বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলা আইনজীবী সমিতি ও সুপ্রিম কোর্ট বার নির্বাচনে আইনজীবীদের মনোনয়ন বাতিল, অংশগ্রহণে বাধা এবং হয়রানির অভিযোগে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ইউরোপের বার ও আইন সমিতিগুলোর কাউন্সিল (CCBE)। ইউরোপের ৪৬টি দেশের বার সমিতির প্রতিনিধিত্বকারী এবং ১০ লক্ষাধিক আইনজীবীর এই শীর্ষ সংস্থাটি বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বরাবর এ সংক্রান্ত একটি আনুষ্ঠানিক পত্র প্রেরণ করেছে।
সিসিবিই-এর সভাপতি রোমান জাভরশেক স্বাক্ষরিত ওই পত্রে জানানো হয়, ফ্রান্সভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা ‘জাস্টিস মেকারস বাংলাদেশ’ (JMBF) থেকে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে এপ্রিল পর্যন্ত সময়ে বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলা বার ও সুপ্রিম কোর্ট বার নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সমর্থিত এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীদের অংশগ্রহণে বাধা দেওয়া হয়েছে।
অভিযোগে বলা হয়েছে, অনেক প্রার্থীকে মনোনয়ন জমা দিতে বাধা প্রদান, শারীরিকভাবে হয়রানি এবং ‘ফ্যাসিস্টদের সহযোগী’ আখ্যা দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। এমনকি পুলিশের হস্তক্ষেপের মাধ্যমে অনেককে মনোনয়ন প্রত্যাহারে চাপ দেওয়া হয়েছে বলেও পত্রে উল্লেখ করা হয়।
সিসিবিই তাদের পত্রে জাতিসংঘের “আইনজীবীদের ভূমিকা সম্পর্কিত মৌলিক নীতিমালা”-এর ১৬, ১৭, ১৮ ও ২৩ নম্বর অনুচ্ছেদের প্রতি বাংলাদেশ সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। এই নীতিমালা অনুযায়ী:
-
আইনজীবীদের নিরাপত্তা ও ভয়ভীতিহীন কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব।
-
আইনজীবীদের মতপ্রকাশ ও সমিতি গঠনের পূর্ণ স্বাধীনতা থাকতে হবে।
-
পেশাগত দায়িত্ব পালনের কারণে কোনো আইনজীবীকে তার মক্কেল বা কোনো রাজনৈতিক আদর্শের সাথে একীভূত করে দেখা যাবে না।
সিসিবিই সম্প্রতি ইউরোপীয় কাউন্সিল কর্তৃক গৃহীত ‘আইনজীবী পেশার সুরক্ষা সংক্রান্ত কনভেনশন’ দ্রুত স্বাক্ষর ও অনুসমর্থন করার জন্য বাংলাদেশকে আহ্বান জানিয়েছে। সংস্থাটি মনে করে, এই কনভেনশনটি বিচার ব্যবস্থার স্বাধীনতা ও আইনের শাসন অক্ষুণ্ণ রাখতে সহায়ক হবে।
পত্রের শেষ অংশে সিসিবিই বাংলাদেশের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নিম্নোক্ত আহ্বান জানিয়েছে-
১. আইনজীবী সমিতির নির্বাচনগুলো যেন কোনো ধরনের বৈষম্য ছাড়াই সকল আইনজীবীর সমান অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে পরিচালিত হয়।
২. নির্বাচনী অনিয়ম, বাধা প্রদান এবং সহিংসতার অভিযোগগুলো নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করতে হবে।
৩. আইনজীবীরা যেন কোনো ধরনের প্রতিশোধ বা হয়রানির আশঙ্কা ছাড়াই তাদের পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে পারেন, তা নিশ্চিত করতে হবে।
উল্লেখ্য, আন্তর্জাতিক এই সংস্থাটি (CCBE) বিশ্বব্যাপী ঝুঁকিতে থাকা আইনজীবীদের সুরক্ষা এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় ব্রাসেলস থেকে কাজ করে থাকে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের পাশাপাশি পত্রটির অনুলিপি সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরেও পাঠানো হয়েছে বলে জানা গেছে।

