আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ রেখে বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ-এ সন্ত্রাসবিরোধী আইনের সংশোধনী অধ্যাদেশকে বিল আকারে পাস করা হয়েছে, যার মাধ্যমে রাজনৈতিক দল বা সংগঠন নিষিদ্ধ করার ক্ষমতা আরও সম্প্রসারিত হয়েছে।
আজ বুধবার (৮ এপ্রিল) সংসদের অধিবেশনে বিলটি সর্বসম্মত কণ্ঠভোটে পাস হয়।
সংসদে বিলটি উত্থাপন করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দীন আহমদ। পরে কোনো বিরোধিতা ছাড়াই এটি কণ্ঠভোটে পাস হয়। এ আইন পাসের মাধ্যমে সন্ত্রাসবিরোধী ব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এসেছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
পাস হওয়া সংশোধনী অনুযায়ী, এখন থেকে সরকার কোনো ব্যক্তি, সত্তা, এমনকি রাজনৈতিক দল বা সংগঠনকেও সন্ত্রাসে জড়িত থাকার অভিযোগে নিষিদ্ধ ঘোষণা করতে পারবে। এর ফলে:
- নিষিদ্ধ সংগঠন বা দলের সব ধরনের কার্যক্রম বন্ধ করা যাবে
- অনলাইন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের প্রচার-প্রচারণা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকবে
- নিষিদ্ধ সংগঠনকে অর্থ, আশ্রয় বা যেকোনো ধরনের সহায়তা প্রদান করলে কঠোর শাস্তির বিধান প্রযোজ্য হবে
এই আইন কার্যকর হলে সন্ত্রাস দমন কার্যক্রম আরও জোরদার হবে বলে মনে করা হচ্ছে।
এদিন বেলা ১১টায় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ (বীর বিক্রম)-এর সভাপতিত্বে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের বৈঠক পুনরায় শুরু হয়। এরপরই সংশোধনী বিলটি উত্থাপন ও পাস করা হয়।
উল্লেখ্য, অন্তর্বর্তী সরকার গত বছরের ১১ মে সন্ত্রাসবিরোধী আইন সংশোধনের জন্য একটি অধ্যাদেশ জারি করে।
সে সময় সংসদ কার্যকর না থাকায় সংবিধানের ৯৩ (১) অনুচ্ছেদে প্রদত্ত ক্ষমতাবলে রাষ্ট্রপতি অধ্যাদেশটি জারি করেন এবং পরে তা গেজেট আকারে প্রকাশ করা হয়।
পরবর্তীতে সংসদ অধিবেশন শুরু হলে ওই অধ্যাদেশকে বিল আকারে উত্থাপন করে আইনে রূপ দেওয়া হয়।

