পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ও তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আজ এক ভিন্নরূপে ধরা দিলেন কলকাতা হাইকোর্টে। দীর্ঘ ১৫ বছর রাজ্য শাসনের পর সদ্য সমাপ্ত নির্বাচনে পরাজয়ের রেশ কাটতে না কাটতেই তিনি তাঁর পুরনো পেশা ‘আইনজীবী’ হিসেবে আদালত কক্ষে প্রবেশ করেন।
২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর তৃণমূল কর্মীদের ওপর কথিত হামলা ও সহিংসতার অভিযোগে দায়ের করা একটি জনস্বার্থ মামলায় (PIL) তিনি আজ সশরীরে অংশ নেন। বৃহস্পতিবার দুপুরে প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল এবং বিচারপতি পার্থসারথি সেনের সমন্বয়ে গঠিত ডিভিশন বেঞ্চে এই মামলার শুনানি শুরু হয়।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এদিন আইনজীবীদের নির্ধারিত কালো গাউন এবং ব্যান্ড পরে আদালতে উপস্থিত হন। তাঁর সাথে ছিলেন তৃণমূলের প্রবীণ নেতা ও আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়সহ দলের আইনি সেলের সদস্যরা। ভারতের ইতিহাসে কোনো রাজ্যের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী পদ হারানোর পরপরই এভাবে আইনজীবীর পোশাকে নিজের দলের হয়ে আদালতে সওয়াল করছেন—এমন ঘটনা বিরল।
শুনানি চলাকালীন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আবেগপূর্ণ কণ্ঠে আদালতকে বলেন, “এটি কোনো বুলডোজার রাজ্য নয়। বাংলা শান্তি ও সম্প্রীতির জায়গা।” তিনি অভিযোগ করেন, নির্বাচনের পর থেকে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে তৃণমূলের কার্যালয় ভাঙচুর করা হচ্ছে এবং দলীয় কর্মীদের ওপর সহিংসতা চালানো হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, “আইনজীবী হিসেবে আমি আজ সত্যের লড়াই করতে এসেছি। পুলিশ ও প্রশাসনের উপস্থিতিতেও সাধারণ মানুষ আক্রান্ত হচ্ছে, আমি তাদের সুরক্ষা চাই।”
আরও পড়ুন : মাইকেল মধুসূদন দত্ত: ব্যারিস্টার হয়ে ওঠার গল্প এবং এ পেশায় তাঁর মূল্যায়ন
উল্লেখ্য যে, ২০২৬ সালের এপ্রিল-মে মাসে অনুষ্ঠিত বিধানসভা নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গে বড় ধরনের রাজনৈতিক পরিবর্তন আসে। দীর্ঘ ১৫ বছর ক্ষমতায় থাকার পর তৃণমূল কংগ্রেস পরাজিত হয় এবং ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) রাজ্যে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে সরকার গঠনের পথে রয়েছে। এই পটপরিবর্তনের পরপরই রাজ্যে ব্যাপক সহিংসতার অভিযোগ উঠতে শুরু করে। তৃণমূলের অভিযোগ, বিজেপি কর্মীরা তাঁদের ওপর হামলা চালাচ্ছে। অন্যদিকে বিজেপি এই অভিযোগ অস্বীকার করে পাল্টা দাবি করেছে যে, এগুলো তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যখন আদালত কক্ষ থেকে বের হচ্ছিলেন, তখন সেখানে উপস্থিত একদল আইনজীবী তাঁকে লক্ষ্য করে ‘চোর চোর’ স্লোগান দেন বলে ভারতীয় গণমাধ্যমগুলো জানিয়েছে। এ নিয়ে আদালত চত্বরে কিছুক্ষণ উত্তেজনা বিরাজ করে। তৃণমূলের আইনজীবী সদস্যরা একে ‘বিজেপি প্রভাবিত আইনজীবীদের পরিকল্পিত অভদ্রতা’ বলে নিন্দা জানিয়েছেন।
বার কাউন্সিল অব ইন্ডিয়া (BCI) ইতিমধ্যেই মমতার এই আইনজীবী হিসেবে উপস্থিত হওয়ার বিষয়টি নিয়ে নথিপত্র যাচাইয়ের প্রক্রিয়া শুরু করেছে। কারণ দীর্ঘ সময় মুখ্যমন্ত্রী থাকাকালীন তাঁর ওকালতি করার লাইসেন্স স্থগিত ছিল কিনা বা তিনি যথাযথ প্রক্রিয়ায় পুনরায় প্র্যাকটিস শুরু করেছেন কিনা—তা খতিয়ে দেখছে কাউন্সিল।

