চৌধুরী তানবীর আহমেদ ছিদ্দিক
চৌধুরী তানবীর আহমেদ ছিদ্দিক

সম্পত্তিতে নারীর অধিকারে মুসলিম আইন দৃষ্টান্ত

চৌধুরী তানবীর আহমেদ ছিদ্দিক: ‘পৃথিবীতে যা কিছুই মহান, অর্ধেক তার করিয়াছে নারী অর্ধেক তার নর’। আমরা এই উক্তিটি শুনতে শুনতে মুখস্থ করে ফেললেও মনের দিক থেকে এখনো পুরোপুরি মেনে নিতে পারি না। পৃথিবীর সব বড় অর্জনে আমরা সর্বদা পুরুষের আনাগোনা দেখতে পাই, কিন্তু প্রতিটি পুরুষের পিছনে যে নারীর অবদান রয়েছে তা আমরা দেখতে পাই না। একটি জরিপে উঠে এসেছে যে, পৃথিবীতে সবচেয়ে বেশি মানুষের দেখা সিনেমা হচ্ছে ‘টাইটানিক’; সিনেমার নায়ক লিওনার্দো ডিকেপ আর নায়িকা কেট উইন্সলেটকে চেনে না এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া মুশকিল। কিন্তু একবার যদি টাইটানিকের পরিচালক ‘ডেভিড ক্যামেরন’-এর ছবি দেখানো হয় তাহলে ২ শতাংশ মানুষ চিনবে কিনা সন্দেহ। ঠিক তেমনি, আমরা দুনিয়াতে যতো সফল পুরুষকেই দেখতে পাই না কেন, তার পিছনে রয়েছে তার মা বা তার স্ত্রী বা তার বোন বা তার মেয়ে বা তার কোন বান্ধবীর অবদান যা আমরা দেখতে পাই না।

পুরুষ শারীরিকভাবে অনেক শক্তিশালী হতে পারে, কিন্তু নারী মানসিকভাবে সুপারওমেন। নারী কেবল নিজেকে নারী ভাবে বলেই তাদের আজ স্বতন্ত্র অধিকারের কথা বলা হয়। আমরা যদি নারী পুরুষকে শুধু মানুষ ভাবতে শুরু করি, তবে ‘লিঙ্গ বৈষম্য’ শব্দটিই ডিকশনারি থেকে হারিয়ে যাবে। এর মানসিকতার পরিবর্তনটা আনতে হবে নারীর কাছ থেকেই। ইন্দ্র নুই বলেছিলেন, ‘দিনের শেষে এটা কখনো ভুলো না যে, তুমি একজন মানুষ, তুমি একজন মা, তুমি একজন স্ত্রী এবং তুমি একজন মেয়ে’। পরিবারে নিজের ভূমিকার কথা চিন্তা করতে পারলেই নারী বুঝতে পারবে পরিবারে নারীর প্রয়োজন কতটুকু। এখন তো শুধু পরিবারেই নয়, নারীর প্রয়োজনীয়তা দেশ ছেড়ে বিশ্বজুড়ে।  

নারী ক্ষমতায়নের পূর্বশর্ত নারীর অর্থনৈতিক স্বাধীনতা

ইংল্যান্ড, জার্মানি, বাংলাদেশের মত দেশগুলোর রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব যেখানে কোন না কোন নারীর হাতে তখন বিশ্বজুড়ে নারীর ক্ষমতায়ন নিয়ে প্রশ্ন করার প্রয়োজন পড়ে না। হিলারি ক্লিনটন যদি গত নির্বাচনে জয়ী হতেন তবে বিশ্ব নিয়ন্ত্রণে নারীর ক্ষমতায়নের পরিবর্তে পুরুষের ক্ষমতা নিয়ে বরং চর্চা করা হতো। যাই হোক, নারীর ক্ষমতায়ন যখন নিশ্চিত হচ্ছে, হচ্ছে নারীর স্বাধীনতাও। নারীর ক্ষমতায়ন নিয়ে যতোটা চর্চা হচ্ছে বিশ্বজুড়ে, ঠিক ততোটা হচ্ছে নারীর স্বাধীনতা নিয়ে। কিন্তু নারীর মত প্রকাশের স্বাধীনতা, চলাফেরার স্বাধীনতা চেয়েও যে বিষয়টি সবচেয়ে বেশী গুরুত্বপূর্ণ সেটি হচ্ছে নারীর অর্থনৈতিক স্বাধীনতা। আর অর্থনৈতিক স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে হলে প্রথমে সম্পত্তিতে নারীর যে অধিকার রয়েছে তা পরিপূর্ণ করতে হবে।

পকেটে টাকা না থাকলে যেমন চলাফেরা বা বাক-স্বাধীনতার প্রশ্ন উঠে না, তেমনি নারীর অর্থনৈতিক স্বাধীনতা না থাকলে নারীর অন্যান্য স্বাধীনতাও মূল্যহীন। নারীকে অন্যান্য স্বাধীনতা দেওয়ার পূর্বশর্তই হওয়া উচিত নারীর অর্থনৈতিক স্বাধীনতা। অর্থনৈতিকভাবে নারী যখন অন্যের উপর নির্ভরশীল, তখন নারী বাকি স্বাধীনতাগুলো প্রশ্নবিদ্ধ। আর অর্থনৈতিক স্বাধীনতার জন্য নারীকে শিক্ষা, কর্মসংস্থান ইত্যাদি দিলেই কেবল হবে না, দিতে হবে নারীকে তার সম্পত্তিতে প্রাপ্য অধিকার।  

সম্পত্তিতে নারীর অধিকারে মুসলিম আইন দৃষ্টান্ত

বাংলাদেশে যেহেতু মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ, সেহেতু বেশীর ভাগ নারীও মুসলিম এবং তাদের সম্পত্তির অধিকারও মুসলিম আইন অনুসারে। যতোই বলা হোক যে, মুসলিম আইনে নারীর অধিকার সীমিত, আমি হলফ করে বলতে পারি এর চেয়ে সুস্পষ্ট এবং পর্যাপ্ত অধিকার আর কোন ধর্ম নেই। নারীদের অধিকার দেওয়ায় বরং মুসলিম আইন দৃষ্টান্ত। মুসলিম আইন অনুসারে সম্পত্তিতে নারীর উল্লেখযোগ্য অধিকারসমূহ নিম্নরূপ- 

স্ত্রী

মৃত স্বামীর সম্পত্তিতে তার স্ত্রীর যে অধিকার রয়েছে তা আমরা আজকাল মানতেই চাই না। কেউ মারা গেলেই তার সম্পত্তি আমরা তার ছেলেমেয়ের মাঝে ভাগ করতে ব্যস্ত হয়ে পড়ি, কিন্তু মৃত ব্যক্তির স্ত্রীকে তার প্রাপ্য সম্পদ দেই না। যার ফলে ঐ বিধবাকে তার ছেলেমেয়ের প্রতি নির্ভরশীল হয়ে পড়তে হয়, ক্ষুণ্ণ হয় নারীর স্বাধীনতা।

যাই হোক, যখন কোন বিবাহিত পুরুষ মারা যাবেন এবং তার কোন সন্তান থাকবে না এবং তার ছেলের কোন সন্তান থাকবে না তখন ঐ লোকের স্ত্রী মোট সম্পত্তির ১/৪ অংশ পাবেন। কিন্তু, যখন কোন সন্তান থাকবে কিংবা ছেলের কোন সন্তান থাকবে তখন স্ত্রী ১/৮ অংশ পাবে। যদি ঐ লোকের একাধিক স্ত্রী থাকে, তখন তারা এক স্ত্রী যা পেতো তা নিজেদের মধ্যে সমানভাবে ভাগ করে নিবে। অর্থাৎ, এক স্ত্রী হলে যে সম্পত্তি পাওয়ার কথা একাধিক স্ত্রী হলেও তারা একই পরিমাণ সম্পত্তি পাবে এবং পরবর্তীতে ঐ সম্পত্তি তাদের নিজেদের মধ্যে সমান ভাগ হবে। যেমন, যদি মৃত ব্যক্তির সন্তান থাকে তখন তার স্ত্রী ১/৮ অংশ পাবে; এখন তার দুই জন স্ত্রী হলে তারাও ১/৮ অংশ সম্পত্তি পাবে এবং তা নিজেদের মধ্যে সমান ভাগে ভাগ করে নিবে। অর্থাৎ ১/৮ কে দুই ভাগ করলে দাঁড়ায় ১/১৬, প্রত্যেক স্ত্রী ১/১৬ অংশ করে পাবেন।

মা

মৃত সন্তানের সম্পত্তিতে রয়েছে মায়ের অধিকার যা আমাদের অজানা। স্ত্রীর ন্যায় মাকেও আমরা সম্পত্তি দিতে অনীহা প্রকাশ করি। সিংহভাগ মা জানেও না যে তার মৃত সন্তানের সম্পত্তিতে তার অধিকার হয়েছে। যখন মৃত ব্যক্তির সন্তান বা মৃত ব্যক্তির পুত্রের সন্তান থাকবে বা মৃত ব্যক্তির দুই বা ততোধিক ভাই বোন থাকবে, তখন মৃত ব্যক্তির মা মোট সম্পত্তির ১/৬ অংশ পাবেন। কিন্তু, মৃত ব্যক্তির যখন কোন সন্তান থাকবে না কিংবা মৃত ব্যক্তির ছেলের কোন সন্তান থাকবে না বা ভাই বোনের সংখ্যা একের অধিক নয়, তখন মা ১/৩ অংশ পাবেন।

আবার, যখন মৃত ব্যক্তির পিতা এবং স্বামী বা স্ত্রী জীবিত তখন স্বামী বা স্ত্রীকে দেওয়ার পর বাকী সম্পত্তির ১/৩ পাবেন। অর্থাৎ, যখন মৃত ব্যক্তির পিতা এবং তার জীবন সঙ্গিনী (মহিলা হলে স্বামী/পুরুষ হলে স্ত্রী) জীবিত থাকে, তখন আগে জীবন সঙ্গিনীকে সম্পত্তি দিতে হবে এবং তাকে দেওয়া পর যেই সম্পত্তি থাকবে তার ১/৩ মাকে দেওয়া হবে। মনে রাখতে হবে যে, মোট সম্পত্তির ১/৩ অংশ নয়, স্বামী বা স্ত্রীকে দেওয়ার পর বাকী সম্পত্তির ১/৩ অংশ।

নানী/দাদী

স্ত্রী এবং মা যখন উত্তরাধিকার হতে বঞ্চিত, সেখানে দাদী নানী তো আধিখ্যেতা। তারপরও মুসলিম আইন কতোটা যত্ন করে ওনাদেরকেও সম্পত্তিতে অধিকার দিয়েছে। শেয়ারার হিসেবে মৃত ব্যক্তির দাদী মোট সম্পত্তির ১/৬ অংশ পাবেন; কিন্তু শর্ত হচ্ছে মৃত ব্যক্তির মা অবশ্যই মৃত হতে হবে। মা জীবিত থাকলে পাবেন না। আবার, যদি মৃত ব্যক্তির পিতা জীবিত থাকে অর্থাৎ সম্পত্তি পেয়ে থাকেন তবে সেক্ষেত্রে মৃত ব্যক্তির দাদী সম্পত্তি না পেয়ে মৃত ব্যক্তির নানী পাবেন।

কন্যা

যখন মৃতব্যক্তির কোন পুত্র থাকবে না তখন মৃতব্যক্তির কন্যা একজন হলে মোট সম্পত্তির১/২ অংশ পাবেন; যদি একাধিক হয় তবে মোট সম্পত্তির ২/৩ অংশ পাবে। একাধিক বোনের ক্ষেত্রে প্রাপ্ত ২/৩ প্রত্যেকে সমান ভাগ পাবে।

কিন্তু যখন পুত্র কন্যা দুইই থাকবে তখন পুত্র:কন্যা= ২:১ করে সম্পত্তি বণ্টন করা হবে। যদিও আমাদের দেশে ভাইয়েরা তাদের বোনদেরকে সম্পত্তি দিতে বেশিভাগ ক্ষেত্রেই অনাগ্রহী। অনেক গুঁজব ছড়িয়ে দেওয়া হয় যে, বিয়ের পর বাপের বাড়িতে মেয়ের আর কোন অধিকার অবশিষ্ট থাকেনা, স্বামীর বাড়িই সব! আবার কেউ কেউ বলেন, মেয়েরা যদি বাবার বাড়ি থেকে সম্পত্তি আনে তবে তার সংসারে অশান্তি হয় ইত্যাদি ইত্যাদি। প্রকৃত পক্ষে এসব কিছুই নারীর সম্পত্তি ভোগের জন্য ভণ্ডামি। বোনদের নিজেদের সম্পত্তি অধিকার সম্বন্ধে সচেতন হতে হবে এবং প্রয়োজনে কার্যকরী পদক্ষেপ নিতে হবে, তবেই নারীর অর্থনৈতিক স্বাধীনতা সম্ভব।  

পুত্রের কন্যা

যখন মৃত ব্যক্তির পুত্র, কন্যা এবং পুত্রের পুত্র থাকবে না, তখন পুত্রের কন্যা একজন হলে মোট সম্পত্তির ১/২ অংশ পাবেন; এর যদি একাধিক হয় তবে মোট সম্পত্তির ২/৩ অংশ পাবে। একাধিক পুত্রের কন্যার ক্ষেত্রে প্রাপ্ত ২/৩ প্রত্যেকে সমান ভাগ পাবে।

ব্যতিক্রম যদি মৃত ব্যক্তির কেবল একমাত্র কন্যা থাকে, তবে পুত্রের কন্যা (২/৩-১/২) ১/৬ অংশ পাবে।

আপন বোন

যখন মৃত ব্যক্তির পুত্র, কন্যা, পুত্রের পুত্র, পুত্রের কন্যা, আপন ভাই, পিতা কেউই থাকবে না, তখন আপন বোন শেয়ারার হিসেবে সম্পত্তি পাবে। আপন বোন একজন হলে মোট সম্পত্তির ১/২ অংশ পাবেন; এর যদি একাধিক হয় তবে মোট সম্পত্তির ২/৩ অংশ পাবে। একাধিক আপন বোনের ক্ষেত্রে প্রাপ্ত ২/৩ প্রত্যেকে সমান ভাগ পাবে।

বৈমাত্রেয় বোন

বৈমাত্রেয় বোন বলতে বুঝায়, একই বাবা কিন্তু মা ভিন্ন। যখন মৃত ব্যক্তির পুত্র, কন্যা, পুত্রের পুত্র, পুত্রের কন্যা, আপন ভাই, আপন বোন, বৈমাত্রেয় ভাই, পিতা কেউই থাকবে না, তখন বৈমাত্রেয় বোন একজন হলে মোট সম্পত্তির ১/২ অংশ পাবেন; এর যদি একাধিক হয় তবে মোট সম্পত্তির ২/৩ অংশ পাবে। একাধিক আপন বোনের ক্ষেত্রে প্রাপ্ত ২/৩ প্রত্যেকে সমান ভাগ পাবে।

ব্যতিক্রম: যদি কেবল একমাত্র আপন বোন থাকে, তবে বৈমাত্রেয় বোন (২/৩-১/২) ১/৬ অংশ পাবে।

বৈপিত্রেয় বোন

বৈপিত্রেয় বোন হচ্ছে একই মা কিন্তু পিতা ভিন্ন। বৈপিত্রেয় বোন তার মৃত বৈপিত্রেয় বোনের সম্পত্তির ১/৬ অংশ পাবে এবং শর্ত হচ্ছে মৃত বৈপিত্রেয় বোনের পিতা থেকে উপরে পূর্বপুরুষ কেউই থাকবে না এবং সন্তান থেকে উত্তরসূরি কেউই থাকবে না।

অধিকার সচেতনতা

হলিউড অভিনেত্রী এমা ওয়াটসনকে অবশ্যই চেনেন, সমস্ত নারীদের উদ্দেশ্যে তার একটা উপদেশ অনেকটা এমন যে, ‘নারীরা তোমরা কখনো বুদ্ধিমান হতে ভয় পেও না’। পৃথিবীর সেরা সুন্দরীদের একজন হয়ে যখন একজন প্রতিষ্ঠিত নারীর বুদ্ধিমত্তার উপর জোর দিচ্ছেন, তখন আমাদের নারী সমাজকেও সৌন্দর্য চর্চার দিক থেকে মনোযোগ সরিয়ে নিজের জ্ঞান-বুদ্ধির দিকে নজর দেওয়া উচিত। নিজের অধিকার সম্বন্ধে জানলেই তবে নিজের অধিকার আদায় সম্ভব, অন্যথায় সকল পুরুষরা নিজ থেকে তোমার অধিকার আদায় করে দিবে এমন আশা করা নেহাতই বোকামি।

নিজের বাক-স্বাধীনতা, চলাফেরার স্বাধীনতা এসব অর্জনের পাশাপাশি বা সম্ভব হলে পূর্বেই তোমার হক বা সম্পত্তিতে তোমার অধিকার অর্জনের জন্য নিজ থেকে সোচ্চার হতে হবে। নিজের পকেটে বা ব্যাংকে টাকা না থাকলে যতোই বাক-স্বাধীনতা থাকুক, যতোই চলাফেরার স্বাধীনতা থাকুক তাতে কোন লাভ নেই।

