ফেনী জেলা জজ আদালত
ফেনী জেলা জজ আদালত

ফেনীতে আদালত কক্ষেই বিচারকের সামনে গৃহবধূর বিষপান; স্বামী কারাগারে

ফেনীর ফুলগাজী আমলী আদালতে বিচারকের সামনেই বিষপান করে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন তাহমিনা আক্তার মোহনা (২০) নামে এক গৃহবধূ। দাম্পত্য কলহ ও স্বামীর পৈশাচিক নির্যাতনের প্রতিকার না পেয়ে ক্ষোভ ও অভিমানে তিনি এই চরম পথ বেছে নেন। রোববার (১০ মে) দুপুরে আদালত চত্বরে এই চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটে। এই ঘটনার পরপরই আদালত মোহনার স্বামী আকবর হোসেনের জামিন বাতিল করে তাঁকে সরাসরি কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন।

আদালত ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, ফেনী সদর উপজেলার পশ্চিম রামপুর এলাকার মিজানুর রহমানের মেয়ে তাহমিনা আক্তার মোহনার সঙ্গে ফুলগাজী উপজেলার বিজয়পুর গ্রামের জাফর আহমদের ছেলে আকবর হোসেনের প্রেমের সম্পর্কের মাধ্যমে বিয়ে হয়। মোহনার অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই তাঁদের মধ্যে বনিবনা হচ্ছিল না। তাঁর স্বামী ইতিপূর্বে একাধিক বিয়ে করেছেন এবং প্রথম স্ত্রীর প্ররোচনায় মোহনার ওপর নিয়মিত অমানুষিক মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন চালানো হতো। এই নির্যাতনের বিচার চেয়ে মোহনা তাঁর স্বামীর বিরুদ্ধে ফুলগাজী আমলী আদালতে একটি সিআর মামলা (নম্বর-২৬) দায়ের করেন।

আরও পড়ুন : স্বামীকে ফাঁসাতে চেক জালিয়াতির মিথ্যা মামলা করে কারাগারে স্ত্রী

রোববার মামলাটির নির্ধারিত ধার্য তারিখ ছিল। ফুলগাজী আমলী আদালতের পেশকার জসিম উদ্দিন জানান, মামলার শুনানিকালে আসামি আকবর হোসেন স্থায়ী জামিনের আবেদন করেন। অন্যদিকে, ভিকটিম মোহনা আসামির জামিন বাতিলের জোর দাবি জানান। মোহনা আদালতে দাঁড়িয়ে অভিযোগ করেন যে, তাঁর স্বামী তাঁকে সাথে রাখতে চান না এবং প্রথম স্ত্রীর দুর্ব্যবহার ও স্বামীর নির্যাতনে তিনি অতিষ্ঠ।

শুনানি চলাকালে মোহনা চিৎকার করে বিচারকের উদ্দেশ্যে বলেন, “আজ যদি এই ঘটনার সুষ্ঠু সমাধান না হয়, তবে আমি বিষ খাবো।” এর কিছুক্ষণ পরই তিনি সবার চোখের সামনে সাথে রাখা বিষপান করে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। তাৎক্ষণিকভাবে স্বজন ও উপস্থিত লোকজন তাঁকে উদ্ধার করে দ্রুত ফেনী সদর হাসপাতালে নিয়ে যান।

প্রকাশ্য আদালত কক্ষে এমন ঘটনার গুরুত্ব ও সংবেদনশীলতা বিবেচনা করে আদালতের বিচারক মোহাম্মদ মিনহাজ উদ্দিন আসামি আকবর হোসেনের জামিন নামঞ্জুর করেন এবং তাঁকে সরাসরি কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। বর্তমানে মোহনা ফেনী সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

মোহনার শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে ফেনী সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক (চলতি দায়িত্ব) ও সিভিল সার্জন ডা. রুবাইয়াত বিন করিম জানান, রোগীটিকে বিষক্রিয়ার কারণে হাসপাতালে আনা হয়েছে। তাঁকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সেবা প্রদান করা হচ্ছে।

এই ঘটনায় আদালত প্রাঙ্গণে উপস্থিত আইনজীবীদের মধ্যে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। অনেকে বলছেন, বিচার পাওয়ার আশায় কোনো গৃহবধূর এমন চরম সিদ্ধান্ত নেওয়া বিচার ব্যবস্থার জন্য একটি অত্যন্ত দুঃখজনক ঘটনা।