কোর্ট রিপোর্টার, ঢাকা | প্রখ্যাত আইনজীবী ও সাবেক বিচারপতি মোহাম্মদ আনসার আলীর ৩১তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ রোববার (৫ জুলাই)। মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষ্যে মরহুমের স্মরণে রাজধানীর বনানী কবরস্থান প্রাঙ্গণে এবং নওগাঁয় তাঁর নিজ গ্রামের বাড়িতে বিশেষ দোয়া মাহফিল, কুরআনখানি ও মোনাজাতের আয়োজন করা হয়েছে।
সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসন থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে মরহুমের ৩১তম মৃত্যুবার্ষিকী ও আয়োজিত কর্মসূচির এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
বিচারপতি মোহাম্মদ আনসার আলী কেবল আইনি অঙ্গনেই নয়, বরং দেশের জাতীয় ইতিহাসের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বাঁকে অত্যন্ত গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকা পালন করেছেন। তিনি ছিলেন একাধারে ভাষা সংগ্রামী এবং বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার আজীবন লড়াকু সৈনিক।
বিচারপতি মোহাম্মদ আনসার আলী ছাত্রাবস্থায় ১৯৫২ সালের মহান ভাষা আন্দোলনে অত্যন্ত সক্রিয় ও নেতৃত্বস্থানীয় ভূমিকা পালন করেন। এর পাশাপাশি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ঐতিহাসিক আন্দোলনেও তিনি সম্মুখসারির ছাত্রনেতা হিসেবে সক্রিয় নেতৃত্ব দেন। মাতৃভাষার প্রতি তাঁর এই অনন্য ও অবিস্মরণীয় অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ বাংলাদেশ সরকার ২০০১ সালে তাঁকে মরণোত্তর ‘মাতৃভাষা পদক’-এ ভূষিত করে।
পরবর্তীতে ১৯৭১ সালের মহান স্বাধীনতা সংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধেও তিনি সক্রিয়ভাবে জড়িয়ে পড়েন এবং দেশমাতৃকার স্বাধীনতায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন।
জাতীয় রাজনীতি ও স্বাধিকার আন্দোলনের পাশাপাশি পেশাগত জীবনে তিনি অত্যন্ত প্রতিভার স্বাক্ষর রাখেন। ১৯৬২ সালে তিনি তদানীন্তন ঢাকা হাইকোর্টে এবং পাকিস্তান সুপ্রিম কোর্টে আইনজীবী হিসেবে আইন পেশায় আত্মনিয়োগ করেন। পেশাগত জীবনে তিনি বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির (SCBA) সিনিয়র সহ-সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
এ ছাড়া তিনি তৎকালীন রংপুর হাইকোর্ট বেঞ্চ আইনজীবী সমিতির দুইবার নির্বাচিত সভাপতি এবং বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড সোসাইটির সহ-সভাপতি হিসেবে আইনি পরিমণ্ডলে নেতৃত্ব দেন।
পরবর্তীতে সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তাঁর দেওয়া বহু যুগান্তকারী রায়ের মধ্যে তাঁর প্রজ্ঞা, বিচারিক দক্ষতা ও অনন্য প্রতিভার স্বাক্ষর মেলে। বিচার বিভাগের সম্পূর্ণ স্বাধীনতা নিশ্চিতকরণ এবং দেশে আইনের শাসন মজবুত করার জন্য তিনি আজীবন কাজ করে গেছেন।
উল্লেখ্য, বিচারপতি মোহাম্মদ আনসার আলীর কনিষ্ঠ পুত্র বিচারপতি আহমেদ সোহেল বর্তমানে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে অত্যন্ত নিষ্ঠার সাথে বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

