কোর্ট রিপোর্টার, ঢাকা | একটি চাঞ্চল্যকর ধর্ষণ ও হত্যা মামলার বিচারিক প্রক্রিয়া দীর্ঘ ৫ বছরেও শেষ না হওয়ায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন উচ্চ আদালত। বিচারিক এই দীর্ঘসূত্রতার কারণে বিচার ব্যবস্থার ওপর বিরূপ প্রভাব পড়ছে উল্লেখ করে হবিগঞ্জের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারককে তলব করেছেন হাইকোর্ট।
বিচারিক আদালতে মামলা নিষ্পত্তিতে দীর্ঘসূত্রতার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন উচ্চ আদালত। ২০২১ সালে দায়ের হওয়া একটি মামলার বিচার বিগত ৫ বছরেও শেষ করতে না পারার সুনির্দিষ্ট কারণ ব্যাখ্যা করতে হবিগঞ্জের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) সৈয়দা মিনহাজ উম মুনীরাকে তলব করা হয়েছে। আগামী ২৩শে জুন, ২০২৬ তারিখে তাঁকে সশরীরে হাইকোর্ট বেঞ্চে হাজির হয়ে এই বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আজ মঙ্গলবার (৯ জুন) বিচারপতি কে এম ইমরুল কায়েশ এবং বিচারপতি সগীর হোসেনের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এই আদেশ প্রদান করেন।
আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০২১ সালে হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ থানায় দায়েরকৃত একটি জঘন্য ধর্ষণের পর হত্যা মামলার অন্যতম আসামি গোলাম হোসেনের জামিন আবেদন আজ হাইকোর্টে শুনানির জন্য ওঠে। জামিন শুনানিকালে মামলার নথিপত্র (কেস ডকেট) পর্যালোচনা করতে গিয়ে বিচারপতিদের নজরে আসে যে, ৫ বছর পেরিয়ে গেলেও নিম্ন আদালতে মামলাটির বিচারিক প্রক্রিয়া এখনো শেষ হয়নি।
আরও পড়ুন : স্বাধীন বিচার বিভাগীয় সচিবালয় প্রতিষ্ঠার হাইকোর্টের রায় স্থগিত: আপিল শুনানি ১৬ জুন
দীর্ঘ সময় ধরে একটি সংবেদনশীল মামলার বিচার ঝুলে থাকায় চরম অসন্তোষ প্রকাশ করে আদালত আসামির জামিন আবেদনের শুনানির মাঝেই স্ব-প্রণোদিতভাবে ট্রাইব্যুনাল বিচারককে তলবের এই আদেশ দেন।
আজ আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে অংশ নেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মহসীন কবির রকি, সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল জসিম উদ্দিন এবং সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল আলী রেজা মো. আমীর।
শুনানি শেষে রাষ্ট্রপক্ষের আইন কর্মকর্তা ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মহসীন কবির রকি গণমাধ্যমকে আদেশের সত্যতা নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, আদালত শুনানির সময় মামলার দীর্ঘসূত্রতা নিয়ে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও কঠোর মন্তব্য করেছেন। বিজ্ঞ হাইকোর্ট বেঞ্চ উষ্মা প্রকাশ করে বলেন:
নির্ধারিত সময়ে ধর্ষণের পর হত্যা মামলার বিচার সম্পন্ন না হওয়ায় অপরাধীরা পার পেয়ে যাওয়ার বা সাহস পাওয়ার সুযোগ পাচ্ছে। আর এই বিচারহীনতার সংস্কৃতির কারণেই সমাজে রামিসা হত্যা ও ধর্ষণের মতো জঘন্য ও নৃশংস ঘটনাগুলো একের পর এক ঘটেই চলেছে।
উচ্চ আদালতের এই আদেশের ফলে দেশের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালগুলোতে ঝুলে থাকা স্পর্শকাতর মামলাগুলো দ্রুত নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে বিচারকদের ওপর একটি মনস্তাত্ত্বিক তাগিদ তৈরি হবে বলে মনে করছেন আইনজীবীরা। আগামী ২৩ জুন হবিগঞ্জের বিচারক হাইকোর্টে হাজির হয়ে কী ব্যাখ্যা দেন, এখন সেটাই দেখার বিষয়।

