৫০ কোটি ডলার ক্ষতিপূরণ চেয়ে ট্রাম্পের সাবেক আইনজীবীর বিরুদ্ধে মামলা
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে আইসিসির ৩ বিচারকের মামলা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক | আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) তিনজন বিচারক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং তাঁর প্রশাসনের বিরুদ্ধে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ম্যানহাটানের ফেডারেল আদালতে একটি মামলা দায়ের করেছেন। গত বছর ট্রাম্প প্রশাসন কর্তৃক তাঁদের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞাকে সম্পূর্ণ বেআইনি আখ্যা দিয়ে গত বুধবার (২৪ জুন) তাঁরা এই আইনি পদক্ষেপ নেন।

আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর মামলার তথ্যটি প্রকাশ করা হয়েছে। মামলাকারী তিন আন্তর্জাতিক বিচারক হলেন— কানাডার বিচারক কিম্বারলি প্রোস্ট, উগান্ডার সলোমি বালুঙ্গি বোসা এবং বেনিনের রেইন অ্যাডিলেড সোফি অ্যালাপিনি গানসু।

তাঁরা আদালতে অভিযোগ করেন, বিচারবহির্ভূত অনৈতিক চাপ প্রয়োগের উদ্দেশ্যেই তাঁদের ওপর এই নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। এই নিষেধাজ্ঞার মূল লক্ষ্য হলো স্বাধীন বিচারিক কাজের জন্য তাঁদের শাস্তি দেওয়া এবং মার্কিন প্রশাসনের কাছে নতিস্বীকারে বাধ্য করা।

কেন নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিল ট্রাম্প প্রশাসন?

আদালতের নথি ও প্রেক্ষাপট থেকে জানা যায়, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি এবং আফগানিস্তানে মার্কিন সেনাদের যুদ্ধাপরাধের সুনির্দিষ্ট তদন্ত শুরুর সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণে গত বছর ট্রাম্প প্রশাসন ক্ষুব্ধ হয়ে আইসিসির বেশ কয়েকজন বিচারকের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল।

সেই নিষেধাজ্ঞার ফলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে থাকা ওই বিচারকদের সব সম্পত্তি জব্দ করা হয়। এর পাশাপাশি মার্কিন কোনো নাগরিক বা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে তাঁদের সব ধরনের আর্থিক লেনদেনও সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছিল।

আইনের লঙ্ঘন ও বিচারকদের ব্যক্তিগত ভোগান্তি

মামলার অভিযোগে বিচারকরা উল্লেখ করেছেন, ট্রাম্প প্রশাসনের এই নিষেধাজ্ঞা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব ‘আন্তর্জাতিক জরুরি অর্থনৈতিক ক্ষমতা আইন’-এর স্পষ্ট লঙ্ঘন। কোনো ধরনের প্রকৃত জাতীয় জরুরি অবস্থা বা অস্বাভাবিক হুমকির আইনি ভিত্তি ছাড়াই সম্পূর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মূলত বিচারকদের আর্থিক ও ব্যক্তিগত স্বার্থকে লক্ষ্যবস্তু করে তাঁদেরসহ আইসিসির অন্য বিচারকদের ওপর মনস্তাত্ত্বিক চাপ সৃষ্টির জন্য এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করা হয়।

নিষেধাজ্ঞার কারণে আন্তর্জাতিক এই বিচারকরা বর্তমানে চরম ব্যক্তিগত ও পেশাগত ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। তাঁরা অভিযোগে জানান, এই নিষেধাজ্ঞার ফলে তাঁরা এখন ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করতে পারছেন না, ব্যাংকিং সেবা গ্রহণ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন এবং আমাজন ও গুগলের মতো সাধারণ ও নিত্যপ্রয়োজনীয় অনলাইন প্ল্যাটফর্মগুলোও ব্যবহার করতে পারছেন না। এমনকি ভ্রমণের টিকিট বুকিং এবং অনেক ক্ষেত্রে জরুরি স্বাস্থ্যবীমা সুবিধা পাওয়া থেকেও তাঁরা বঞ্চিত হচ্ছেন। এর ফলে তাঁদের কাছে বিচারাধীন বা ভবিষ্যতের কোনো মামলায় সুষ্ঠুভাবে তথ্য-প্রমাণ ও আইনি যুক্তি উপস্থাপন করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে।