শিক্ষকদের দাবি পূরণ করে বৈষম্য দূর করার আহ্বান
অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ ছিদ্দিক উল্লাহ মিয়া

আইনজীবী ছিদ্দিক উল্লাহ মিয়াকে ঢাকা ছাড়তে নিষেধ আপিল বিভাগের

শিক্ষক নিয়োগ মামলায় জালিয়াতির অভিযোগ

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক নিয়োগসংক্রান্ত মামলায় জালিয়াতির মাধ্যমে রায় নেওয়ার অভিযোগে পরবর্তী আদেশ না দেওয়া পর্যন্ত সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ছিদ্দিক উল্লাহ মিয়াকে ঢাকা ছাড়তে নিষেধ করেছেন আপিল বিভাগ। এ ঘটনায় নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়েছেন তিনি। তবে এ বিষয়ে আগামী সোমবার আদেশ দেবেন সর্বোচ্চ আদালত।

বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগ এ আদেশ দেন।

এর আগে, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক নিয়োগসংক্রান্ত একটি রিট মামলায় রুল জারির পর শুনানি ছাড়াই রায় নেওয়ার অভিযোগে জালিয়াতির বিষয়টি আপিল বিভাগে ধরা পড়ে বলে জানান অ্যাটর্নি জেনারেল রুহুল কুদ্দুস কাজল।

আপিল বিভাগ জানিয়েছেন, প্রয়োজনে তৎকালীন হাইকোর্টের বিচারপতি নাইমা হায়দারের বেঞ্চের সব রায় পুনর্বিবেচনা করা হতে পারে।

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগসংক্রান্ত নয়টি মামলায় শুনানি ও রায় গ্রহণের প্রক্রিয়ায় জালিয়াতির অভিযোগ উঠেছে আইনজীবী ছিদ্দিক উল্লাহ মিয়ার বিরুদ্ধে।

২০২৩ সালের অক্টোবরে বিচারপতি নাইমা হায়দারের নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চে কয়েকটি মামলায় যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ না করেই রায় নেওয়ার অভিযোগ ওঠে তাঁর বিরুদ্ধে।

পরে রাষ্ট্রপক্ষ ওই রায়গুলোর বিরুদ্ধে আপিল করলে নথিপত্র পর্যালোচনায় কথিত জালিয়াতির বিষয়টি সামনে আসে।

বুধবার (২৮ অক্টোবর) সংশ্লিষ্ট মামলাগুলোর বিষয়ে ব্যাখ্যা জানতে আইনজীবী ছিদ্দিক উল্লাহ মিয়াকে তলব করেন আপিল বিভাগ। আদালত বলেন, প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট বেঞ্চের বিচারপতিদের কাছ থেকেও এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হবে।

বৃহস্পতিবার বিষয়টি আদেশের জন্য আপিল বিভাগের কার্যতালিকায় ছিল। এদিন আইনজীবী নিঃশর্ত ক্ষমা চাইলেও আদালত পরবর্তী আদেশ না দেওয়া পর্যন্ত তাঁকে ঢাকা ছাড়তে নিষেধ করেন।

যেভাবে রায় নেওয়ার অভিযোগ

আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০২০ সালের ৯১৯ নম্বর রিট মামলায় বিচারপতি নাইমা হায়দারের নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বিভাগের দ্বৈত বেঞ্চ ২০২৩ সালের ১৬ অক্টোবর রায় ঘোষণা করেন।

ওই রায়ে ‘সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক নিয়োগ বিধিমালা, ২০১৩’-এর ৭ নম্বর বিধি অনুযায়ী ৬০ শতাংশ নারী কোটা যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়নি উল্লেখ করে তৎকালীন চূড়ান্ত ফলাফল বাতিল করা হয়। একই সঙ্গে ছয় মাসের মধ্যে নতুন মেধাতালিকা প্রণয়ন করে রিটকারীদের নিয়োগের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।

অভিযোগ অনুযায়ী, মূল ৫৮ জন আবেদনকারীর বাইরে আরও ৬৪ জনকে নতুন সহ-আবেদনকারী হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করতে হলফনামা সম্পন্ন করা হয়। তবে নিয়মিত সেকশন-প্রক্রিয়া অনুসরণ, নাম তালিকাভুক্তকরণ কিংবা বিবাদী পক্ষ—প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং সংশ্লিষ্ট অধিদপ্তরকে নোটিশ দেওয়া ছাড়াই নথি সরাসরি বিচারকের কাছে উপস্থাপন করা হয়।

অভিযোগে আরও বলা হয়, মাত্র এক দিনের মধ্যে আবেদন মঞ্জুর ও শুনানি গ্রহণ করা হয়। মূল শুনানির মাত্র চার দিনের মাথায় হাইকোর্ট রায় ঘোষণা করেন। ওই রায়ে মূল আবেদনকারীদের বাদ দিয়ে পরবর্তীতে যুক্ত হওয়া নতুন সহ-আবেদনকারীদের পক্ষে আদেশ দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ উঠেছে।

প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক নিয়োগসংক্রান্ত এ ধরনের মোট নয়টি মামলায় জালিয়াতির আশ্রয় নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

প্রয়োজনে হাইকোর্টের সব রায় পুনর্বিবেচনা

হাইকোর্টের ওই রায়গুলোর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ আপিল বিভাগে লিভ টু আপিল দায়ের করে। আপিল বিভাগে শুনানির সময় মামলার নথিপত্রে রায় ঘোষণার দ্রুততা, প্রক্রিয়াগত অনিয়ম ও কথিত জালিয়াতির বিষয়গুলো সামনে আসে। এ নিয়ে আদালত অসন্তোষ প্রকাশ করেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

আপিল বিভাগ বলেছেন, প্রয়োজনে বিচারপতি নাইমা হায়দারের নেতৃত্বাধীন সংশ্লিষ্ট বেঞ্চের সব রায় পুনর্বিবেচনা করা হবে। এ ছাড়া মামলাগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট বিচারপতিদের কাছ থেকেও ব্যাখ্যা নেওয়া হতে পারে।

এদিকে অভিযোগের বিষয়ে আইনজীবী ছিদ্দিক উল্লাহ মিয়া বলেন, মূল আবেদনকারীদের মধ্যে কিছু বাদ পড়েছিলেন, আবার কিছু নতুন আবেদনকারী যুক্ত হয়েছিলেন। তিনি দাবি করেন, প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই কাজ করেছেন, তবে সেকশনে কিছু জটিলতা ছিল।