লইয়ার্স ক্লাব ডেস্ক: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নবগঠিত সরকার ও নির্বাচিত সকল সংসদ সদস্যকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছে ইয়াং জাজেস ফর জুডিসিয়াল রিফর্ম। সংগঠনটি একইসাথে বিচার বিভাগের পূর্ণ স্বাধীনতা নিশ্চিতের লক্ষ্যে গুরুত্বপূর্ণ কিছু দাবি উত্থাপন করেছে।
সংগঠনটি জানায়, বিদায়ী অন্তবর্তীকালীন সরকার ২০২৫ সালের ৩০ নভেম্বর ‘সুপ্রীম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ, ২০২৫’ জারি করে, যা সংবিধানের নির্দেশনা এবং মাসদার হোসেন মামলা-এর ঐতিহাসিক রায়ের আলোকে প্রণীত। ১৯৯৯ সালের এই যুগান্তকারী রায়ে সুপ্রীম কোর্ট বিচার বিভাগকে নির্বাহী বিভাগ থেকে কার্যকরভাবে পৃথক করার নির্দেশ প্রদান করেন।
যদিও ২০০৭ সালে বিচার বিভাগের আংশিক পৃথকীকরণ সম্পন্ন হয়, তথাপি অধস্তন আদালতের নিয়ন্ত্রণ কার্যত নির্বাহী বিভাগের অধীনেই থেকে যায়। জারিকৃত এই অধ্যাদেশকে সেই অসম্পূর্ণ প্রক্রিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে বিবেচনা করছে সংগঠনটি।
সংগঠনটি আরও উল্লেখ করে, রাষ্ট্র সংস্কারে সরকারি দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-এর ঘোষিত ৩১ দফার ৯ নম্বর দফায় মাসদার হোসেন মামলার রায়ের আলোকে বিচার বিভাগের কার্যকর স্বাধীনতা নিশ্চিত করার অঙ্গীকার করা হয়েছে। একইসাথে অধস্তন আদালতের নিয়ন্ত্রণ ও শৃঙ্খলা বিধানের ক্ষমতা সুপ্রীম কোর্টের ওপর ন্যস্ত করা এবং বিচার বিভাগের জন্য পৃথক সচিবালয় প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতিও দেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন : পারফরম্যান্স মূল্যায়ন পরীক্ষা দিতে হবে ডেপুটি ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেলদের
এছাড়া দলটির নির্বাচনী ইশতেহারের সাংবিধানিক সংস্কার অংশের ২০ নম্বর দফায় অধস্তন আদালতের বিচারকদের চাকরির নিয়ন্ত্রণ সম্পূর্ণভাবে সুপ্রীম কোর্টের হাতে ন্যস্ত করতে সংবিধান সংশোধনের অঙ্গীকার রয়েছে। স্বাধীন বিচার বিভাগ গঠনের অংশ হিসেবে পৃথক সচিবালয়কে আরও শক্তিশালী করার কথাও বলা হয়েছে।
সংগঠনটি জানায়, জুলাই-আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানের অন্যতম মূল স্পিরিট ছিল রাষ্ট্রের প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের জবাবদিহিতা ও স্বাধীনতা নিশ্চিত করা। ‘জুলাই জাতীয় সনদ’-এ দেশের প্রধান রাজনৈতিক দলসমূহ স্বাধীন বিচার বিভাগ প্রতিষ্ঠার বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছেছে। এই জাতীয় ঐকমত্যকে সম্মান জানানো নির্বাচিত সরকারের সাংবিধানিক ও নৈতিক দায়িত্ব বলে মনে করে তারা।
এমতাবস্থায় ইয়াং জাজেস ফর জুডিসিয়াল রিফর্ম সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে, সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরুর তারিখ থেকে ৩০ দিনের মধ্যে ‘সুপ্রীম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ, ২০২৫’ আইন হিসেবে পাস করতে হবে। একইসাথে রাজনৈতিক দলগুলোর নির্বাচনী অঙ্গীকার এবং জাতীয় ঐকমত্য অনুযায়ী বিচার বিভাগের পূর্ণাঙ্গ স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সাংবিধানিক সংশোধনের উদ্যোগ গ্রহণের অনুরোধ জানানো হয়েছে।
সংগঠনটি আরও বলেছে, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা জনগণের সাংবিধানিক অধিকার এবং আইনের শাসনের মূল ভিত্তি। জনগণের রায়ে দেশ পরিচালনার এই সুযোগে সরকার বিচার বিভাগের প্রকৃত স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবে—এটাই তাদের প্রত্যাশা।

