ই'সরা'ইলে'র বি'রু'দ্ধে জরুরি এবং সুনির্দিষ্ট ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত
অ্যাডভোকেট মোঃ জুয়েল আজাদ

হামের টিকা দেয়া কর্মসূচি বন্ধে ড. ইউনূস রাষ্ট্রের অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি (VVIP) ঘোষণা বাতিল করা প্রয়োজন

ড. ইউনূসকে রাষ্ট্রের ‘অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি’ (VVIP) ঘোষণা করে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে ‘বিশেষ নিরাপত্তা বাহিনী আইন, ২০২১’-এর ধারা ২(ক)-এর ক্ষমতাবলে ১০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ তারিখে প্রকাশিত প্রজ্ঞাপনটি বাতিল করা এখন সময়ের দাবি।

অন্তর্বর্তী সরকারের সময় গৃহীত অধিকাংশ কর্মকাণ্ড এবং বিভিন্ন ‘কালো আইন’ অর্ডিন্যান্স আকারে দেশের ওপর চাপিয়ে দেওয়ার ফলে ড. ইউনূসের প্রতি জনমনে ব্যাপক ক্ষোভ ও বিদ্বেষ তৈরি হয়েছে। তাঁর অন্তর্বর্তীকালীন শাসন নিয়ে রয়েছে তীব্র সমালোচনা। নিজের এবং ঘনিষ্ঠজনদের সুবিধা দিতে রাষ্ট্রযন্ত্রকে তিনি ব্যক্তিগত স্বার্থে ব্যবহার করেছেন—এ কথা বললে অত্যুক্তি হবে না।

এটি আরও বিশ্বাসযোগ্য হয়ে ওঠে যখন আমরা দেখি তাঁর নিজস্ব গ্রামীণ প্রতিষ্ঠানের নামে বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন এবং তাঁর প্রতিষ্ঠান ‘গ্রামীণ কল্যাণ’-এর কাছ থেকে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের পাওনা ৬৬৬ কোটি টাকারও বেশি কর মওকুফ করা হয়েছে। এছাড়া ২০২৪ সালের অক্টোবর মাসে সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগ কর্তৃক খারিজ হওয়া রিটের আদেশ প্রত্যাহার করার বিষয়টিও জনমনে নানা প্রশ্নের উদ্রেক করেছে।

আরও পড়ুন : সংবিধান চিন্তার বিভ্রম

সম্প্রতি শিশুদের বিনামূল্যে প্রদত্ত সরকারি টিকাদান কর্মসূচি (EPI)-এর আওতাভুক্ত হামের টিকা প্রদান কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হওয়ার খবর পাওয়া যাচ্ছে। এই টিকা শিশুদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ৯৫% বৃদ্ধি করে। হাম একটি দীর্ঘস্থায়ী ভাইরাসজনিত রোগ। বাংলাদেশের আবহাওয়া ও জীবনমান বিবেচনায় এই সংক্রমণকে সর্বদা নিবিড় নজরদারির মধ্যে রাখা হতো। সেই প্রেক্ষাপটে এটি সরকারি কর্মসূচির আওতায় এনে সারাদেশে শিশুদের ৯ মাস বয়সে প্রথম ডোজ এবং ১৫ মাস বয়সে দ্বিতীয় ডোজ প্রদানের ব্যবস্থা করা হয়েছিল। ২০২৪ সাল পর্যন্ত সরকারি উদ্যোগে এই কার্যক্রম সফলভাবে চলে আসছিল।

কিন্তু ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট পরবর্তী সময়ে ড. ইউনূস রাষ্ট্রক্ষমতায় আসার পর, কথিত ‘অপ্রয়োজনীয় সংস্কার’ এবং ব্যক্তিগত অর্জনের প্রচারণায় ব্যস্ত হয়ে পড়ায় এই গুরুত্বপূর্ণ টিকাদান কর্মসূচি স্থবির হয়ে পড়েছে। এর ফলে ১৫ মার্চ পর্যন্ত প্রায় ৩৪৩টি শিশু হামে আক্রান্ত হয়ে প্রাণ হারিয়েছে, যা বর্তমান সরকারের চরম ব্যর্থতা এবং একে এক প্রকার ‘হত্যাকাণ্ড’-এর সমতুল্য মনে করা যেতে পারে।

এমন ব্যক্তিকে রাষ্ট্রের উচ্চপদে আসীন করা এবং গুরুত্বপূর্ণ নীতিনির্ধারক ও প্রশাসনিক কাজের সঙ্গে যুক্ত বিবেচনা করে সরকার যে ‘অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি’ (VVIP) হিসেবে গেজেট প্রকাশ করেছে, তা বাতিল করা এখন দেশের মর্যাদার স্বার্থে অপরিহার্য।

সুতরাং, ‘বিশেষ নিরাপত্তা বাহিনী (স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্স) আইন, ২০২১’-এর ধারা ২(ক) অনুযায়ী তিনি যে সুবিধা ভোগ করছেন, তা অনতিবিলম্বে বাতিল করে তাঁর বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।

লেখক : মো. জুয়েল আজাদ; আইনজীবী, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট