স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, দেশের বিদ্যমান রাজনৈতিক সংস্কৃতিকে ধাপে ধাপে উন্নত করতে চায় সরকার। অতীতের নেতিবাচক ধারা দূর করে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের ভিত্তিতে একটি ভালো রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ে তোলার চেষ্টা চলছে।
তিনি বলেন, “জাতীয় সংসদ থেকেই ভালো রাজনৈতিক সংস্কৃতির চর্চা শুরু করতে চাই।”
বুধবার (১১ মার্চ) ঢাকায় বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্র-এ ‘মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ ২০২৫: নতুন সংসদের কাছে প্রত্যাশা’ শীর্ষক সংলাপে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সংলাপটির আয়োজন করে নাগরিক প্ল্যাটফর্ম ‘রিফর্ম ওয়াচ’।
মন্ত্রী বলেন, অতীতে ফ্যাসিবাদী শাসনামলে রাষ্ট্রযন্ত্র ব্যবহার করে ব্যাপক মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটেছে। সে অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে সরকার মানবাধিকার রক্ষায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
তিনি বলেন, সংবিধানে বর্ণিত মৌলিক মানবাধিকার সুরক্ষার বিষয়টি সরকারের নির্বাচনি ইশতেহার এবং ৩১ দফা কর্মসূচির মধ্যেও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
সরকার মানবাধিকার কমিশনের পাশাপাশি ট্রুথ অ্যান্ড হিলিং কমিশন গঠনের বিষয়েও পরিকল্পনা করছে বলে জানান তিনি।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দেশে মানবাধিকার লঙ্ঘনের মাত্রা ধীরে ধীরে শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনার লক্ষ্য রয়েছে। তবে রাতারাতি শতভাগ মানবাধিকার নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।
আরও পড়ুন : ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের স্পিকার হচ্ছেন আলতাফ হোসেন চৌধুরী
তিনি বলেন, বাংলাদেশের মানবাধিকার সূচক আন্তর্জাতিক মানে উন্নত করতে সরকার ধাপে ধাপে পদক্ষেপ নেবে।
মন্ত্রী জানান, মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশের বেশিরভাগ বিষয়ে ঐকমত্য রয়েছে। তবে কিছু ক্ষেত্রে সংশোধনের প্রয়োজন হতে পারে এবং সেগুলো সংসদে বিল আকারে উত্থাপন করা হবে।
অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশ প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এসব অধ্যাদেশের বেশিরভাগই বর্তমান সরকার হয়তো অপরিবর্তিতভাবে গ্রহণ করবে।
তবে কিছু অধ্যাদেশ নিয়ে সংসদে আলোচনা হতে পারে।
তিনি বলেন, সাংবিধানিক বিধান অনুযায়ী জাতীয় সংসদের অধিবেশন শুরুর পর ৩০ দিনের মধ্যে এসব অধ্যাদেশ পাস, সংশোধন অথবা বাতিল করতে হবে।
যেসব অধ্যাদেশ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সংসদে উপস্থাপন করা সম্ভব হবে না, সেগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে ল্যাপস হয়ে যাবে। তবে পরবর্তী অধিবেশনে সেগুলো আবার বিল আকারে আনা যাবে।
মন্ত্রী জানান, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে বর্তমানে সাতটি অধ্যাদেশ রয়েছে।
নাগরিক প্ল্যাটফর্মের আহ্বায়ক ও সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ-এর ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য-এর সভাপতিত্বে সংলাপে অংশ নেন এ. এম. মাহবুব উদ্দিন খোকন, মো. ফজলুর রহমান, রুমিন ফারহানা, আহমেদ আযম খান, রেহমান সোবহান, সুব্রত চৌধুরী, সারা হোসেন, খুশী কবির।

