সরকার ও চার পত্রিকাকে এস আলম গ্রুপের আইনি নোটিশ
আইনি নোটিশ

ভারতে ইলিশ রপ্তানি বন্ধে আইনি নোটিশ, ভারতীয় আমদানিকারকদের বিরুদ্ধে পুনঃরপ্তানির অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশের জাতীয় সম্পদ ইলিশের মূল্যবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণ, সাধারণ ভোক্তার ক্রয়ক্ষমতা রক্ষা এবং আন্তর্জাতিক বাজারে ইলিশের পুনঃরপ্তানি (Re-export) চক্র বন্ধের দাবিতে সরকারকে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. মাহমুদুল হাসান মামুন (SCBA ID: 6202) জনস্বার্থে এ নোটিশ পাঠান।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব, মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (NBR) চেয়ারম্যান বরাবর নোটিশটি পাঠানো হয়েছে।

আইনি নোটিশে বলা হয়েছে, জাতীয় মাছ ইলিশ দেশের একটি মূল্যবান ভৌগোলিক নির্দেশক (GI) সম্পদ। অথচ বর্তমানে স্থানীয় খুচরা ও পাইকারি বাজারে এক কেজি ওজনের ইলিশের দাম প্রায় ২ হাজার ৬০০ থেকে ৩ হাজার টাকা, যা বর্তমান বিনিময় হারে প্রায় ২১ থেকে ২৫ মার্কিন ডলারের সমপরিমাণ।

নোটিশে দাবি করা হয়েছে, দেশের অভ্যন্তরে ইলিশের উচ্চমূল্যের কারণে সাধারণ নাগরিক, নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্য জাতীয় মাছ ইলিশ কেনা কঠিন হয়ে পড়েছে।

ভারতে কম দামে রপ্তানির অভিযোগ

নোটিশে অভিযোগ করা হয়েছে, বিগত বছরগুলোতে স্থানীয় বাজারের সংকট ও উচ্চমূল্য বিবেচনায় না নিয়ে ভারতে মাত্র ১০ মার্কিন ডলারে ইলিশ রপ্তানির নীতি অনুসরণ করা হয়েছিল।

নোটিশে আরও দাবি করা হয়, ভারতীয় আমদানিকারকদের ইলিশ আমদানির আগ্রহ শুধু অভ্যন্তরীণ চাহিদা পূরণের জন্য নয়; বরং তারা বাংলাদেশ থেকে কম দামে ইলিশ নিয়ে আন্তর্জাতিক বাজারে পুনঃরপ্তানি করে অতিরিক্ত মুনাফা করছে।

আইনি নোটিশে অভিযোগ করা হয়েছে, ভারতীয় আমদানিকারকরা বাংলাদেশ থেকে প্রায় ১০ মার্কিন ডলারে ইলিশ আমদানি করে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপের বিভিন্ন দেশে প্রতি কেজি ৪০ থেকে ৫০ মার্কিন ডলারে পুনঃরপ্তানি করছে।

এভাবে মধ্যস্বত্বভোগীদের মাধ্যমে ইলিশ রপ্তানি হলে বাংলাদেশ বিপুল বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে বলেও নোটিশে দাবি করা হয়েছে।

সরাসরি বিশ্ববাজারে রপ্তানির প্রস্তাব

নোটিশে সংবিধানের ২১(১) অনুচ্ছেদের কথা উল্লেখ করে বলা হয়েছে, আইন মান্য করা এবং রাষ্ট্রীয় সম্পত্তি রক্ষা করা প্রত্যেক নাগরিকের সাংবিধানিক দায়িত্ব।

তবে নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে, সরকার এখনো ভারতে ইলিশ রপ্তানির বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক অনুমতি বা চূড়ান্ত নীতিগত সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেনি। সাধারণ ভোক্তাদের স্বার্থ বিবেচনায় সম্ভাব্য ক্ষতিকর সিদ্ধান্ত ঠেকাতেই প্রতিরোধমূলক আইনি পদক্ষেপ হিসেবে নোটিশটি পাঠানো হয়েছে।

নোটিশে আরও বলা হয়েছে, রাষ্ট্রের যদি বৈদেশিক মুদ্রার প্রয়োজন হয়, তাহলে ভারতীয় মধ্যস্বত্বভোগীদের এড়িয়ে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপের বাজারে সরাসরি আন্তর্জাতিক মূল্যে উদ্বৃত্ত ইলিশ রপ্তানির জন্য স্বচ্ছ নীতিমালা গ্রহণ করা যেতে পারে।

৭ দিনের মধ্যে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি

আইনি নোটিশে আগামী ৭ দিনের মধ্যে ভারতে ইলিশ রপ্তানির যেকোনো প্রশাসনিক উদ্যোগ, নির্বাহী অনুমোদন বা নীতিগত সিদ্ধান্ত নিষিদ্ধ করার অনুরোধ জানানো হয়েছে।

একই সঙ্গে স্থানীয় বাজারে ইলিশের সর্বোচ্চ সরবরাহ নিশ্চিত করে দাম সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে নিয়ে আসা এবং ভারতীয় মধ্যস্বত্বভোগীদের এড়িয়ে সরাসরি বৈশ্বিক বাজারে ইলিশ রপ্তানির স্থায়ী নীতিমালা গ্রহণের দাবি জানানো হয়েছে।

নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এসব বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া না হলে নাগরিকদের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্বার্থ রক্ষায় বাংলাদেশের সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী হাইকোর্ট বিভাগে জনস্বার্থে রিট পিটিশন (PIL) দায়ের করা হবে বলে নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে।