বার কাউন্সিল ও আইনজীবী
বার কাউন্সিল ও আইনজীবী

বার কাউন্সিল এমসিকিউ পরীক্ষার অনলাইন ফরম পূরণ শুরু হচ্ছে আজ

অ্যাডভোকেট তালিকাভুক্তির জন্য ২০২৬ সালের এমসিকিউ পরীক্ষার অনলাইন ফরম পূরণের সময়সূচি ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ বার কাউন্সিল। এ সংক্রান্ত একটি বিজ্ঞপ্তি ১৯ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে জারি করা হয়।

বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, আগামী ২০ এপ্রিল ২০২৬ বিকাল ৫টা থেকে ২০ মে ২০২৬ রাত ১১টা ৫৯ মিনিট পর্যন্ত নির্ধারিত ওয়েবসাইটের মাধ্যমে অনলাইনে ফরম পূরণ করা যাবে। নির্ধারিত সময়সীমা অতিক্রমের পর আর কোনো আবেদন গ্রহণ করা হবে না।

বার কাউন্সিল জানিয়েছে, এমসিকিউ পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারীরা দুই ধরনের—রেগুলার (Regular) এবং রি-অ্যাপিয়ার (Re-appear) প্রার্থী। যেসব প্রার্থী আগে কখনো এমসিকিউ পরীক্ষায় অংশ নেননি অথবা যাদের রেজিস্ট্রেশন মেয়াদ শেষ হয়ে পুনরায় রেজিস্ট্রেশন করতে হবে, তারা রেগুলার প্রার্থী হিসেবে আবেদন করবেন। অন্যদিকে, যাদের রেজিস্ট্রেশন ২০ মে ২০২৬ পর্যন্ত বৈধ রয়েছে এবং পূর্বে পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন, তারা রি-অ্যাপিয়ার প্রার্থী হিসেবে আবেদন করবেন।

তবে পূর্বে নির্ধারিত একটি বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, যেসব রেগুলার প্রার্থী অক্টোবর ২০১৫ সালে অনলাইনে ফরম পূরণ ও ফি জমা দিয়েছেন, তাদের নতুন করে আবেদন বা ফি জমা দেওয়ার প্রয়োজন নেই।

অনলাইন ফরম পূরণের সময় প্রার্থীদের নিজস্ব ৯ ডিজিটের বার কাউন্সিল রেজিস্ট্রেশন নম্বর ব্যবহার করতে হবে। রি-অ্যাপিয়ার প্রার্থীদের ক্ষেত্রে সর্বশেষ অংশগ্রহণ করা পরীক্ষার নাম ও রোল নম্বর উল্লেখ করতে হবে। নির্ধারিত ধাপ অনুসরণ করে ব্যক্তিগত তথ্য, শিক্ষাগত যোগ্যতা, ডিজিটাল পাসপোর্ট সাইজ ছবি ও স্বাক্ষর আপলোড করে আবেদন সম্পন্ন করতে হবে।

আরও পড়ুন : সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ বাতিলের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে রিট

প্রার্থীরা এমসিকিউ প্রশ্নপত্র বাংলা বা ইংরেজি—যে কোনো একটি ভাষায় গ্রহণের অপশন নির্বাচন করতে পারবেন। পাশাপাশি ‘চয়েজ বার’ নির্বাচন করতে হবে, যা পরবর্তীতে তালিকাভুক্তির পর সংশ্লিষ্ট বার সমিতিতে যোগদানের ক্ষেত্রে চূড়ান্ত হিসেবে বিবেচিত হবে।

বার কাউন্সিল স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, যেসব প্রার্থীর বৈধ রেজিস্ট্রেশন কার্ড রয়েছে এবং ২০ মে ২০২৬ তারিখের মধ্যে বিধি অনুযায়ী ৬ মাসের পিউপিলেজ সম্পন্ন হবে, কেবল তারাই আবেদন করতে পারবেন। অন্যথায় তাদের তথ্য অনলাইন সিস্টেমে অন্তর্ভুক্ত হবে না।

ফরম পূরণের সময় কোনো ভুল হলে ‘ফাইনাল সাবমিট’-এর আগে সংশোধনের সুযোগ থাকবে, তবে একবার সাবমিট করার পর আর কোনো সংশোধন করা যাবে না।

ফি সংক্রান্ত বিষয়ে জানানো হয়েছে, রেগুলার প্রার্থীদের জন্য মোট ৪,০২০ টাকা (পরীক্ষা ফি ১,৫০০ টাকা, এনরোলমেন্ট ফি ২,০০০ টাকা, বার্ষিক ফি ২০০ টাকা এবং সার্ভিস চার্জ ৩২০ টাকা) এবং রি-অ্যাপিয়ার প্রার্থীদের জন্য ১,৬৩০ টাকা (পরীক্ষা ফি ১,৫০০ টাকা ও সার্ভিস চার্জ ১৩০ টাকা) নির্ধারণ করা হয়েছে। এই অর্থ টেলিটক প্রি-পেইড সিমের মাধ্যমে নির্ধারিত এসএমএস পদ্ধতিতে পরিশোধ করতে হবে।

বার কাউন্সিল বিধি ৬০এ ও ৬০বি অনুযায়ী, যারা এমসিকিউ পাস করার পর পরপর দুইবার লিখিত পরীক্ষায় ব্যর্থ হয়েছেন বা অংশ নেননি, কিংবা লিখিত পাস করার পর তিনবার মৌখিক পরীক্ষায় ব্যর্থ হয়েছেন বা অংশ নেননি—তাদের পুনরায় এমসিকিউ পরীক্ষায় অংশগ্রহণ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, শিক্ষাগত সনদে নাম বা তথ্যগত অসঙ্গতি থাকলে আবেদন বাতিল হবে। অনুমোদনহীন বিশ্ববিদ্যালয়ের সনদ গ্রহণযোগ্য হবে না এবং মিথ্যা বা ভুয়া তথ্য দিলে যেকোনো পর্যায়ে প্রার্থীতা বাতিলসহ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অনলাইন ফরম পূরণের সময় প্রদত্ত তথ্যের ভিত্তিতে একটি ভার্চুয়াল ডিক্লারেশন দিতে হবে, যা হার্ডকপি নথির সমতুল্য বিবেচিত হবে। পরবর্তীতে লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষার আগে প্রার্থীদের সকল সনদপত্র, জি-ফরম, কেস লিস্ট ও এফিডেভিটসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিতে হবে।

বার কাউন্সিল জানিয়েছে, পরীক্ষার অ্যাডমিট কার্ড, তারিখ, ভেন্যু ও সময়সূচি পরবর্তীতে অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হবে।