার বিরতি দিয়ে বিকেল ৫টা পর্যন্ত চলবে।

নির্বাচন উপকমিটি সূত্রে জানা গেছে, প্রথম দিনের ভোটগ্রহণে মোট ১ হাজার ৭৭টি ভোট সংগৃহীত হয়েছে। সমিতির ১৪টি পদের বিপরীতে এবার মোট ৪০ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। ১১ হাজার ৯৭ জন আইনজীবী ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পাচ্ছেন। হাইকোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি মিফতাহ উদ্দিন চৌধুরীর নেতৃত্বে গঠিত উপকমিটি অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে এই নির্বাচন পরিচালনা করছেন।

আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর প্রায় দুই বছর পর অনুষ্ঠিত হওয়া এই নির্বাচনে মূলত তিনটি প্যানেল সক্রিয় রয়েছে:

  • জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ঐক্য প্যানেল (বিএনপি সমর্থিত): সরকার সমর্থক এই প্যানেলের নেতৃত্বে রয়েছেন সভাপতি প্রার্থী ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন ও সম্পাদক প্রার্থী মোহাম্মদ আলী।

  • আইনজীবী ঐক্য প্যানেল (জামায়াত সমর্থিত): বিরোধী দল সমর্থক এই প্যানেলের সভাপতি পদে আবদুল বাতেন ও সম্পাদক পদে এ কে এম রেজাউল করিম খন্দকার প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

  • লাল-সবুজ প্যানেল (এনসিপি সমর্থিত): এই প্যানেল থেকে আংশিক প্রার্থী দেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে সম্পাদক পদে লড়ছেন আজমল হোসেন বাচ্চু।

এছাড়া প্যানেলের বাইরে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে সভাপতি পদে ইউনুছ আলী আকন্দ এবং সম্পাদক পদে ফরহাদ উদ্দিন ভুইয়াসহ আরও কয়েকজন আইনজীবী ভোটের লড়াইয়ে আছেন।

এবারের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সমর্থক আইনজীবীরা মনোনয়ন জমা দিলেও যাচাই-বাছাইয়ে তাঁদের কারোরই মনোনয়ন টেকেনি। জুলাই গণঅভ্যুত্থানকারীদের আবেদন ও সাধারণ আইনজীবীদের আপত্তির মুখে তাঁদের প্রার্থিতা বাতিল করা হয়েছে বলে নির্বাচন সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। তবে আওয়ামী লীগ সমর্থক আইনজীবীরা একে অসাংবিধানিক ও গঠনতন্ত্র বিরোধী আখ্যা দিয়ে সাধারণ আইনজীবীদের ভোট বর্জনের আহ্বান জানিয়েছেন।

আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থীরা না থাকায় এবারের নির্বাচনে মূলত লড়াই হচ্ছে বিএনপি ও জামায়াত সমর্থিত প্যানেলগুলোর মধ্যে। আজ ভোটগ্রহণ শেষে রাতেই ব্যালট গণনার প্রস্তুতি গ্রহণ করবে নির্বাচন উপকমিটি।