কোর্ট রিপোর্টার, ঢাকা | ঢাকার একটি আদালতে ২৯ লাখ টাকার চেক ডিজঅনার মামলায় মূল আসামির পরিবর্তে ছদ্মবেশ ধারণ করে হাজিরা দিতে এসে আটক হওয়া গৃহকর্মী মনোয়ারা বেগমকে দুই দিনের পুলিশি রিমান্ডে পাঠিয়েছেন আদালত। শুক্রবার (২৬ জুন) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুল ইসলাম এই চাঞ্চল্যকর জালিয়াতি মামলার শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।
এর আগে এই জালিয়াতি মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কোতোয়ালি থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ওয়ালিদ হোসেন গ্রেপ্তারকৃত আসামি মনোয়ারা বেগমকে আদালতে হাজির করে সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে তিন দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। আদালতের প্রসিকিউশন বিভাগের উপপরিদর্শক (এসআই) কামরুল ইসলাম বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন।
মামলার পটভূমি ও জালিয়াতির নেপথ্য
আদালতের মামলার নথি অনুযায়ী, সরকারি চাকরিজীবী নিবেদিতা আহমেদ ২০২৫ সালের ২৩ মার্চ নাসরিন সিকদার নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে ২৯ লাখ টাকার চেক ডিজঅনারের মামলা দায়ের করেন। গত ১৬ জুন নির্ধারিত শুনানির দিনে মূল আসামি নাসরিন আদালতে হাজির না হওয়ায় তাঁর জামিন বাতিল করে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছিলেন আদালত।
পরবর্তীতে গত বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) মূল আসামি নাসরিন সিকদারের পরিবর্তে তাঁর গৃহকর্মী মনোয়ারা বেগমকে আদালতে হাজির করে জামিন আবেদন করেন সংশ্লিষ্ট আইনজীবী মো. হাম্মাদ এমদাদ হোসাইন। শুনানির সময় মাস্ক পরা মনোয়ারার আচরণ ও বেশভূষা দেখে আদালতের সন্দেহ হয়। বিচারকের তীক্ষ্ণ জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে প্রকাশ পায় যে তিনি প্রকৃত আসামি নন। এরপরই তাঁকে আটক করে রাজধানীর কোতোয়ালি থানায় সোপর্দ করা হয়।
এই ধৃষ্টতাপূর্ণ জালিয়াতির ঘটনায় সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী (পেশকার) মিয়া মো. ইব্রাহিম খলিল বাদী হয়ে মূল আসামি নাসরিন সিকদার, আসামি সেজে আসা মনোয়ারা বেগম এবং সংশ্লিষ্ট আইনজীবী হাম্মাদ এমদাদ হোসাইনের বিরুদ্ধে কোতোয়ালি থানায় একটি প্রতারণা ও জালিয়াতির মামলা দায়ের করেন।
কাঠগড়ায় মনোয়ারার জবানবন্দি ও আইনজীবী উধাও
শুক্রবার রিমান্ড শুনানির সময় আদালতের কাঠগড়ায় মনোয়ারার পক্ষে কোনো আইনজীবী উপস্থিত ছিলেন না। শুনানির একপর্যায়ে বিচারক তাঁর কাছে জানতে চান, তিনি এর আগে কখনো এমন জালিয়াতির কাজ করেছেন কি না।
জবাবে মনোয়ারা বেগম আদালতের কাছে দাবি করেন, “না, আমি আগে কখনো এ ধরনের কাজ করিনি। আমি মূলত আইনজীবীর চেম্বারে কাজ করি। উকিল আমাকে এখানে নিয়ে এসেছেন, এর বেশি আমি আর কিছুই জানি না।” বিচারক তখন তাঁকে এই জালিয়াতি চক্রের পেছনের বিস্তারিত তথ্য তদন্ত কর্মকর্তার কাছে প্রকাশ করার নির্দেশ দিয়ে দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
কোতোয়ালি থানায় দায়েরকৃত মামলার এজাহারে সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, মূল আসামি নাসরিন সিকদার ও আইনজীবী হাম্মাদ এমদাদ হোসাইন অর্থের প্রলোভন দেখিয়ে এবং পরস্পর যোগসাজশে অসৎ উদ্দেশ্যে এই দরিদ্র গৃহকর্মী মনোয়ারাকে আসামি সাজিয়ে আদালতে হাজির করেছিলেন। আইনজীবী হাম্মাদ ওকালতনামায় সম্পূর্ণ ভুয়া ও জাল ব্যক্তির নাম-স্বাক্ষর লিখে এই বিচারিক জালিয়াতির আশ্রয় নিয়েছেন এবং আদালতকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করেছেন।

