মোঃ মনিরুল ইসলাম মিয়া : বাংলাদেশের স্থানীয় সরকার কাঠামোয় ইউনিয়ন পরিষদ প্রজাতন্ত্রের প্রশাসনিক একাংশ (administrative unit of the Republic)” হিসেবে স্বীকৃত। স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) আইন, ২০০৯ এর ধারা ৮(১) অনুযায়ী, এই আইনের অধীন ঘোষিত প্রত্যেকটি ইউনিয়নকে সংবিধানের ১৫২(১) অনুচ্ছেদের সহিত পঠিতব্য ৫৯ অনুচ্ছেদের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে প্রজাতন্ত্রের প্রশাসনিক একাংশ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।
প্রশাসক নিয়োগ
সম্প্রতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে যে, ইউনিয়ন পরিষদের মেয়াদ বহাল থাকা অবস্থায় আইনগতভাবে নির্বাচিত ও দায়িত্বপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানদের স্থলে প্রশাসক নিয়োগ প্রদান করা হচ্ছে। এই ধরনের পদক্ষেপ স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার সাংবিধানিক কাঠামো ও বিধিবদ্ধ আইনের মৌলিক নীতির পরিপন্থী ।
প্রশাসক নিয়োগ সংক্রান্ত পূর্বের বিধান
স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) আইন, ২০০৯ এর ধারা ১৮(১) অনুযায়ী, কোনো এলাকাকে ইউনিয়ন ঘোষণার পর উক্ত ইউনিয়নের কার্যাবলী সম্পাদনের জন্য সরকার একজন উপযুক্ত কর্মকর্তাকে প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ করিবে এবং এই আইনের বিধান অনুযায়ী নির্বাচিত পরিষদ গঠন না হওয়া পর্যন্ত প্রশাসক ইউনিয়ন পরিষদের যাবতীয় দায়িত্ব পালন করিবেন। তবে শর্ত থাকে যে, উক্ত প্রশাসক ১২০ (একশত বিশ) দিনের অধিক দায়িত্ব পালন করিতে পারিবেন না এবং কোনো দৈব-দুর্বিপাকের কারণে নির্বাচিত পরিষদ গঠন সম্ভব না হলে সরকার উক্ত মেয়াদ সর্বোচ্চ ৬০ (ষাট) দিন পর্যন্ত বৃদ্ধি করিতে পারিবে।
স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) আইন, ২০০৯ এর ধারা ১৮ সংশোধন
পরবর্তীতে স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) (সংশোধন) আইন, ২০২৪ (২০২৪ সনের ৭ নং আইন) দ্বারা ধারা ১৮(১) সংশোধন করা হয়। সংশোধিত বিধানে বলা হয়েছে যে, কোনো এলাকাকে ইউনিয়ন ঘোষণার বা পরিষদের মেয়াদ উত্তীর্ণ হওয়ার পর সরকার একজন “উপযুক্ত কর্মকর্তা বা উপযুক্ত ব্যক্তি” কে প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ করিবে এবং নির্বাচিত পরিষদ গঠন না হওয়া পর্যন্ত তিনি দায়িত্ব পালন করবেন।
এখানে উল্লেখযোগ্য যে, পূর্বে প্রশাসকের দায়িত্বকাল ১২০ দিন এবং বিশেষ ক্ষেত্রে অতিরিক্ত ৬০ দিনের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল, যা একটি নির্দিষ্ট ও নিয়ন্ত্রিত সময়সীমা নিশ্চিত করত; কিন্তু সংশোধনের মাধ্যমে উক্ত সময়সীমা কার্যত অনির্দিষ্ট করা হয়েছে, ফলে প্রশাসক নিয়োগ ও প্রশাসন পরিচালনা দীর্ঘস্থায়ী ও অনিয়ন্ত্রিত হওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।
এছাড়াও, সংশোধিত বিধানে “উপযুক্ত কর্মকর্তা বা উপযুক্ত ব্যক্তি” নির্ধারণের ক্ষেত্রে কোনো সুস্পষ্ট আইনগত মানদণ্ড, যোগ্যতা নির্ধারণের নীতিমালা বা গাইডলাইন নির্ধারিত হয়নি। ফলে এটি প্রশাসনের উপর একটি unguided and unfettered discretion প্রদান করে। এই ধরনের অস্পষ্ট বিধান বাস্তবে “pick and choose policy” -এর সুযোগ তৈরি করে, যেখানে ব্যক্তিগত পছন্দ, প্রশাসনিক প্রভাব বা অদৃশ্য বিবেচনার ভিত্তিতে নিয়োগ প্রদানের ঝুঁকি থেকে যায়, যা স্বেচ্ছাচারিতার (arbitrariness) জন্ম দেয়।
