সংরক্ষিত নারী আসনে বিরোধীদল থেকে মনোনয়ন পেলেন দুই আইনজীবী

সংরক্ষিত নারী আসনে বিরোধীদল থেকে মনোনয়ন পেলেন দুই আইনজীবী

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১–দলীয় নির্বাচনী জোট তাদের প্রার্থীদের চূড়ান্ত করেছে। জোট সূত্রে জানা গেছে, এই তালিকায় জামায়াতে ইসলামীর ৮ জন, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) থেকে ২ জন এবং জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা), বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ও জুলাই শহীদ পরিবারের পক্ষ থেকে একজন করে মনোনীত হয়েছেন।

এই তালিকায় বিশেষভাবে আলোচনায় রয়েছেন দুই আইনজীবী—অ্যাডভোকেট সাবিকুন্নাহার মুন্নী এবং ব্যারিস্টার তাসমিয়া প্রধান

সাবিকুন্নাহার মুন্নী

জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী থেকে মনোনয়ন পেয়েছেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রী সংস্থার সাবেক কেন্দ্রীয় সভানেত্রী, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য এবং কেন্দ্রীয় মহিলা বিভাগের মানবসম্পদ, আইন ও মানবাধিকার বিষয়ক সেক্রেটারি, মানবাধিকার ও আইনি সুরক্ষা কেন্দ্র (মাসুক)-এর নির্বাহী পরিচালক, ল’ইয়ার্স কাউন্সিল (মহিলা শাখা)-এর সেক্রেটারি, লিগ্যাল এইড বাংলাদেশ-এর নির্বাহী সদস্য এবং সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট সাবিকুন্নাহার মুন্নী।

তিনি ময়মনসিংহ-৫ (মুক্তাগাছা) আসন থেকে জামায়াতে ইসলাম মনোনীত প্রার্থী অ্যাডভোকেট মতিউর রহমান আকন্দের সহধর্মিণী।

অ্যাডভোকেট সাবিকুন্নাহার মুন্নী দীর্ঘদিন ধরে আইন পেশায় যুক্ত। আইনজীবী পরিচয়ের পাশাপাশি তিনি মানবাধিকার কর্মী হিসেবেও সক্রিয়। বিশেষ করে নারী অধিকার, ধর্ষণবিরোধী আন্দোলন এবং সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় তার ভূমিকা উল্লেখযোগ্য। রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে তার সক্রিয় অংশগ্রহণের কারণে তাকে সংরক্ষিত নারী আসনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ প্রার্থী হিসেবে দেখা হচ্ছে।

তাসমিয়া প্রধান

জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা) এর সভাপতি ব্যারিস্টার তাসমিয়া প্রধান দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে পরিচিত একটি নাম। তিনি জাগপার প্রতিষ্ঠাতা শফিউল আলম প্রধানের কন্যা এবং ২০১৭ সালে পিতার মৃত্যুর পর দলটির নেতৃত্ব গ্রহণ করেন। পেশায় একজন ব্যারিস্টার হিসেবে তিনি আইন অঙ্গনেও সক্রিয় ভূমিকা পালন করছেন।

রাজনৈতিক জীবনে তিনি ২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পঞ্চগড়-২ আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। এছাড়া ২০২৫ সালে উচ্চ আদালতের আদেশে জাগপার নিবন্ধন পুনরুদ্ধারের ঘটনাও তার নেতৃত্বের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সংরক্ষিত নারী আসনে আইনজীবীদের অন্তর্ভুক্তি সংসদে আইন ও মানবাধিকার বিষয়ক আলোচনাকে আরও সমৃদ্ধ করতে পারে। একই সঙ্গে নারী নেতৃত্বের অংশগ্রহণ বাড়ানোর ক্ষেত্রেও এটি একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।