সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় প্রতিষ্ঠা নিয়ে বিচারকদের মধ্যে বিভক্তি সৃষ্টি হয়েছে—এমন সংবাদকে বিভ্রান্তিকর, অসম্পূর্ণ এবং বাস্তবতার পরিপন্থী বলে প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ জুডিসিয়াল সার্ভিস এসোসিয়েশন।
রোববার (৫ এপ্রিল) সংগঠনটির সভাপতি মোহাম্মদ আলী হোসাইন এবং মহাসচিব মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান স্বাক্ষরিত এক প্রেস রিলিজে এ প্রতিবাদ জানানো হয়।
প্রেস রিলিজে বলা হয়, সম্প্রতি “New Age” ও “কালবেলা” পত্রিকায় সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় বিষয়ে বিচারকদের মধ্যে বিভক্তি রয়েছে মর্মে যে সংবাদ প্রকাশ করা হয়েছে, তা সংগঠনের নজরে এসেছে। তবে ওইসব প্রতিবেদনে এসোসিয়েশন এবং বিচারকদের অবস্থান সম্পর্কে যে চিত্র তুলে ধরা হয়েছে, তা বিভ্রান্তিকর ও বাস্তবতার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়।
বাংলাদেশ জুডিসিয়াল সার্ভিস এসোসিয়েশন সুস্পষ্টভাবে জানায়, সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় প্রতিষ্ঠার প্রশ্নে বিচারকদের মধ্যে কোনো ধরনের বিভক্তি নেই। বরং বিচার বিভাগের প্রাতিষ্ঠানিক ও আর্থিক স্বাধীনতা, জবাবদিহিতা এবং কার্যকর প্রশাসনিক কাঠামো নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সংগঠনের সকল সদস্য এ বিষয়ে ঐক্যবদ্ধ।
প্রেস রিলিজে আরও উল্লেখ করা হয়, সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদনে সংগঠনের ভার্চুয়াল সভায় মতবিরোধের যে চিত্র তুলে ধরা হয়েছে, বাস্তবে তা সঠিক নয়। ওই সভায় কোনো ধরনের বিভাজন বা নীতিগত বিরোধ দেখা যায়নি।
সংগঠনটি মনে করে, সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় প্রতিষ্ঠা বিচার বিভাগের স্বাধীনতা সুদৃঢ় করার ক্ষেত্রে একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ। এ প্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট অধ্যাদেশ যথাযথ পর্যালোচনা শেষে দ্রুত আইন হিসেবে প্রণয়ন করা হলে বিচার বিভাগের সাংগঠনিক কাঠামো আরও শক্তিশালী হবে।
প্রেস রিলিজে গণমাধ্যমের ভূমিকা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলা হয়, তথ্যের উৎস বা প্রাপ্তির পদ্ধতি উল্লেখ না করে এবং দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের বক্তব্য যাচাই ছাড়াই বিভ্রান্তিকর শিরোনাম ও তথ্য উপস্থাপন করা হয়েছে, যা পেশাগত সাংবাদিকতার ন্যূনতম মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
এ অবস্থায় সংশ্লিষ্ট পত্রিকাগুলোকে যথাযথ তথ্য যাচাই করে সংশোধনী প্রকাশের মাধ্যমে জনমনে সৃষ্ট বিভ্রান্তি দূর করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছে।