অধিকন্তু, একই কর্মকর্তা যদি তাঁর মূল প্রশাসনিক দায়িত্বের পাশাপাশি ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসকের অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করেন, তবে তা প্রশাসনিক কার্যকারিতায় বিভাজন সৃষ্টি করে এবং জনগণের প্রতি সেবার মান ও গতিশীলতা (efficiency in public service delivery) মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। এটি good governance ও administrative accountability-এর মৌলিক নীতির সাথে অসামঞ্জস্যপূর্ণ।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, সংশোধিত বিধানে প্রশাসকের দ্বারা কোনো অনিয়ম, ক্ষমতার অপব্যবহার বা দায়িত্ব পালনে অবহেলার ক্ষেত্রে তার বিরুদ্ধে কী ধরনের আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে—সে বিষয়ে কোনো স্পষ্ট বিধান নেই। এই ধরনের accountability vacuum প্রশাসনিক জবাবদিহিতা দুর্বল করে এবং ক্ষমতার অপব্যবহার প্রতিরোধে কার্যকর আইনগত সুরক্ষা অনুপস্থিত রাখে। ফলে পুরো কাঠামোটি একদিকে যেমন অনিয়ন্ত্রিত ক্ষমতা প্রয়োগের সুযোগ সৃষ্টি করে, অন্যদিকে নাগরিক অধিকার সুরক্ষার ক্ষেত্রে গুরুতর শূন্যতা তৈরি করে।
বিভাগীয় ব্যবস্থা ব্যতিত দায়িত্ব অর্পণ
সম্প্রতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে যে, ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানদের মেয়াদ বহাল থাকা অবস্থায় অনুপস্থিত দেখিয়ে বা অনুপস্থিতির কথা বলে স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) আইন, ২০০৯ এর ধারা ১০১ ও ১০২ প্রয়োগপূর্বক চেয়ারম্যানদের স্থলে সরকারি কর্মকর্তাদের দায়িত্ব প্রদান করা হচ্ছে। কিন্তু বাস্তবে দেখা যায়, সংশ্লিষ্ট চেয়ারম্যানদের বিরুদ্ধে কোনো সাময়িক বরখাস্তাদেশ প্রদান বা বিধিসম্মত বিভাগীয় কার্যক্রম গ্রহণ না করেই এই দায়িত্ব অর্পণ করা হচ্ছে, যা আইনগতভাবে প্রশ্নবিদ্ধ।
উল্লেখ্য যে, উক্ত আইনের ধারা ৭৪(১) অনুযায়ী, যদি সরকারের নিকট প্রতীয়মান হয় যে কোনো পরিষদ বা চেয়ারম্যান আইন বা সরকারের আদেশ অনুযায়ী নির্ধারিত দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়েছেন, তবে সরকার বা সরকার কর্তৃক নির্ধারিত কর্তৃপক্ষ লিখিত আদেশের মাধ্যমে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে উক্ত দায়িত্ব পালনের জন্য সংশ্লিষ্ট পরিষদ বা চেয়ারম্যানকে নির্দেশ প্রদান করিতে পারে।
পরবর্তীতে, ধারা ৭৪(২) অনুযায়ী, যদি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি উক্ত দায়িত্ব পালন বা নির্দেশ প্রতিপালনে ব্যর্থ হন, তবে সরকার তাহাদের যুক্তিসংগত সুযোগ প্রদানপূর্বক কারণ দর্শানোর নির্দেশ দিবে এবং পরবর্তী পর্যায়ে প্রয়োজনবোধে কোনো কর্মকর্তা বা কর্তৃপক্ষকে উক্ত দায়িত্ব পালনের জন্য নিয়োগ করিতে পারিবে। একইসঙ্গে, এই প্রক্রিয়ার সাথে সংশ্লিষ্ট ব্যয় পরিষদের তহবিল অথবা প্রযোজ্য ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির ব্যক্তিগত তহবিল হইতে বহনের নির্দেশও প্রদান করা যাইতে পারে।
অতএব, ধারা ৭৪-এ নির্ধারিত এই সুস্পষ্ট প্রক্রিয়া অনুসরণ ব্যতিরেকে সরাসরি চেয়ারম্যানদের কার্যাবলী থেকে অপসারণসদৃশভাবে সরকারি কর্মকর্তাদের দায়িত্ব প্রদান করা আইনের বিধান পরিপন্থী বলিয়া প্রতীয়মান হয়।
এছাড়াও, এই ধরনের পদক্ষেপ principles of natural justice-এর সুস্পষ্ট লঙ্ঘন ঘটায়। বিশেষত—
- Audi alteram partem (right to be heard) নীতির লঙ্ঘন: সংশ্লিষ্ট চেয়ারম্যানকে কোনো পূর্বশুনানির সুযোগ বা কারণ দর্শানোর যুক্তিসংগত সুযোগ প্রদান না করেই তার ক্ষমতা হস্তান্তর করা হলে তা ন্যায্য বিচারনীতির পরিপন্থী।
- Rule against arbitrary action: আইন দ্বারা নির্ধারিত ধাপসমূহ (notice, opportunity to comply, show cause) অনুসরণ না করে সরাসরি প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ গ্রহণ করা arbitrary exercise of power হিসেবে গণ্য হতে পারে।
- Reasoned order-এর অভাব: প্রশাসনিক ক্ষমতা প্রয়োগের ক্ষেত্রে যথাযথ কারণ ও লিখিত যুক্তি থাকা বাধ্যতামূলক হলেও, এ ক্ষেত্রে অনেক সময় তা অনুপস্থিত থাকে।
- Legitimate expectation লঙ্ঘন: নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি হিসেবে চেয়ারম্যানগণ আইনানুগ প্রক্রিয়া অনুসরণ ছাড়া দায়িত্বচ্যুত হবেন না—এমন একটি যুক্তিসংগত প্রত্যাশা বিদ্যমান থাকে, যা এভাবে ক্ষুণ্ণ হয়।
সুতরাং, উপরোক্ত আইনগত বিধান ও ন্যায়বিচারের মৌলিক নীতিমালা বিবেচনায়, ধারা ৭৪-এর বাধ্যতামূলক প্রক্রিয়া অনুসরণ ব্যতীত সরকারি কর্মকর্তাদের মাধ্যমে ইউনিয়ন পরিষদের কার্যাবলী পরিচালনা করা ultra vires, arbitrary and violative of natural justice বলিয়া প্রতীয়মান হয়।
সাংবিধানিক কাঠামো ও বাধ্যবাধকতা
বাংলাদেশের সংবিধানের ১১ অনুচ্ছেদে সুস্পষ্টভাবে বলা হয়েছে যে, প্রজাতন্ত্র একটি গণতন্ত্র, যেখানে রাষ্ট্রীয় শাসনব্যবস্থার সকল স্তরে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের মাধ্যমে জনগণের কার্যকর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা হবে। অর্থাৎ, প্রশাসনিক কাঠামোর মূল ভিত্তি হলো গণতান্ত্রিক প্রতিনিধিত্ব ও জনগণের অংশগ্রহণ।
সংবিধানের ৫৯ অনুচ্ছেদে আরও বিধান করা হয়েছে যে, প্রজাতন্ত্রের প্রত্যেক প্রশাসনিক একাংশের স্থানীয় শাসনভার আইন অনুযায়ী নির্বাচিত ব্যক্তিদের সমন্বয়ে গঠিত স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের উপর ন্যস্ত থাকবে। এর মাধ্যমে স্থানীয় পর্যায়ের শাসন ব্যবস্থাকে কেন্দ্রীয় প্রশাসন থেকে পৃথক করে জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের হাতে ন্যস্ত করার সাংবিধানিক নিশ্চয়তা প্রদান করা হয়েছে।
অন্যদিকে, ৬০ অনুচ্ছেদে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানসমূহকে কার্যকর ও সক্ষমভাবে পরিচালনার জন্য সংসদকে প্রয়োজনীয় আইন প্রণয়নের ক্ষমতা প্রদান করা হয়েছে, যাতে এসব প্রতিষ্ঠান তাদের দায়িত্ব ও কার্যাবলী স্বাধীনভাবে ও কার্যকরভাবে সম্পাদন করতে পারে।
তদুপরি, সংবিধানের ১৫২(১) অনুচ্ছেদে “প্রশাসনিক একাংশ” শব্দটির সংজ্ঞা প্রদান করা হয়েছে, যার মাধ্যমে বোঝানো হয়েছে যে, ৫৯ অনুচ্ছেদের উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের জন্য আইন দ্বারা নির্ধারিত সকল প্রশাসনিক এলাকা এই পরিধির অন্তর্ভুক্ত হবে।
সুতরাং, উপরোক্ত সাংবিধানিক বিধানসমূহ সম্মিলিতভাবে এই নীতিকে প্রতিষ্ঠিত করে যে স্থানীয় শাসনব্যবস্থা মূলত নির্বাচিত প্রতিনিধিদের উপর ন্যস্ত থাকবে এবং প্রশাসনিক হস্তক্ষেপের ক্ষেত্রে সাংবিধানিক কাঠামো ও গণতান্ত্রিক প্রতিনিধিত্বের নীতিকে যথাযথভাবে অনুসরণ করা আবশ্যক।
আদালতের সিদ্ধান্ত
Kudrat-e-Elahi Panir v. Bangladesh মামলায় আপিল বিভাগ উল্লেখ করেন যে, সংবিধানের ৫৯, ৯ ও ১১ অনুচ্ছেদের আলোকে স্থানীয় সরকার রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক কাঠামোর একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। সংসদ স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাকে পরিবর্তন বা পুনর্গঠন করতে পারলেও পুরো ব্যবস্থাকে বিলুপ্ত করা যাবে না। মামলায় আরও পর্যবেক্ষণ করা হয় যে, কোনো স্থানীয় সরকার স্তর বিলুপ্ত করার পর তার ক্ষমতা কোনো অ-নির্বাচিত ব্যক্তি বা সংস্থার নিকট ন্যস্ত করা যাবে না, এমনকি সাময়িক সময়ের জন্যও নয়।
উপরোক্ত আইনগত ও সাংবিধানিক বিশ্লেষণ থেকে প্রতীয়মান হয় যে, ইউনিয়ন পরিষদের মেয়াদ চলাকালীন নির্বাচিত চেয়ারম্যানদের অপসারণ করে প্রশাসক নিয়োগ প্রদান এবং তাদের মাধ্যমে পরিষদের ক্ষমতা পরিচালনা করা সংবিধানের ১১, ৫৯ ও ৬০ অনুচ্ছেদের মূল চেতনার সাথে অসঙ্গতিপূর্ণ। স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) আইন, ২০০৯ অনুযায়ী ইউনিয়ন পরিষদ একটি নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিভিত্তিক প্রতিষ্ঠান, যেখানে চেয়ারম্যান ও সদস্যগণ সরাসরি জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে দায়িত্ব পালন করেন। এ অবস্থায় মেয়াদ চলমান থাকা সত্ত্বেও নির্বাচিত প্রতিনিধিদের কার্যত সরিয়ে প্রশাসক নিয়োগ প্রদান করা হলে তা আইনের উদ্দেশ্য ও কাঠামোর সাথে অসঙ্গতিপূর্ণ হয়ে দাঁড়ায়।
একইসঙ্গে, বাংলাদেশের সংবিধানের ১১ অনুচ্ছেদে প্রজাতন্ত্রকে একটি গণতন্ত্র হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে, যেখানে প্রশাসনের সকল স্তরে জনগণের কার্যকর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার নীতি প্রতিষ্ঠিত। ৫৯ অনুচ্ছেদে স্থানীয় শাসনব্যবস্থা নির্বাচিত প্রতিনিধিদের মাধ্যমে পরিচালিত হওয়ার বাধ্যবাধকতা আরোপ করা হয়েছে এবং ৬০ অনুচ্ছেদে এই স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানসমূহকে কার্যকরভাবে পরিচালনার জন্য আইন প্রণয়নের ক্ষমতা সংসদের উপর ন্যস্ত করা হয়েছে।
পরিশেষে, এই সাংবিধানিক বিধানসমূহ সম্মিলিতভাবে একটি সুস্পষ্ট নীতি প্রতিষ্ঠা করে যে, স্থানীয় শাসনব্যবস্থার মূল ভিত্তি হবে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি, প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের দ্বারা বিকল্প ব্যবস্থাপনা নয়। অতএব, মেয়াদ বহাল থাকা অবস্থায় নির্বাচিত চেয়ারম্যানদের কার্যত পাশ কাটিয়ে প্রশাসক নিয়োগ প্রদান করা হলে তা সংবিধানের ১১, ৫৯ ও ৬০ অনুচ্ছেদের মূল চেতনা ও বিধানকে লঙ্ঘন করে এবং স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) আইন, ২০০৯-এর প্রতিনিধিত্বমূলক শাসন কাঠামোকেও দুর্বল করে দেয়।
লেখক : মোঃ মনিরুল ইসলাম মিয়া, আইনজীবী, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট। ই-মেইল: Lexzonelawchambers@gmail.com

