বাংলাদেশ ল অ্যালায়েন্স
বাংলাদেশ ল অ্যালায়েন্স

কুড়িগ্রাম বারের সদস্য অন্তর্ভুক্তির উচ্চ ফি নিয়ে বাংলাদেশ ল অ্যালায়েন্সের উদ্বেগ

কুড়িগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির নতুন সদস্যপদের জন্য নির্ধারিত উচ্চ ভর্তি ফি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ ল অ্যালায়েন্স

সংগঠনটির সদস্য ও ওয়ার্ল্ড কনস্টিটিউশনাল রাইটস রিসার্চ সেন্টারের চেয়ারম্যান নাইমুর রহমান দুর্জয় স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গত ১৫ এপ্রিল প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী কুড়িগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতি নতুন সদস্যপদের ভর্তি ফি আড়াই লাখ থেকে পাঁচ লাখ টাকা পর্যন্ত নির্ধারণ করেছে।

বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী— ৪০ বছর বা তার কম বয়সীদের জন্য ভর্তি ফি আড়াই লাখ টাকা; ৪০ বছরের বেশি হলে সাড়ে তিন লাখ টাকা; অন্যান্য চাকরি থেকে আর্থিক সুবিধাপ্রাপ্ত হলে ৪ লাখ টাকা; এবং সরকারি চাকরি থেকে সুবিধাপ্রাপ্ত হলে ৫ লাখ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ২০১৩ সালে এই সমিতির ভর্তি ফি ছিল মাত্র ২৯ হাজার টাকা। এক দশকের কিছু বেশি সময়ের ব্যবধানে ফি আট গুণেরও বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে, যা ‘অস্বাভাবিক’ বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

সংগঠনটি আরও জানায়, বাংলাদেশ লিগ্যাল প্র্যাকটিশনারস ও বার কাউন্সিল আদেশ, ১৯৭২ অনুযায়ী জেলা বার সমিতিগুলো নিজস্ব গঠনতন্ত্র প্রণয়ন করতে পারলেও তাদের সিদ্ধান্ত অবশ্যই যুক্তিসঙ্গত ও সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে হবে। অন্যথায় তা আইনগতভাবে প্রশ্নবিদ্ধ হতে পারে।

বিবৃতিতে দেশের বৃহত্তম আইনজীবী সমিতি ঢাকা আইনজীবী সমিতি-সহ অন্যান্য বারের তুলনায় এই ফি অত্যন্ত বেশি উল্লেখ করে সিদ্ধান্তটি পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানানো হয়েছে।

বাংলাদেশ ল অ্যালায়েন্সের মতে, এই ধরনের উচ্চ ফি শুধু নবীন আইনজীবীদের জন্যই প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে না, বরং স্থানীয় সামাজিক কাঠামোর ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। সংগঠনটি কুড়িগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির কার্যনির্বাহী কমিটিকে বিষয়টি দ্রুত পুনর্মূল্যায়নের আহ্বান জানিয়েছে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, বার কাউন্সিলের পেশাগত আচরণবিধিতে আইনজীবীদের পারস্পরিক ভ্রাতৃত্বের কথা উল্লেখ থাকলেও এমন সিদ্ধান্ত সেই নীতির পরিপন্থী এবং ‘অন্যায্য’ ও ‘জুলুমের শামিল’।