অন্তর্বর্তী সরকার কর্তৃক গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে প্রচারণার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকসহ বিভিন্ন ব্যাংক থেকে অবৈধভাবে অর্থ সংগ্রহ এবং রাষ্ট্রীয় কোষাগারের প্রায় ১৪২ কোটি টাকা অপব্যবহারের অভিযোগ তুলে সরকারকে লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো হয়েছে।
সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী আসলাম মিয়ার পক্ষে ব্যারিস্টার সানাউল্লাহ নূর গত ৭ মে এই নোটিশটি পাঠান।
নোটিশটি মন্ত্রিপরিষদ সচিব, স্বরাষ্ট্র সচিব, অর্থ সচিব, আইন সচিব, তথ্য সচিব, দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর এবং প্রধান নির্বাচন কমিশনার বরাবর রেজিস্টার্ড ডাকযোগে প্রেরণ করা হয়েছে।
নোটিশে উল্লিখিত চাঞ্চল্যকর অভিযোগসমূহ
লিগ্যাল নোটিশে গণভোটের প্রচারণায় ক্ষমতার অপব্যবহার ও দুর্নীতির বিস্তারিত চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। মূল বিষয়গুলো নিচে তুলে ধরা হলো:
ব্যাংকিং নীতিমালার লঙ্ঘন: নোটিশে জানানো হয় যে, বাংলাদেশ ব্যাংক এবং অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স, বাংলাদেশ (ABB) যৌথভাবে প্রায় ৩.৭ কোটি টাকা ‘হ্যাঁ’ ভোটের প্রচারণার জন্য তিনটি সংগঠন—সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন), স্টুডেন্টস এগেইনস্ট ডিসক্রিমিনেশন (SAD) ফাউন্ডেশন এবং ডিবেট ফর ডেমোক্রেসিকে প্রদান করেছে। বিশেষজ্ঞরা একে প্রতিষ্ঠিত ব্যাংকিং নীতিমালার সুস্পষ্ট লঙ্ঘন এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থার নিরপেক্ষতার পরিপন্থী বলে অভিহিত করেছেন।
সিএসআর (CSR) তহবিলের অপব্যবহার: বাংলাদেশ ব্যাংকের বিদ্যমান নীতিমালা অনুযায়ী, সিএসআর তহবিলের অর্থ শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও পরিবেশ খাতে ব্যয় করার বাধ্যবাধকতা থাকলেও তা সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে রাজনৈতিক প্রচারণায় ব্যবহার করা হয়েছে। নোটিশে একে ‘খামখেয়ালি ও কু-উদ্দেশ্যমূলক ক্ষমতার প্রয়োগ’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
আরও পড়ুন : হামের টিকা দেয়া কর্মসূচি বন্ধে ড. ইউনূস রাষ্ট্রের অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি (VVIP) ঘোষণা বাতিল করা প্রয়োজন
অনিবন্ধিত সংস্থাকে অর্থায়ন ও নথিপত্রহীন ব্যয়: নোটিশে দাবি করা হয়, ‘SAD ফাউন্ডেশন’ নামক একটি সংস্থাকে প্রথমে ৯ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব দেওয়া হলেও বোর্ড সদস্যদের আপত্তির মুখে ১ কোটি টাকা অনুমোদন দেওয়া হয়। উল্লেখ্য, অর্থ দেওয়ার সময় সংস্থাটির কোনো নিবন্ধন ছিল না এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের তদন্ত টিম তাদের কোনো স্থায়ী অফিস বা অর্থ ব্যয়ের যথাযথ নথিপত্র খুঁজে পায়নি। এমনকি ১১ জানুয়ারির ব্যাংকার্স সভায় এই অর্থায়নের বিষয়ে উত্তাপিত আপত্তিগুলো কার্যবিবরণী থেকে বাদ দেওয়ারও অভিযোগ উঠেছে।
১৪২ কোটি টাকার বিশাল অপচয়: নোটিশ অনুযায়ী, নির্বাচন কমিশনসহ ছয়টি মন্ত্রণালয় ‘হ্যাঁ’ ভোটের প্রচারণায় প্রায় ১৪২ কোটি টাকা ব্যয় করেছে। রাষ্ট্রীয় কোষাগারের এই বিপুল অর্থ ব্যয় করার কোনো আইনগত ক্ষমতা অন্তর্বর্তী সরকারের নেই বলে নোটিশে দাবি করা হয়েছে।
নোটিশে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, ব্যাংকগুলো প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় থেকে সরাসরি ‘হ্যাঁ’ ভোট সমর্থনের নির্দেশনা পাওয়ার পরই এই অর্থ প্রদান করেছে। এর দায়ভার প্রধান উপদেষ্টা ও তাঁর কার্যালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ওপর বর্তায় বলে নোটিশে দাবি করা হয়েছে।
লিগ্যাল নোটিশে দাবি করা হয়েছে যে, এই বৃহৎ দুর্নীতির বিষয়ে আগামী ১৫ দিনের মধ্যে জরুরি ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। অন্যথায়, আইনের শাসন রক্ষা এবং জনস্বার্থে উচ্চ আদালতে রিট আবেদনসহ যথাযথ আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

