ভুক্তভোগীকে দুই কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে বললেন সুপ্রিম কোর্ট
বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট। ছবি: জয়দীপ্তা দেব চৌধুরী

ডেন্টাল টেকনোলজিস্টদের প্রাইভেট প্র্যাকটিসের সুযোগ দেওয়া হাইকোর্টের রায় বাতিল

কোর্ট রিপোর্টার, ঢাকা | ডিপ্লোমা ইন মেডিকেল টেকনোলজি (ডেন্টাল অ্যাসিস্ট্যান্ট) ডিগ্রিধারীদের স্বাধীনভাবে চেম্বার খুলে রোগী দেখা ও ওষুধের ব্যবস্থাপত্র (প্রেসক্রিপশন) প্রদানের ক্ষমতা দিয়ে হাইকোর্টের দেওয়া পূর্বের রায়টি পুরোপুরি বাতিল করে দিয়েছেন দেশের সর্বোচ্চ আদালত আপিল বিভাগ। ফলে ডেন্টাল অ্যাসিস্ট্যান্ট বা ডেন্টাল টেকনোলজিস্টদের পৃথক বা স্বাধীনভাবে নিজস্ব প্রাইভেট প্র্যাকটিস করার আর কোনো সুযোগ রইল না।

হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ মেডিকেল ও ডেন্টাল কাউন্সিল (বিএমডিসি) এবং ডেন্টাল চিকিৎসকদের করা সিভিল আপিল মঞ্জুর করে গতকাল বুধবার (২৪ জুন) প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগ এই চূড়ান্ত রায় প্রদান করেন।

আদালতে বাংলাদেশ মেডিকেল ও ডেন্টাল কাউন্সিলের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোস্তাফিজুর রহমান খান ও আইনজীবী কাজী এরশাদুল আলম। ডেন্টাল চিকিৎসকদের পক্ষে শুনানিতে অংশ নেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী আহসানুল করিম ও আইনজীবী আনোয়ার হোসেন। অন্যদিকে, রিটকারী ডেন্টাল পরিষদের পক্ষে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির ও আইনজীবী সৈয়দা নাসরীন।

রায়ের আইনি ব্যাখ্যা ও ডেন্টাল অ্যাসিস্ট্যান্টদের কার্যপরিধি

আদালতের এই ঐতিহাসিক রায়ের পর ডেন্টাল চিকিৎসকদের পক্ষের আইনজীবী আনোয়ার হোসেন সংবাদের সত্যতা নিশ্চিত করে এর আইনি প্রভাব ব্যাখ্যা করেন। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, “আপিল বিভাগে ডেন্টাল চিকিৎসক ও বিএমডিসির পক্ষে দায়ের করা সিভিল আপিলটি দীর্ঘ শুনানি শেষে মঞ্জুর করেছেন প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগ। এর ফলে ডেন্টাল অ্যাসিস্ট্যান্টদের পৃথক বা নিজস্ব প্র্যাকটিস করার সুযোগ দিয়ে হাইকোর্ট যে রায় দিয়েছিলেন, তা এখন থেকে পুরোপুরি বাতিল ও কার্যকারিতাহীন হয়ে গেল।”

আইনজীবী আনোয়ার হোসেন আরও স্পষ্ট করে জানান, “আদালতের এই চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের পর থেকে ডেন্টাল অ্যাসিস্ট্যান্ট বা ডেন্টাল টেকনোলজিস্টরা আর কোনো পৃথক প্রাইভেট প্র্যাকটিস করতে পারবেন না। তারা কোনো নিজস্ব চেম্বার খুলে স্বাধীনভাবে রোগী দেখা এবং ওষুধের ব্যবস্থাপত্র প্রদান করার আইনি অধিকার হারালেন। তারা কেবল বিএমডিসি নিবন্ধিত মূল ডেন্টাল সার্জনদের (বিডিএস ডিগ্রিধারী) অধীনে সহকারী বা অ্যাসিস্ট্যান্ট হিসেবে কাজ করতে পারবেন।”

মামলার প্রেক্ষাপট ও দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া

মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, ডিপ্লোমা ইন মেডিকেল টেকনোলজিস্টদের (ডেন্টাল অ্যাসিস্ট্যান্ট) স্বাধীনভাবে রোগী দেখার সুযোগ, ওষুধের ব্যবস্থাপত্র প্রদানের ক্ষমতা এবং বিএমডিসি কর্তৃক নিবন্ধনের নির্দেশনা চেয়ে বাংলাদেশ ডেন্টাল পরিষদের পক্ষে এর সাংগঠনিক সম্পাদক কামাল হোসেন ২০১৬ সালে হাইকোর্টে একটি রিট আবেদন করেন।

উক্ত রিটের চূড়ান্ত শুনানি শেষে ২০১৬ সালের ১৩ জুন বিচারপতি সৈয়দ মোহাম্মদ দস্তগীর হোসেন এবং বিচারপতি এ. কে. এম. শহীদুল হকের সমন্বয়ে গঠিত তৎকালীন হাইকোর্ট বেঞ্চ রিটের রুল যথাযথ ঘোষণা করে রায় দিয়েছিলেন। সেই রায়ে ডেন্টাল অ্যাসিস্ট্যান্টদের রোগী দেখা ও প্রেসক্রিপশন লেখার ক্ষমতা দিতে বিএমডিসিকে নিবন্ধন প্রদান করাসহ মোট ১০ দফা নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল।

পরবর্তীতে ২০১৭ সালে হাইকোর্টের ওই রায়ের আইনগত বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে আপিল বিভাগে সিভিল আপিল দায়ের করে বাংলাদেশ মেডিকেল ও ডেন্টাল কাউন্সিল (বিএমডিসি)। পরবর্তীতে ওই মামলায় ডেন্টাল চিকিৎসকেরাও পক্ষভুক্ত হন। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া ও চূড়ান্ত শুনানি শেষে আপিল বিভাগ বিএমডিসি ও চিকিৎসকদের আপিল মঞ্জুর করে হাইকোর্টের সেই রায়টি সম্পূর্ণ বাতিল ঘোষণা করলেন।