সুপ্রিম কোর্ট বার সম্পাদকের দাবি ‘সভাপতি পদে কোনো নির্বাচন হয়নি’

সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির কোনো নির্বাচন মঙ্গলবার হয়নি বলে জানিয়েছেন সংগঠনটির সম্পাদক ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল। এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, আমরা স্পষ্টভাবে বলতে চাই, মঙ্গলবার কোনো ধরনের আলোচনা কিংবা সুপ্রিম কোর্ট বারের সভাপতি পদে কোনো নির্বাচন হয়নি।

৫ মে (বুধবার) দুপুরে সুপ্রিম কোর্টের শহীদ শফিউর রহমান মিলনায়তনে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
উক্ত সংবাদ সম্মেলনে কাজল বলেন, মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্ট বারের বিশেষ সাধারণ সভা আনুষ্ঠানিকভাবে শুরুর আগেই পরিস্থিতির কারণে সেটি স্থগিত করা হয়েছে। কোনো ধরনের আলোচনা কিংবা সেখানে সভাপতি পদে কোনো নির্বাচন হয়নি। এছাড়া বিশেষ সাধারণ সভা আহবান করা হয়েছিল সভাপতি পদ পূরণে করণীয় নির্ধারণের জন্য, নির্বাচনের জন্য নয়।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির কার্যকরি কমিটির (২০২১-২২) সভাপতি, সিনিয়র অ্যাডভোকেট আব্দুল মতিন খসরু গত ১৪ এপ্রিল ইন্তেকাল করেন। নব-নির্বাচিত সভাপতির মৃত্যুজনিত কারণে সমিতির সভাপতির পদ শূন্য হয়। সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির গঠনতন্ত্রের ১৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী নির্বাচনের মাধ্যমে সভাপতি পদ পূরণের বিধান রয়েছে।

সে লক্ষ্যে উক্ত পদ পূরণের জন্য করণীয় ঠিক করতে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির কার্যকরি কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ৪ মে, দুপুর ২টায় সমিতির অডিটোরিয়ামে বিশেষ সাধারণ সভা আহবান করা হয়েছিল। ওই সভায় সভাপতির অনুপস্থিতিতে সিনিয়র সহ-সভাপতি জালাল উদ্দিন সভাপতিত্ব করবেন এটি ছিল স্বাভাবিক। দুর্ভাগ্যজনকভাবে সমিতির অপর সহ-সভাপতি মুহাম্মদ শফিক উল্যা সভাস্থলে উপস্থিত হয়ে নিজেকে বিশেষ সাধারণ সভার সভাপতি হিসেবে দাবি করলে উপস্থিত আইনজীবী সদস্যরা অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব কে করবেন এই বিষয়টি সুরাহা করে সভা শুরু করার জন্য সম্পাদককে অনুরোধ জানান।

কাজল বলেন, সভাপতিত্ব কে করবেন এ বিষয় নিয়ে আইনজীবীদের মধ্যে মতবিরোধ হওয়ার কারণে উদ্ভুত পরিস্থিতিতে সভার কাজ শুরু করা সম্ভব হয়নি। কোনো আলোচনা ও সিদ্ধান্ত ছাড়াই সম্পাদক সভার কাজ মুলতবি ঘোষণা করেন। আমাদের উদ্দেশ্য ছিল, সভা মুলতবি করার পরে উদ্ভুত পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি, সম্পাদকসহ সিনিয়র আইনজীবীদের সঙ্গে বৈঠক করে করণীয় নির্ধারন করে নির্বাচনের মাধ্যমে সভাপতির পদ পূরণ করার।

কিন্তু আমরা দুর্ভাগ্যজনকভাবে লক্ষ্য করলাম, কার্যকরী কমিটির সহ-সভাপতি মুহাম্মদ শফিক উল্যা পরবর্তীতে অতি উৎসাহী হয়ে সমিতির সভাপতির কক্ষে নিজেই সমিতির সদ্য সাবেক সভাপতিকে ২০২১-২২ সালের বাকী মেয়াদের জন্য সভাপতি হিসাবে ঘোষণা করেন।

আমরা স্পষ্টভাবে বলতে চাই, আনুষ্ঠানিকভাবে শুরুর আগেই বিশেষ সাধারণ সভা সম্পাদক স্থগিত করেছেন, কোনো ধরনের আলোচনা কিংবা সেখানে সভাপতি পদে কোন নির্বাচন হয়নি।

এছাড়া বিশেষ সাধারণ সভা আহবান করা হয়েছিল সভাপতি পদ পূরণে করণীয় নির্ধারনের জন্য, নির্বাচনের জন্য নয়। এ ঘটনা প্রমাণ করে ভোটবিহীন ক্ষমতা দখলের যে চর্চা বর্তমান রাষ্ট্রীয় ক্ষমতাসীনরা চালু করেছে গতকালের এ ঘটনা তারই ধারাবাহিকতা। এটা অত্যন্ত নিন্দনীয়। এর মাধ্যমে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতিতে একটি কলঙ্কজনক অধ্যায় রচিত হলো বলে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সম্পাদক রুহুল কুদ্দুস কাজল।