সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়

ভ্রূণের লিঙ্গ প্রকাশ অসাংবিধানিক ও বৈষম্যমূলক: হাইকোর্টের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ

অনাগত শিশুর লিঙ্গ নির্ধারণ ও তা প্রকাশের অনৈতিক চর্চা বন্ধে হাইকোর্টের দেওয়া ঐতিহাসিক রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি প্রকাশিত হয়েছে। বিচারপতি নাইমা হায়দার ও বিচারপতি কাজী জিনাত হকের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চের স্বাক্ষরের পর এই রায়টি প্রকাশিত হয়।

রায়ে আদালত স্পষ্ট করেছেন যে, ভ্রূণের লিঙ্গ নির্ধারণ ও তা প্রকাশ করা নারীর প্রতি চরম বৈষম্য এবং কন্যাশিশু হত্যার প্রবণতা বৃদ্ধির অন্যতম কারণ। এটি যেমন সামাজিক ভারসাম্যহীনতা তৈরি করে, তেমনি আমাদের সাংবিধানিক অধিকারের সরাসরি পরিপন্থি।

আদালতের মতে, এ ধরনের চর্চা নারীর মর্যাদা, সমতা ও জীবনের অধিকারের বিরুদ্ধে যায় এবং আন্তর্জাতিক মানবাধিকার বাধ্যবাধকতারও চরম লঙ্ঘন।

রায়ের পর্যবেক্ষণে আদালত বলেন, বাংলাদেশে এ বিষয়ে কার্যকর নিয়ন্ত্রণ, মনিটরিং ও জবাবদিহিমূলক ব্যবস্থা দীর্ঘদিন ধরে অনুপস্থিত ছিল।

আদালত কঠোরভাবে উল্লেখ করেন যে, শুধু একটি গাইডলাইন প্রণয়ন করলেই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব শেষ হয়ে যায় না। যথাযথ বাস্তবায়ন, ডিজিটাল নজরদারি ও কার্যকর নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা ছাড়া এই অনৈতিক কার্যক্রম বন্ধ করা কোনোভাবেই সম্ভব নয়। তাই নিবন্ধিত হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে পরিচালিত অনাগত শিশুর ডায়াগনস্টিক রিপোর্ট সংরক্ষণ ও তদারকির জন্য একটি কেন্দ্রীয় ডাটাবেজ থাকা এখন সময়ের দাবি।

নির্দেশনা অনুযায়ী, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরকে আগামী ৬ মাসের মধ্যে একটি কেন্দ্রীয় ডিজিটাল ডাটাবেজ তৈরি ও নিয়মিত হালনাগাদ করার নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।

আদালত আরও বলেন, ভ্রূণের লিঙ্গ নির্ধারণের মাধ্যমে কন্যাশিশুর বিরুদ্ধে বৈষম্য ও সম্ভাব্য নারী ভ্রূণ হত্যার ঝুঁকি তৈরি হয়, যা বাংলাদেশের সংবিধানের ১৮, ২৭, ২৮, ৩১ ও ৩২ অনুচ্ছেদের সঙ্গে সরাসরি সাংঘর্ষিক। প্রতিবেশী রাষ্ট্র ভারতসহ বিভিন্ন দেশে এ ধরনের কার্যক্রম আইন দ্বারা কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত হওয়ার বিষয়টিও রায়ে উল্লেখ করা হয়।

হাইকোর্ট এই নির্দেশনাকে ‘কন্টিনিউয়াস ম্যানডামাস’ হিসেবে ঘোষণা করেছেন, যার অর্থ হলো ভবিষ্যতে এই নির্দেশনার বাস্তবায়ন কতটুকু হচ্ছে তা আদালত নিয়মিত তদারকি করতে পারবেন।

উল্লেখ্য যে, ২০২০ সালের ২৬ জানুয়ারি সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ইশরাত হাসান গর্ভের শিশুর পরিচয় প্রকাশ বন্ধে জনস্বার্থে এই রিট আবেদনটি দায়ের করেছিলেন।

আদালতে রিটের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী ইশরাত হাসান ও তাঁকে সহযোগিতাকারী আইনজীবী তানজিলা রহমান। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল অমিত দাশ গুপ্ত।