গরীব ও অসহায়দের পক্ষে মামলা পরিচালনার শর্তে দণ্ডিত আইনজীবী প্রবেশনে মুক্ত
আইনজীবী (প্রতীকী ছবি)

আদালতে অস্বাভাবিক আচরণের অভিযোগে আইনজীবীর সদস্যপদ স্থগিত, দুই বছর মামলা পরিচালনায় নিষেধাজ্ঞা

চট্টগ্রাম আদালতে জামিন শুনানির সময় অসংলগ্ন কথা বলা ও অস্বাভাবিক আচরণের অভিযোগে আইনজীবী শাহেদুল হকের সদস্যপদ স্থগিত করেছে চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতি। একই সঙ্গে আগামী দুই বছর চট্টগ্রামের কোনো আদালতে মামলা পরিচালনায় তাঁর ওপর অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।

গতকাল মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সমিতির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ মঈনুদ্দীন স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে এ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।

সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. মঈনুদ্দীন জানান, আদালতে শুনানির সময় অসংলগ্ন আচরণের অভিযোগ তদন্তে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছিল। অভিযুক্ত আইনজীবী কমিটির কাছে নিজের বক্তব্য তুলে ধরেন। তবে তাঁর বক্তব্য সন্তোষজনক না হওয়ায় দুই বছরের জন্য তাঁকে পেশাগত কাজে অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। সমিতির এ সিদ্ধান্ত আদালতকেও চিঠির মাধ্যমে জানানো হয়েছে।

আদালত সূত্রে জানা যায়, গত ১৭ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হালিশহর থানার একটি নালিশি মামলার আসামি এমরান চৌধুরীর জামিনের আবেদন করেন তাঁর আইনজীবী শাহেদুল হক। তবে শুনানি শুরু করেন বাদীপক্ষের আইনজীবী শ্যামলী চৌধুরী।

আরও পড়ুন : আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্তিতে সর্বোচ্চ বয়স ৩৫ বছর, কার্যকর ২০৩০ সাল থেকে

এ সময় আদালত জানতে চান, বাদীপক্ষের আইনজীবী আসামির জামিনের শুনানি করতে পারেন কি না। জবাবে শ্যামলী চৌধুরী আদালতকে জানান, আসামির আইনজীবী শাহেদুল হক আদালতে আসতে চাইছেন না। এ কারণে তিনি জামিনের শুনানি করতে চান। পাশাপাশি আসামির জামিনে তাঁর কোনো আপত্তি নেই বলেও জানান তিনি।

তখন আদালত বলেন, জামিন শুনানির জন্য আসামির আইনজীবীর উপস্থিতি প্রয়োজন।

পরে বুধবার বিকেল ৪টা ২৫ মিনিটে আদালতে উপস্থিত হন শাহেদুল হক। আদালতের আদেশে উল্লেখ করা হয়, শুনানির সময় তিনি অস্বাভাবিক আচরণ করেন। এ সময় তিনি বলেন, ‘আসামি ভুল করেছে আর ভুল করবে না। আদালতের নিকট জামিন চাই।’

আদেশে বিচারক আরও উল্লেখ করেন, বাদীপক্ষ আসামির জামিনে অনাপত্তির কথা জানালেও শাহেদুল হকের কথা জড়িয়ে যাচ্ছিল এবং তাঁর পোশাক-পরিচ্ছদও স্বাভাবিক ছিল না। এ অবস্থায় তিনি মদ্যপান করেছেন বলে আদালতের কাছে প্রতীয়মান হয়।

পরে শাহেদুল হককে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ডোপ টেস্ট করানোর নির্দেশ দেন আদালত।

এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন ও অভিযুক্ত আইনজীবীর বক্তব্য পর্যালোচনা করে তাঁর সদস্যপদ স্থগিত এবং আগামী দুই বছর চট্টগ্রামের কোনো আদালতে মামলা পরিচালনায় অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার সিদ্ধান্ত নিয়েছে চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতি।