বিধিবহির্ভূতভাবে রাজউকের প্লট গ্রহণের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা মামলায় সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হককে জামিন দিয়েছেন হাইকোর্ট। এর ফলে তাঁর কারামুক্তিতে আর কোনো বাধা নেই বলে জানিয়েছেন তাঁর আইনজীবীরা।
বুধবার (১১ মার্চ) বিচারপতি শেখ মো. জাকির হোসেন ও বিচারপতি মো. জাকির হোসেনের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।
এর আগে রায় জালিয়াতির অভিযোগসহ পৃথক চার মামলায়ও সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হককে জামিন দেন হাইকোর্ট।
পৃথক চার মামলায় খায়রুল হকের জামিন আবেদনের চূড়ান্ত শুনানি শেষে বিচারপতি মো. খায়রুল আলম ও বিচারপতি মো. সগীর হোসেনের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ গত রোববার রায় দেন।
জানা যায়, পৃথক চার মামলায় খায়রুল হকের জামিন প্রশ্নে রুলের ওপর ৪ মার্চ শুনানি শেষ হয়। ওই দিন আদালত রায়ের জন্য ৮ মার্চ দিন ধার্য করেন। সে অনুযায়ী চারটি আবেদন ৮ মার্চ বেলা দুইটায় রায়ের জন্য আদালতের কার্যতালিকায় ২০ থেকে ২৩ নম্বর ক্রমিকে ওঠে। বেলা ২টা ৫ মিনিটের দিকে আদালত রুল অ্যাবসলিউট ঘোষণা করে খায়রুল হকের জামিন মঞ্জুর করেন।
রায় জালিয়াতির অভিযোগে করা মামলা ও দুদকের করা মামলাসহ পৃথক পাঁচ মামলায় খায়রুল হকের জামিন প্রশ্নে গত বছরের ২৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করেন। মামলাগুলোতে কেন তাঁকে জামিন দেওয়া হবে না, তা জানতে চাওয়া হয় এবং দুদক ও রাষ্ট্রপক্ষকে ১০ দিনের মধ্যে রুলের জবাব দিতে বলা হয়।
এর মধ্যে চার মামলায় ৮ মার্চ হাইকোর্ট জামিনের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেন। আর দুদকের করা মামলায় জামিন প্রশ্নে শুনানি অন্য একটি হাইকোর্ট বেঞ্চে নির্ধারিত ছিল আজকের দিন।
আরও পড়ুন : দুদকের মামলায় জামিন পেলেন সাংবাদিক আনিস আলমগীর
এ বি এম খায়রুল হক ২০১০ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর থেকে ২০১১ সালের ১৭ মে পর্যন্ত বাংলাদেশের প্রধান বিচারপতির দায়িত্ব পালন করেন। তাঁর নেতৃত্বাধীন আপিল বেঞ্চ ২০১১ সালের ১০ মে সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনী বাতিল করে রায় দেন। ওই রায়ের মধ্য দিয়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বিলুপ্ত হয়।
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকার পতনের প্রায় এক বছর পর ২০২৫ সালের ২৪ জুলাই রাজধানীর ধানমন্ডির বাসা থেকে খায়রুল হককে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে তাঁকে জুলাই আন্দোলনের সময় ঢাকার যাত্রাবাড়ীতে যুবদলকর্মী আবদুল কাইয়ুম আহাদ হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
এরপর বেআইনি রায় দেওয়া ও জাল রায় তৈরির অভিযোগে গত বছরের ২৫ আগস্ট নারায়ণগঞ্জে করা একটি মামলায়ও তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
তত্ত্বাবধায়ক সরকারসংক্রান্ত রায় জালিয়াতির অভিযোগে গত বছরের ২৭ আগস্ট শাহবাগ থানায় সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মুজাহিদুল ইসলাম শাহীন একটি মামলা করেন। একই অভিযোগে নারায়ণগঞ্জের বন্দর থানায় গত বছরের ২৫ আগস্ট নুরুল ইসলাম মোল্লা নামের এক ব্যক্তি আরেকটি মামলা করেন।
এ ছাড়া বিধিবহির্ভূতভাবে রাজউকের প্লট গ্রহণের অভিযোগে গত বছরের আগস্টে খায়রুল হকের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

