ভারতের কর্ণাটক হাইকোর্টে একটি জমি সংক্রান্ত মামলার শুনানিতে দীর্ঘ ৩৩ বছর পর সামনে এসেছে এক অদ্ভুত বেআইনি ঘটনা। আদালত দেখতে পেয়েছে, ১৯৯৩ সালে দায়ের করা একটি মামলা এমন এক ব্যক্তির নামে করা হয়েছিল, যিনি মামলাটি দায়েরের পাঁচ বছর আগেই মারা গিয়েছিলেন। শুধু তাই নয়, ওই ব্যক্তির মৃত্যুর পর আইনগতভাবে বাতিল হয়ে যাওয়া একটি পাওয়ার অব অ্যাটর্নি ব্যবহার করেই মামলাটি পরিচালনা করা হচ্ছিল।
ঘটনাটি কর্ণাটকের শ্রীরঙ্গপট্টনা তালুকের বেলাভাদি গ্রামের ৪.২১ একর জমি নিয়ে।
১৯৮১ সালে জমির দখলস্বত্ব পান নিঙ্গাম্মা
জানা গেছে, ১৯৮১ সালের ৯ নভেম্বর ল্যান্ড ট্রাইব্যুনাল সি নিঙ্গাম্মা নামে এক বাসিন্দাকে ওই জমির দখলের অধিকার প্রদান করে। পরবর্তীতে ট্রাইব্যুনালের সেই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে কর্ণাটক হাইকোর্টে একটি রিট পিটিশন দায়ের করা হয়।
মামলাটির শুনানি শেষে ২০০১ সালে হাইকোর্ট বিষয়টি পুনর্বিবেচনার জন্য আবার ল্যান্ড ট্রাইব্যুনালে পাঠিয়ে দেয়।
তবে পরবর্তী সময়ে মামলাটিকে ঘিরে আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামনে আসে।
১৯৮৮ সালেই মৃত্যু, অথচ ১৯৯৩ সালে মামলা
মরিয়প্পা নামের এক ব্যক্তির মেয়েরা পরবর্তীতে ২০২৩ সালে ল্যান্ড ট্রাইব্যুনালের দেওয়া একটি আদেশকে চ্যালেঞ্জ করে নতুন করে আবেদন করেন। তাদের দাবি ছিল, তাদের অজ্ঞাতসারেই ওই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
কিন্তু আদালতের পর্যালোচনায় দেখা যায়, মামলার সঙ্গে যুক্ত মরিয়প্পা ১৯৮৮ সালেই মারা গিয়েছিলেন। অথচ তার মৃত্যুর পাঁচ বছর পর, ১৯৯৩ সালে তার নামে রিট পিটিশন দায়ের করা হয়।
আরও বিস্ময়কর বিষয় হলো, মরিয়প্পার মৃত্যুর সঙ্গে সঙ্গেই আইনগতভাবে বাতিল হয়ে যাওয়া তার পাওয়ার অব অ্যাটর্নি ব্যবহার করে ওই মামলা পরিচালনা করা হয়েছিল।
১৯৯৩ সালের মামলা ও ২০০১ সালের আদেশ অকার্যকর
বিচারপতি ই এস ইন্দিরেশ বলেন, ১৯৮৮ সালে মরিয়প্পার মৃত্যুর সঙ্গে সঙ্গেই তার দেওয়া পাওয়ার অব অ্যাটর্নির কার্যকারিতা শেষ হয়ে যায়। ফলে তার মৃত্যুর পর ওই পাওয়ার অব অ্যাটর্নির ভিত্তিতে দায়ের করা ১৯৯৩ সালের রিট পিটিশনের কোনো আইনগত বৈধতা ছিল না।
একই কারণে ২০০১ সালে ওই মামলায় হাইকোর্ট যে আদেশ দিয়েছিল, সেটিও আইনের চোখে সম্পূর্ণ বাতিল ও অকার্যকর বলে বিবেচিত হবে।
আদালতের এই পর্যবেক্ষণের ফলে ১৯৮১ সালের ৯ নভেম্বর ল্যান্ড ট্রাইব্যুনাল সি নিঙ্গাম্মাকে যে জমির দখলের অধিকার দিয়েছিল, সেই মূল আদেশটিই চূড়ান্ত বলে গণ্য হবে।
আবেদন খারিজ, ১০ হাজার রুপি জরিমানা
কর্ণাটক হাইকোর্ট আরও বলেছে, সুপ্রিম কোর্টের পূর্ববর্তী রায়ের আলোকে এই আবেদন গ্রহণযোগ্য নয়। আদালত আবেদনকারীদের ১০ হাজার রুপি জরিমানাও করেন।
এরপর রিট পিটিশনটি খারিজ করে দেন বিচারপতি ই এস ইন্দিরেশ।
দীর্ঘ ৩৩ বছর পর মামলার নথি পর্যালোচনায় উঠে আসা এই ঘটনা জমি সংক্রান্ত মামলায় নথির বৈধতা, পাওয়ার অব অ্যাটর্নির কার্যকারিতা এবং মামলাকারীর অস্তিত্ব যাচাইয়ের গুরুত্বকে নতুন করে সামনে এনেছে।
সূত্র: ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস

