মানবাধিকার ও পরিবেশবাদী সংগঠন হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশের (এইচআরপিবি) সভাপতি অ্যাডভোকেট মনজিল মোরসেদ
মানবাধিকার ও পরিবেশবাদী সংগঠন হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশের (এইচআরপিবি) সভাপতি অ্যাডভোকেট মনজিল মোরসেদ

অবৈধ ইটভাটা বন্ধ না করায় চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসককে আদালত অবমাননার নোটিশ

হাইকোর্টের নির্দেশনা অমান্যের অভিযোগ, সাত দিনের মধ্যে ব্যবস্থা নিতে আহ্বান

হাইকোর্টের নির্দেশনা অমান্য করে চট্টগ্রামের বিভিন্ন উপজেলায় অবৈধ ইটভাটা চালু রাখার অভিযোগে চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিয়াকে আদালত অবমাননার নোটিশ পাঠিয়েছেন সিনিয়র আইনজীবী মনজিল মোরসেদ।

মঙ্গলবার (১০ মার্চ) ডাকযোগে এ নোটিশ পাঠানো হয়।

আইনজীবী মনজিল মোরসেদ জানান, চট্টগ্রাম জেলার বিভিন্ন উপজেলায় শত শত অবৈধ ইটভাটা চলমান থাকায় পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে বলে গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হলে ২০২০ সালে জনস্বার্থে একটি রিট পিটিশন দায়ের করে মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশ (এইচআরপিবি)।

রিটের শুনানি শেষে একই বছরের ১৪ ডিসেম্বর হাইকোর্ট অবৈধ ইটভাটা বন্ধে রুল জারি করে নির্দেশনা দেন।

পরবর্তীতে আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী সব অবৈধ ইটভাটা বন্ধ না করায় ২০২১ সালে সম্পূরক আবেদন করে জেলা প্রশাসকের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার অভিযোগ আনে এইচআরপিবি।

ওই আদেশের পর প্রায় শতাধিক অবৈধ ইটভাটা ভেঙে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করা হয়। পরে ২০২১ সালের ১৩ জুন তৎকালীন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক আদালতে ক্ষমা প্রার্থনা করেন এবং বাকি ইটভাটাগুলো বন্ধের প্রতিশ্রুতি দেন।

মনজিল মোরসেদ বলেন, আদালতের একাধিক নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও চট্টগ্রামের বিভিন্ন উপজেলায় আগে বন্ধ করা অনেক ইটভাটা আবার চালু হয়েছে বলে গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে।

গণমাধ্যমের তথ্যমতে, জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে আদালতের নির্দেশনা বাস্তবায়নে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।

গত ১৪ নভেম্বর একটি পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, লোহাগাড়া উপজেলায় ৩৮টি ইটভাটার মধ্যে ৩৭টির কোনো লাইসেন্স নেই।

এছাড়াও সাতকানিয়া, রাউজান, ফটিকছড়ি, পটিয়া ও আনোয়ারাসহ বিভিন্ন উপজেলায় শত শত অবৈধ ইটভাটা আদালতের নির্দেশ অমান্য করে চালু রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

এসব তথ্যের পরিপ্রেক্ষিতে চট্টগ্রামের বর্তমান জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিয়াকে আদালত অবমাননার নোটিশ পাঠানো হয়েছে।

নোটিশে সাত দিনের মধ্যে হাইকোর্টের নির্দেশনা অনুযায়ী সব অবৈধ ইটভাটা বন্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে।

নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ব্যবস্থা না নিলে তার বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আদালত অবমাননার মামলা দায়ের করা হবে বলে নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে।