বিচার প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রিতায় জনগণ হয়রানির শিকার হচ্ছেন: বিচারপতি মাহমুদুল হক

বিচার প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রিতায় জনগণ হয়রানির শিকার হচ্ছেন: বিচারপতি মাহমুদুল হক

দেশে বিচার প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রিতার ফলে মামলা জট মারাত্মক আকার ধারণ করেছে বলে মন্তব্য করেছেন হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি মাহমুদুল হক। এতে যেমন অর্থের অপচয় হচ্ছে, তেমনি সাধারণ মানুষ হয়রানির শিকার হচ্ছেন বলেও জানান তিনি।

রোববার (৪ মে) যশোর জজকোর্ট চত্বরে আগত বিচারপ্রার্থী ও সাধারণ জনগণের জন্য নির্মিত বিশ্রামাগার ‘ন্যায়কুঞ্জ’ উদ্বোধনকালে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন বিচারপতি মাহমুদুল হক।

তিনি বলেন, বিচার প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত সবাইকে আন্তরিকতা ও সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে মামলা নিষ্পত্তির দীর্ঘ সময়কে সহনীয় পর্যায়ে আনতে হবে।

বিচারপতি মাহমুদুল হক বলেন, টাকা-পয়সাওয়ালা লোকেরা সাধারণত আদালতে আসেন না। বরং সাধারণ মানুষই দীর্ঘ সময় আদালতে অবস্থান করেন এবং সীমাহীন কষ্ট সহ্য করেন। তাদের কষ্ট কিছুটা লাঘব করতেই সরকার ‘ন্যায়কুঞ্জ’ প্রতিষ্ঠা করেছে।

যশোরের সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ শেখ নাজমুল আলমের সভাপতিত্বে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দায়রা জজ নুরুল ইসলাম, চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ফাহমিদা জাহাঙ্গীর, সরকারি কৌঁসুলি (জিপি) আব্দুল মোহাইমেন এবং পাবলিক প্রসিকিউটর (পি পি) সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন যশোর আইনজীবী সমিতির সভাপতি আবু মোর্তজা ছোট, সাধারণ সম্পাদক এম এ গফুর, দুর্নীতি দমন কমিশনের পিপি সিরাজুল ইসলাম, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পিপি আব্দুল লতিফ লতা, জেলা ও দায়রা জজ আদালতের নাজির বাবর আলী প্রমুখ।

উল্লেখ্য, এক হাজার বর্গফুট আয়তনের বিশ্রামাগার ‘ন্যায়কুঞ্জ’ নির্মাণের কাজ শেষ হয় ২০২৩ সালে। এটি জেলা ও দায়রা জজের কাছে হস্তান্তর করা হয় ২০২৪ সালের ১৮ জুন। আজ (৪ মে) এটি জনগণের জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে উন্মুক্ত করা হলো।

‘ন্যায়কুঞ্জ’ নির্মিত হয়েছে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে এবং গণপূর্ত অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধানে।