নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা | দেশে আর্থিকভাবে অসচ্ছল, অসমর্থ এবং নানাবিধ কারণে বিচারপ্রাপ্তিতে অসমর্থ জনগণকে আইনি সহায়তা প্রদানের লক্ষ্যে প্রণীত ‘আইনগত সহায়তা প্রদান আইন, ২০০০’-এর অধীনে সরকারি খরচে এই বিশাল সংখ্যক মানুষকে আইনি সেবা দেওয়া হয়েছে। আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগের অধীনে জাতীয় আইনগত সহায়তা সংস্থা এই সামগ্রিক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে।
জাতীয় আইনগত সহায়তা সংস্থার ওয়েবসাইটে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০০৯ সাল থেকে ২০২৬ সালের এপ্রিল মাস পর্যন্ত বিভিন্ন শাখার মাধ্যমে অসচ্ছল বিচারপ্রার্থীদের আইনি সহায়তা দেওয়া হয়েছে।
এর বিস্তারিত বিবরণ নিচে তুলে ধরা হলো:
-
৬৪ জেলার লিগ্যাল এইড অফিস: দেশের ৬৪টি জেলায় কার্যরত লিগ্যাল এইড অফিসের মাধ্যমে এককভাবে সবচেয়ে বেশি মানুষকে সহায়তা দেওয়া হয়েছে। এই জেলা অফিসগুলোর মাধ্যমে মোট ১১ লাখ ৯৬ হাজার ৭৫৬ জন বিচারপ্রার্থী সরকারি খরচে আইনগত সহায়তা পেয়েছেন।
-
সুপ্রিম কোর্ট লিগ্যাল এইড অফিস: দেশের সর্বোচ্চ আদালত সুপ্রিম কোর্টে আসা অসচ্ছল বিচারপ্রার্থীদের আইনি লড়াইয়ে সহায়তা দিতে কাজ করে সুপ্রিম কোর্ট লিগ্যাল এইড অফিস। এই অফিসের মাধ্যমে মোট ৩০ হাজার ৫৬৭ জন আইনি সহায়তা লাভ করেছেন।
-
শ্রমিক আইনগত সহায়তা সেল: ঢাকা ও চট্টগ্রাম—এই দুটি বিভাগীয় শহরে শ্রমজীবী ও মেহনতি মানুষের অধিকার রক্ষায় নিয়োজিত শ্রমিক আইনগত সহায়তা সেলের মাধ্যমে ৩০ হাজার ১০২ জন শ্রমিককে বিনামূল্যে আইনি সেবা দেওয়া হয়েছে।
-
জাতীয় হেল্পলাইন কল সেন্টার (১৬৬৯৯): ঘরে বসেই যেন যেকোনো নাগরিক আইনি পরামর্শ ও তথ্য পেতে পারেন, সেজন্য চালু রয়েছে লিগ্যাল এইডের টোল-ফ্রি জাতীয় হেল্পলাইন কল সেন্টার নম্বর ‘১৬৬৯৯’। এই কল সেন্টারের মাধ্যমে ২ লাখ ৪ হাজার ২০৫ জন বিচারপ্রার্থীকে তাৎক্ষণিক আইনি পরামর্শ ও সহায়তা দেওয়া হয়েছে।
সব মিলিয়ে লিগ্যাল এইডের এই চারমুখী সেবার আওতায় দেশে সর্বমোট ১৪ লাখ ৬১ হাজার ৬৩০ জন অসহায় ও অসচ্ছল বিচারপ্রার্থীকে সরকারি খরচে সফলভাবে আইনি সহায়তা প্রদান সম্পন্ন হয়েছে।
আইন সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, সরকারি খরচে আইনি সহায়তা প্রদানের এই মহতী কার্যক্রমের ফলে দেশের প্রান্তিক ও দরিদ্র জনগোষ্ঠীর আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার সুযোগ বহুলাংশে বৃদ্ধি পেয়েছে। লিগ্যাল এইড অফিসগুলোর মাধ্যমে মামলা পরিচালনা ছাড়াও বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি বা এডিআর (ADR)-এর মাধ্যমেও বহু পারিবারিক ও দেওয়ানি বিরোধ নিষ্পত্তি করা হচ্ছে, যা দেশের বিচার ব্যবস্থার ওপর মামলার জট কমাতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে। জাতীয় আইনগত সহায়তা সংস্থার এই কার্যক্রমের পরিধি দিন দিন আরও বিস্তৃত হচ্ছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