হীনমন্যতায় না ভোগা

কিছু পুরুষের পাশাপাশি অনেক নারীরাও ভাবেন যে, সে যে প্রতিষ্ঠানে চাকরী করে সেই প্রতিষ্ঠানের ডিরেক্টর মিটিং-এ সিদ্ধান্ত নেওয়ার যোগ্যতা রাখে না, তাকে বড়জোর উক্ত প্রতিষ্ঠানের ডিরেক্টর বা শেয়ার হোল্ডার হতে হবে। এক্ষেত্রে নারীর চিন্তা ভাবনায় পরিবর্তন নিয়ে আসতে হবে। নিজেকে নারী ভেবে যদি বাসের সীট দাবি করা হয়, তবে সেই নারী পরিচয়ে কোথাও না কোথাও তাকে অবহেলার স্বীকারও হতে হবে। তাই তো সাবেক আমেরিকান ফাস্ট লেডি মিশেল ওবামা বলেছেন, ‘নারীদের নারী হিসাবে কোন সীমানা থাকা উচিত নয়’। এই কথাটার মর্ম বুঝতে হবে নারীদের, নিজেকে নিজের কাছেই আগে মানুষ ভাবতে শিখতে হবে। নিজেকে নারী হিসেবে আলাদা আইডেন্টিটি হিসেবে ভাবলে তার প্রভাব বাস্তবেও পড়বে। তাই প্রথমে মানসিকতার পরিবর্তন আনতে হবে, অতঃপর নিজের অর্থনৈতিক স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে হবে। তাহলেই নারীর স্বাধীনতা এবং ক্ষমতায়ন আপনাআপনিই বাস্তবায়ন সম্ভব।

সময় বদলাচ্ছে, মানসিকতায় পরিবর্তন প্রয়োজন

অতীতে দেশের নারীরা ব্যবসায়ী তো দূরের কথা উদ্যোক্তা হওয়ার কথাও চিন্তা করে না। চিন্তা করবেই বা কীভাবে, তাদের মাথায় সর্বোচ্চ চাকরীই সেটআপ করা। যেখানে দেশের অর্ধেক জনগোষ্ঠী নারী, সেখানে দেশের অর্থনীতিতে ভূমিকা রাখতে নারী যদি শুধু শ্রমিক হিসেবে থাকে তবে দেশের অগ্রগতি বড়ই প্রশ্নবিদ্ধ। তবে বর্তমানে পরিস্থিতি কিছুটা হলেও পরিবর্তন হচ্ছে। ভবিষ্যতে বিষয়টি আরও এগিয়ে নিতে নারীকে তার সম্পত্তিতে প্রাপ্য অধিকার দিতে হবে, তবেই নারী উক্তি সম্পত্তির চর্চা করে নিজের উন্নয়নের চিন্তা করবে। দেশের সকল জনগোষ্ঠী যখন নিজেদের উন্নয়নের চিন্তা করবে তখন দেশ নিজ থেকেই উন্নতির দিকে এগিয়ে যাবে।

নারীর সম্পত্তিতে যে অধিকার পবিত্র কোরআনে আল্লাহ্‌ বর্ণনা দিয়ে গেছেন, সেই অধিকার বাস্তবায়নে এগিয়ে আসলে সেটা নারীবাদী ভাবলে ভুল হবে, সেটা কেবলই স্রষ্টা প্রদত্ত নারীর হক। প্রতিটি নারীর যেমন তার প্রাপ্য সম্পত্তি পাওয়ার অধিকার রয়েছে, ঠিক তেমনি আমাদের প্রতিটি পুরুষের দায়িত্ব হচ্ছে নিজেদের পরিবারে নারীকে তার প্রাপ্য আদায়ে সহযোগিতা করা এবং নিশ্চিত করা।

নেপোলিয়ন বলেছিলেন, আমাকে একটি শিক্ষিত মা উপহার দাও, আমি তোমাকে একটা শিক্ষিত জাতি উপহার দিবো। নেপোলিয়নকে শ্রদ্ধা করে এবং তাঁর উক্তি থেকে ধার নিয়ে আমি বলব, ‘আমাকে একটি অর্থনৈতিকভাবে স্বাধীন মা উপহার দাও, আমি তোমাকে একটি প্রথম বিশ্বের দেশ উপহার দিবো। যেখানে থাকবে না ক্ষুধা, থাকবে না দারিদ্র, থাকবে না কোন ঋণের বোঝা; থাকবে সুখী, শান্তি এবং উন্নয়নের দৃষ্টান্ত’।

লেখক: আইন বিষয়ে স্নাতক ও স্নাতকোত্তরসম্পন্ন