সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হককে নতুন কোনো মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো বা আইনি হয়রানি না করার নির্দেশনা চেয়ে দায়ের করা রিট আবেদনের শুনানি অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার (১৪ মে) বিচারপতি রাজিক-আল-জলিল এবং বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরীর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চে এই আবেদনের ওপর শুনানি অনুষ্ঠিত হয়।
শুনানিতে সরকারের পক্ষ থেকে সময় প্রার্থনা করা হলে আদালত বিষয়টির পরবর্তী শুনানির জন্য আগামী রোববার দুপুর ২টায় দিন নির্ধারণ করেন।
আদালতে বিচারপতি খায়রুল হকের পক্ষে শুনানি করেন সিনিয়র অ্যাডভোকেট মোতাহার হোসেন সাজু।
এর আগে সাবেক প্রধান বিচারপতি এবিএম খায়রুল হকের ছেলে কর্তৃক দায়ের করা রিট আবেদনে ‘শোন অ্যারেস্ট’কে স্বেচ্ছাচারী ও অসৎ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত (Malafide) দাবি করে চ্যালেঞ্জ জানানো হয়েছে।
বুধবার (১৩ মে) সুপ্রিম কোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় অ্যাডভোকেট মোনায়েম নবী শাহীন এই রিটটি দায়ের করেন।
দায়েরকৃত রিট আবেদনে মূলত দুটি বিষয়ে আদালতের নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে। প্রথমত, প্রাথমিক তথ্য বিবরণীতে (এফআইআর) নাম না থাকা সত্ত্বেও বিচারপতি খায়রুল হককে একের পর এক মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো কেন অবৈধ ও বেআইনি ঘোষণা করা হবে না, সেই মর্মে রুল জারির আর্জি জানানো হয়েছে। দ্বিতীয়ত, বর্তমানে যেসব মামলায় তিনি বিচারাধীন বা জামিন প্রক্রিয়ায় রয়েছেন, সেই অবস্থায় তাঁকে অন্য কোনো নতুন মামলায় গ্রেপ্তার না দেখানোর জন্য প্রয়োজনীয় নির্দেশনা বা নিষেধাজ্ঞা চাওয়া হয়েছে।
গত ১২ মে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত দুটি পৃথক হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় বিচারপতি খায়রুল হক হাইকোর্ট থেকে জামিন লাভ করেন। ওই দিন আদেশের পর তাঁর আইনজীবীরা জানিয়েছিলেন যে, তাঁর বিরুদ্ধে থাকা সকল মামলায় জামিন নিশ্চিত হওয়ায় বর্তমানে তাঁর কারামুক্তিতে আর কোনো আইনি বাধা নেই। তবে এই জামিন আদেশের পর পরই রাষ্ট্রপক্ষ সক্রিয় হয়ে ওঠে এবং সেই আদেশ স্থগিত চেয়ে বুধবারই আপিল বিভাগে আবেদন দাখিল করেছে।
আরও পড়ুন : চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির বার্ষিক ভোজ অনুষ্ঠিত
বিচারপতি খায়রুল হকের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার সংখ্যা এবং গ্রেপ্তারের ধারাবাহিকতা অত্যন্ত জটিল। গত বছরের ২৪ জুলাই রাজধানীর ধানমন্ডির বাসা থেকে পুলিশ তাঁকে প্রথম গ্রেপ্তার করে। শুরুতে তাঁকে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় যাত্রাবাড়ীতে যুবদলকর্মী আবদুল কাইয়ুম আহাদ হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। বর্তমানে তাঁর বিরুদ্ধে মোট সাতটি মামলা রয়েছে।
এর আগে গত ২৮ এপ্রিল জুলাই আন্দোলনের সময় যুবদলকর্মী হত্যা, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের রায় জালিয়াতি এবং দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়ের করা পাঁচটি মামলায় বিচারপতি খায়রুল হকের জামিন বহাল রেখেছিলেন আপিল বিভাগ। প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগ রাষ্ট্রপক্ষের করা স্থগিতাদেশের আবেদন খারিজ করে দিলে হাইকোর্টের দেওয়া জামিন বহাল থাকে।
তদন্ত ও আদালতের নথিপত্র অনুযায়ী, গত ৮ মার্চ বিচারপতি মো. খায়রুল আলম ও বিচারপতি মো. সগীর হোসেনের হাইকোর্ট বেঞ্চ চারটি মামলায় তাঁর জামিন মঞ্জুর করেছিলেন। এরপর ১১ মার্চ দুদকের মামলায়ও তিনি জামিন পান। রাষ্ট্রপক্ষ এই জামিনগুলোর বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে গেলেও আদালত তাঁদের আবেদন খারিজ করে দেন। কিন্তু এরপরই নাটকীয়ভাবে যাত্রাবাড়ী থানায় ‘আরিফ হত্যা’ এবং আদাবর থানায় ‘রুবেল হত্যা’ মামলায় তাঁকে নতুন করে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। নিম্ন আদালতে জামিন না পাওয়ায় তিনি পুনরায় হাইকোর্টে আবেদন করেন এবং গত ১২ মে সেই মামলাগুলোতেও জামিন পান।
একের পর এক নতুন মামলায় তাঁকে জড়িয়ে গ্রেপ্তার দেখানোর এই প্রক্রিয়াকে ‘উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হয়রানি’ দাবি করে এই রিট আবেদনটি করা হয়েছে। হাইকোর্ট বেঞ্চে শুনানির পর এই বিষয়ে আদালতের পরবর্তী অবস্থান জানা যাবে।

