আইন অঙ্গন ডেস্ক | বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের নবগঠিত অ্যাডহক কমিটির প্রথম সভা আজ ১০ জুলাই ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ, শুক্রবার সকাল ১০:০টা থেকে নিজস্ব ভবনে অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় সর্বসম্মতিক্রমে সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন বার কাউন্সিলের নতুন ভাইস-চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন।
স্মারক নং-বা,বা,কা/তথ্য/২০২৬/সচিব-১৬ মূলে প্রকাশিত প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, নবগঠিত অ্যাডহক কমিটির প্রথম সভায় সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশের মাননীয় অ্যাটর্নি জেনারেল এবং পদাধিকারবলে বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের চেয়ারম্যান সিনিয়র অ্যাডভোকেট ব্যারিস্টার মোঃ রুহুল কুদ্দুস (কাজল)।
সভায় উপস্থিত ছিলেন অ্যাডহক কমিটির সদস্যবৃন্দ— সিনিয়র অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন, সিনিয়র অ্যাডভোকেট ব্যারিস্টার মোঃ বদরুদ্দোজা বাদল, অ্যাডভোকেট মাসুদ আহমেদ তালুকদার, অ্যাডভোকেট জসীম উদ্দিন সরকার, সিনিয়র অ্যাডভোকেট এ এইচ এম মুশফিকুর রহমান তুহিন, সিনিয়র অ্যাডভোকেট ব্যারিস্টার রাগীব রউফ চৌধুরী, অ্যাডভোকেট সরকার তাহমিনা বেগম সন্ধ্যা, সিনিয়র অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ হোসেন লিপু, সিনিয়র অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির, অ্যাডভোকেট মোঃ নাজিম উদ্দিন চৌধুরী, অ্যাডভোকেট আলী আসগর, অ্যাডভোকেট সৈয়দ নজরুল ইসলাম এবং সিনিয়র অ্যাডভোকেট মাহফুজুর রহমান মিলন।
১০টি প্রধান কমিটির নতুন চেয়ারম্যানের তালিকা
বাংলাদেশ লিগ্যাল প্র্যাকটিশনার্স অ্যান্ড বার কাউন্সিল অর্ডার, ১৯৭২ এবং প্রযোজ্য বিধিমালা অনুযায়ী বার কাউন্সিলের কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার লক্ষ্যে সদস্যদের মধ্য থেকে ১০টি সাব-কমিটির চেয়ারম্যান সর্বসম্মতিক্রমে নির্বাচিত করা হয়েছে:
১. ভাইস-চেয়ারম্যান: সিনিয়র অ্যাডভোকেট জনাব জয়নুল আবেদীন।
২. এক্সিকিউটিভ (কার্যনির্বাহী) কমিটি: সিনিয়র অ্যাডভোকেট জনাব ব্যারিস্টার মোঃ বদরুদ্দোজা বাদল।
৩. ফাইন্যান্স (অর্থ) কমিটি: সিনিয়র অ্যাডভোকেট জনাব এ এইচ এম মুশফিকুর রহমান তুহিন।
৪. লিগ্যাল এডুকেশন (আইনি শিক্ষা) কমিটি: সিনিয়র অ্যাডভোকেট জনাব ব্যারিস্টার রাগীব রউফ চৌধুরী।
৫. ল’ রিফর্ম (আইন সংস্কার) কমিটি: সিনিয়র অ্যাডভোকেট জনাব মাহফুজুর রহমান মিলন।
৬. হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড লিগ্যাল এইড (মানবাধিকার ও আইনি সহায়তা) কমিটি: অ্যাডভোকেট জনাব মাসুদ আহমেদ তালুকদার।
৭. হাউজ কমিটি: সিনিয়র অ্যাডভোকেট জনাব মোহাম্মদ হোসেন লিপু।
৮. রিলিফ (ত্রাণ) কমিটি: অ্যাডভোকেট জনাব সৈয়দ নজরুল ইসলাম।
৯. রোল অ্যান্ড পাবলিকেশন (তালিকাভুক্তি ও প্রকাশনা) কমিটি: সিনিয়র অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির।
১০. কমপ্লেইন্ট অ্যান্ড ভিজিলেন্স (অভিযোগ ও নজরদারি) কমিটি: অ্যাডভোকেট নাসির উদ্দিন অসীম।
আর্থিক সুবিধা বর্জন ও ব্যয়ে কৃচ্ছ্রসাধনের যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত
সভায় কাউন্সিল সদস্যবৃন্দ বার কাউন্সিলের ইতিহাসে সম্পূর্ণ নতুন ও অনন্য কিছু নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছেন:
-
ভাতা ও সম্মানী বর্জন: নবগঠিত কাউন্সিলের সকল সদস্য সর্বসম্মতিক্রমে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন যে, কাউন্সিল সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে আইন অনুযায়ী প্রাপ্য কোনো ট্রাভেল অ্যালাউন্স, সম্মানী, পারিতোষিক, যাতায়াত ভাতা কিংবা অন্য কোনো প্রকার আর্থিক সুবিধা তারা গ্রহণ করবেন না।
-
আপ্যায়ন খরচ বন্ধ: বার কাউন্সিলের তহবিল হতে কাউন্সিলের কোনো সভার আপ্যায়ন বাবদ কোনো অর্থ ব্যয় করা হবে না। কাউন্সিল সদস্যবৃন্দ সম্পূর্ণ নিজস্ব উদ্যোগে ও পর্যায়ক্রমে সভার আপ্যায়নের যাবতীয় ব্যয় বহন করবেন।
-
অতিরিক্ত অর্থ গ্রহণের তদন্ত: অতীতে কোনো কাউন্সিল সদস্য দায়িত্ব পালনকালীন সময়ে আইনগত প্রাপ্যতার অতিরিক্ত কোনো অর্থ গ্রহণ করে থাকলে তা তদন্ত করা হবে। তদন্তে প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট সদস্যকে উক্ত অর্থ বার কাউন্সিলের কোষাগারে ফেরত প্রদানের জন্য বলা হবে।
রেস্ট হাউসের বকেয়া আদায় ও আইনি ব্যবস্থার হুঁশিয়ারি
সভায় সদস্যবৃন্দ গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে জানান, বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের রেস্ট হাউসের ইজারাদার/ঠিকাদার দীর্ঘ দিন যাবৎ বার কাউন্সিলের প্রাপ্য অর্থ পরিশোধ না করেই ব্যবসায়িক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছেন, যার ফলে বার কাউন্সিল আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে।
এ প্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট ইজারাদারের নিকট হতে বার কাউন্সিলের সকল বকেয়া পাওনা অবিলম্বে আদায়ের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। প্রয়োজনে পাওনা আদায়ের নিমিত্তে দেওয়ানি ও ফৌজদারি মামলা দায়েরসহ সকল কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
সর্বোপরি, আইনজীবীদের কল্যাণ নিশ্চিতকরণ, নিয়মিত এনরোলমেন্ট ও হাইকোর্ট পারমিশন পরীক্ষা গ্রহণ, শিক্ষানবিসদের প্রশিক্ষণ কার্যক্রম গ্রহণ, পেশাগত দক্ষতা উন্নয়ন এবং আইনজীবীবান্ধব বিভিন্ন কর্মসূচি দ্রুত বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সভায় কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

