বিশেষ প্রতিনিধি, কলম্বো (শ্রীলঙ্কা) | শ্রীলঙ্কার কলম্বোতে অনুষ্ঠিত শিশুদের বিরুদ্ধে সহিংসতা বন্ধে দক্ষিণ এশীয় মন্ত্রী পর্যায়ের সম্মেলনে বাংলাদেশের পক্ষে জাতীয় অঙ্গীকারসমূহ ঘোষণা করেছেন সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন। গত ২৩–২৪ জুন, ২০২৬ তারিখে দু’দিনব্যাপী অনুষ্ঠিত এই সম্মেলনে তিনি বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন।
যৌথভাবে সার্ক (SAARC), ইউনিসেফ (UNICEF) এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) কর্তৃক আয়োজিত এই সম্মেলনে বাংলাদেশ, ভুটান, মালদ্বীপ, পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কার সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী এবং ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তাগণ অংশ নেন। এ ছাড়া সার্ক মহাসচিব এবং শিশুদের বিরুদ্ধে সহিংসতা বিষয়ক জাতিসংঘ মহাসচিবের বিশেষ প্রতিনিধিসহ বিভিন্ন উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল এই সম্মেলনে অংশগ্রহণ করেন।
বাংলাদেশের পক্ষে বক্তব্য উপস্থাপনকালে সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন সরকারের অবিচল অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে দেশের প্রতিটি শিশু যেন নিরাপদ, সুরক্ষিত, মর্যাদাপূর্ণ ও ক্ষমতায়িত পরিবেশে বেড়ে উঠতে পারে সে লক্ষ্যে বর্তমান সরকার নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
শিশু সুরক্ষায় বাংলাদেশের অগ্রগতি ও অঙ্গীকার
বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী শিশু সুরক্ষায় বাংলাদেশের উল্লেখযোগ্য অগ্রগতির নানাদিক তুলে ধরেন। তিনি দেশে জন্ম নিবন্ধনের হার বৃদ্ধি এবং শিশুদের ওপর সহিংস শাসন কমে আসার ইতিবাচক বিষয়টি বিশেষভাবে উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে সরকারের সমন্বিত শিশুশ্রম ও বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে চলমান প্রচেষ্টাকে আরো জোরদার করার ব্যাপারে বাংলাদেশের দৃঢ় অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।
প্রতিমন্ত্রী আরো বলেন, শক্তিশালী আইন প্রণয়ন, সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির সম্প্রসারণ এবং কমিউনিটিভিত্তিক শিশু সুরক্ষা ব্যবস্থার সুনির্দিষ্ট প্রসারের মাধ্যমে বাংলাদেশ গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি অর্জন করেছে। একই সঙ্গে তিনি দেশের সামগ্রিক শিশু সুরক্ষা ব্যবস্থা আরো জোরদার করা, শিশুদের ডিজিটাল নিরাপত্তা বৃদ্ধি এবং সহিংসতার শিকার শিশুদের জন্য জরুরি সেবা সম্প্রসারণের লক্ষ্যে বাংলাদেশের জাতীয় অঙ্গীকারসমূহ আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেন।
কলম্বোর বোগোতা কল টু অ্যাকশনে বাংলাদেশের সমর্থন
এই আন্তর্জাতিক সম্মেলনে বাংলাদেশ আনুষ্ঠানিকভাবে ‘শিশুদের বিরুদ্ধে সহিংসতা বন্ধে কলম্বোর বোগোতা কল টু অ্যাকশন’ এবং ‘শিশু সুরক্ষা ব্যবস্থা শক্তিশালীকরণ কাঠামো’-এর প্রতি জোরালো সমর্থন জানায়।
এর মাধ্যমে বাংলাদেশ পুনর্ব্যক্ত করেছে যে, দেশের শিশু সুরক্ষা ব্যবস্থা হতে হবে সম্পূর্ণ সক্রিয়, অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং সমাজ, অর্থনীতি বা ভৌগোলিক অবস্থান নির্বিশেষে প্রতিটি শিশুর জন্য সহজলভ্য। সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, শিশু সুরক্ষা ব্যবস্থা আরো শক্তিশালী করতে এবং সকল শিশুর জন্য একটি নিরাপদ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতায় কাজ করে যাবে।
উল্লেখ্য, এই গুরুত্বপূর্ণ বৈশ্বিক সম্মেলনে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের সদস্য হিসেবে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব ইয়াসমীন পারভীন, এনডিসি এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পরিচালক মাহফুজা সুলতানাও অংশগ্রহণ করেন।

