বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট হাফেজ আহম্মদ
বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট হাফেজ আহম্মদ

ফেনী জজ কোর্টের সাবেক পিপি ও বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট হাফেজ আহম্মদের ইন্তেকাল

আদালত প্রতিবেদক | ফেনী জেলা জজ কোর্টের সাবেক পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি), জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি প্রবীণ আইনজীবী ও বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট হাফেজ আহম্মদ আর নেই। আজ মঙ্গলবার (৩০ জুন) সকাল ৭টা ১০ মিনিটে ফেনী শহরের রামপুরের নিজ বাসভবনে তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮০ বছর।

মরহুমের পরিবার ও জামাতা নূর আহমেদ বাবুল জানান, অ্যাডভোকেট হাফেজ আহম্মদ দীর্ঘদিন ধরে বার্ধক্যজনিত নানা শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, সন্তানসহ অসংখ্য আত্মীয়-স্বজন, সহকর্মী ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। তাঁর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে ফেনীর স্থানীয় আইন অঙ্গন, আইনজীবী সমিতি, রাজনৈতিক মহল ও বীর মুক্তিযোদ্ধাদের মাঝে গভীর শোকের ছায়া নেমে আসে। মরহুমের জানাজার নামাজ আজ মঙ্গলবার বাদ আসর ফেনী শহরের ঐতিহ্যবাহী মিজান ময়দানে অনুষ্ঠিত হবে। জানাজা শেষে তাঁকে পারিবারিক কবরস্থানে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন করা হবে।

পেশাগত ও গৌরবময় আইনি জীবন

পেশাগত জীবনে অ্যাডভোকেট হাফেজ আহম্মদ ফেনী জেলা জজ কোর্টের একজন অত্যন্ত দক্ষ, প্রজ্ঞাবান ও জনপ্রিয় আইনজীবী ছিলেন। তিনি ফেনী জেলা জজ কোর্টের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) হিসেবে অত্যন্ত নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করেন। আইন অঙ্গনে তাঁর সততা ও জুনিয়র আইনজীবীদের প্রতি স্নেহশীল আচরণ সবার মাঝে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

ছাত্ররাজনীতি থেকে জেলা নেতৃত্বের গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস

অ্যাডভোকেট হাফেজ আহম্মদ ছাত্রজীবন থেকেই প্রগতিশীল রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে বীরত্বের সাথে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন।

দলীয় ইতিহাস ঘেঁটে জানা যায়, ১৯৬৪ সালে ফেনী সেন্ট্রাল হাই স্কুলে পড়াকালীন ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে তাঁর রাজনীতির সূচনা। পরবর্তীতে ১৯৬৬ সালে স্কুল ছাত্রলীগের সভাপতি, ১৯৬৮ সালে শহর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক, ১৯৬৯ সালে মহকুমা ছাত্রলীগের যুগ্ম সম্পাদক ও নোয়াখালী জেলা ছাত্রলীগের সদস্য হিসেবে স্থান পান। একই বছর গঠিত মহকুমা সর্বদলীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের আহ্বায়ক, ১৯৭০ সালে ফেনী সরকারি কলেজ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক এবং ১৯৭২-৭৩ সালে মহকুমা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ও বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

স্বাধীনতা-পরবর্তী সময়ে ১৯৭৩ থেকে ১৯৭৮ সাল পর্যন্ত তিনি পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং ১৯৯৮ সাল থেকে জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। ২০২০ সালের ২৮ জুন তৎকালীন সভাপতি অ্যাডভোকেট আকরামুজ্জামান করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেলে একই বছরের ৯ ডিসেম্বর হাফেজ আহম্মদকে জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতির দায়িত্ব দেওয়া হয়। পরবর্তীতে ২০২৩ সালের ৬ আগস্ট দলের বিশেষ বর্ধিত সভায় তাঁকে ভারমুক্ত করে পূর্ণাঙ্গ সভাপতির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল।