কোর্ট রিপোর্টার, ঢাকা | সাড়ে চার বছরেও একটি ধর্ষণ ও হত্যা মামলার বিচার শেষ না হওয়ার প্রেক্ষাপটে হাইকোর্টের তলবে হাজির হয়ে সশরীরে ব্যাখ্যা দাখিল করেছেন হবিগঞ্জের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৩–এর বিচারক সৈয়দা মিনহাজ উম মুনীরা। দাখিলকৃত ব্যাখ্যা সন্তোষজনক হওয়ায় হাইকোর্ট ওই বিচারককে ব্যক্তিগত হাজিরা থেকে অব্যাহতি প্রদান করেছেন।
গত মঙ্গলবার (২৩ জুন) বিচারপতি কে এম ইমরুল কায়েশ ও বিচারপতি মো. সগীর হোসেনের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চে উপস্থিত হয়ে এই ব্যাখ্যা দাখিল করেন ট্রাইব্যুনাল-৩–এর বিচারক সৈয়দা মিনহাজ উম মুনীরা।
আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ মহসিন কবির এবং আসামিপক্ষে ছিলেন আইনজীবী মো. আব্দুর রাজ্জাক।
মামলার প্রেক্ষাপট ও হাইকোর্টের তলবি আদেশ
সংশ্লিষ্ট আইনজীবীর তথ্য অনুসারে, ২০২১ সালের ২৮ ডিসেম্বর হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি ধর্ষণ ও গলায় চাকু মেরে হত্যার অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়। তদন্তকারী কর্মকর্তা অভিযোগপত্র দাখিল করার পর মামলাটি ২০২৩ সালের ১৬ জানুয়ারি ট্রাইব্যুনালের মামলা হিসেবে রেজিস্টারভুক্ত হয় এবং একই বছর আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়।
দীর্ঘদিন অতিবাহিত হলেও বিচার শেষ না হওয়ায় উক্ত মামলার আসামি গোলাম হোসেন জামিন চেয়ে চলতি বছর হাইকোর্টে আবেদন করেন। জামিন আবেদনের শুনানিকালে সাড়ে চার বছরেও মামলাটির বিচার শেষ না হওয়ার বিষয়টি হাইকোর্টের নজরে আসে। এর প্রেক্ষিতে গত ৯ জুন হাইকোর্ট এক আদেশে হবিগঞ্জের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৩–এর বিচারককে ২৩ জুন আদালতে উপস্থিত হয়ে লিখিত ব্যাখ্যা দেওয়ার নির্দেশ দেন।
বিচারকের ব্যাখ্যা ও জামিন আবেদন নাকচ
শুনানি শেষে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ মহসিন কবির বলেন, বিচারক সৈয়দা মিনহাজ উম মুনীরা গত বছরের ৮ সেপ্টেম্বর হবিগঞ্জের ট্রাইব্যুনাল-৩-এর বিচারক হিসেবে যোগদান করেন। তিনি তাঁর ব্যাখ্যায় উল্লেখ করেছেন যে, দায়িত্ব গ্রহণের পর ধার্য তারিখে সাক্ষী উপস্থিত না হওয়ায় তিনি বেশ কয়েকবার সাক্ষী হাজিরের জন্য পরোয়ানা জারি করেছেন। ইতিমধ্যে মামলাটির ছয়জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়েছে এবং এক আসামির স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি গ্রহণকারী সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের প্রতি সমন ইস্যু করা হয়েছে। তিনি মামলাটি দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য সর্বোচ্চ সচেষ্ট বলেও ব্যাখ্যায় উল্লেখ করেন।
তাঁর এই সার্বিক পদক্ষেপ ও লিখিত ব্যাখ্যা সন্তোষজনক বিবেচনা করে হাইকোর্ট ট্রাইব্যুনালের বিচারককে ব্যক্তিগত হাজিরা থেকে অব্যাহতি প্রদান করেন। অন্যদিকে, আসামিপক্ষের আইনজীবী মো. আবদুর রাজ্জাক জানান, হাইকোর্ট মূল আসামি গোলাম হোসেনের জামিন আবেদনটি মঞ্জুর করেননি এবং এই বিষয়ে পরবর্তী আদেশের জন্য আগামী ১০ আগস্ট তারিখ ধার্য রেখেছেন।

