কোর্ট রিপোর্টার, ঢাকা | সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে আপত্তিকর পোস্টের মাধ্যমে দেশের সর্বোচ্চ আদালত সুপ্রিম কোর্ট, মাননীয় প্রধান বিচারপতি এবং অন্যান্য বিচারপতিদের নিয়ে অসত্য কুৎসা রটনা ও প্রাতিষ্ঠানিক ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় হাইকোর্ট বিভাগের সাময়িক বরখাস্তকৃত সহকারী রেজিস্ট্রার (দেওয়ানি-১) ইব্রাহীম আলম ভূইয়াকে চাকরি থেকে চূড়ান্তভাবে বরখাস্ত (ডিসমিসাল ফ্রম সার্ভিস) করেছে সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসন।
আজ বুধবার (১৫ জুলাই) সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান সিদ্দিকীর স্বাক্ষর করা এক অফিস আদেশ ও বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই বরখাস্তের সিদ্ধান্ত জানানো হয়।
সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেলের কার্যালয় থেকে জারিকৃত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সাময়িকভাবে বরখাস্ত থাকা হাইকোর্ট বিভাগের সহকারী রেজিস্ট্রার (দেওয়ানি-১) ইব্রাহীম আলম ভূইয়ার বিরুদ্ধে দায়েরকৃত বিভাগীয় মামলার তদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। এতে তাঁর বিরুদ্ধে ‘সুপ্রিম কোর্ট অব বাংলাদেশ (হাইকোর্ট) এমপ্লয়িজ (শৃঙ্খলা ও আপিল) রুলস, ১৯৮৩’-এর ২(৪) বিধি ও ৩(বি) অনুযায়ী আনীত অসদাচরণের অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে।
অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় উক্ত বিধিমালার ৪(১)(জি) বিধি অনুযায়ী গত ১৪ জুলাই ২০২৬ তারিখ থেকে তাঁকে সরকারি চাকরি হতে স্থায়ীভাবে বরখাস্ত (Dismissal from Service) করা হলো।
যেসব গুরুতর অভিযোগে এই কঠোর শাস্তি
এর আগে গত ৫ মে সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসনের এক জরুরি বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে ইব্রাহীম আলম ভূইয়াকে চাকরি থেকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছিল। সে সময় তাঁর বিরুদ্ধে আনীত সুনির্দিষ্ট অভিযোগগুলো ছিল:
-
ফেসবুকে আপত্তিকর পোস্ট: তিনি ব্যক্তিগত ফেসবুক অ্যাকাউন্টে পোস্টের মাধ্যমে দেশের অভিভাবক প্রতিষ্ঠান সুপ্রিম কোর্ট, প্রধান বিচারপতি এবং অন্যান্য বিচারপতিদের সম্পর্কে অত্যন্ত অগ্রহণযোগ্য ও অশোভন ভাষা ব্যবহার করে তাঁদের প্রাতিষ্ঠানিক ভাবমূর্তি মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন করেছেন।
-
কর্মচারীদের ব্যবহার করে কুৎসা রটনা: নিজের ব্যক্তিস্বার্থ চরিতার্থ করার উদ্দেশ্যে সুপ্রিম কোর্টের সাধারণ কর্মচারীদের ব্যবহার করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও মূলধারার মিডিয়ায় বিচার বিভাগ, প্রধান বিচারপতি এবং বিচারপতিদের নামে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন, মিথ্যা ও অসত্য কুৎসা প্রচারের ব্যবস্থা করেছেন।
-
অফিসে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি ও অবাধ্যতা: সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসনের বিভিন্ন আইনসম্মত ও বৈধ আদেশ অমান্য করা এবং প্রশাসনের আদেশ পালন না করতে অন্য সাধারণ কর্মচারীদের ইন্ধন দিয়ে সুপ্রিম কোর্টের প্রশাসনিক কাজে বিশৃঙ্খলা ও অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করেছেন।
আদেশে উল্লেখ করা হয়েছিল, তাঁর এই ধরনের কর্মকাণ্ড ‘সুপ্রিম কোর্ট অব বাংলাদেশ (হাইকোর্ট) এমপ্লয়িজ (শৃঙ্খলা ও আপিল) রুলস, ১৯৮৩’-এর ২(৪) বিধি ও ৩(বি) মোতাবেক অত্যন্ত গুরুতর অসদাচরণ এবং অফিস শৃঙ্খলা পরিপন্থি ফৌজদারি অপরাধের শামিল, যার সর্বোচ্চ শাস্তি চাকরি হতে চূড়ান্ত বরখাস্তকরণ। গত ৫ মে সাময়িক বরখাস্তের পর বিধি ১০(১) মোতাবেক তাঁকে দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করে প্রশাসন শাখায় সংযুক্ত করা হয়েছিল এবং আজ তদন্ত শেষে তাঁকে চূড়ান্তভাবে চাকরিচ্যুত করা হলো।
আইনি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সুপ্রিম কোর্ট ও বিচার বিভাগের মতো পবিত্র অঙ্গনের কর্মকর্তাদের যেকোনো ধরনের অপেশাদার আচরণ ও সোশ্যাল মিডিয়ায় কুৎসা রটনার বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসনের এই জিরো টলারেন্স নীতি সাধারণ কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের জন্য একটি কঠোর সতর্কবার্তা হিসেবে কাজ করবে।

