পুনর্গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে চিফ প্রসিকিউটরের দায়িত্ব পালন করে আসছেন মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম। প্রায় দেড় বছর ধরে তিনি এ পদে রয়েছেন। তবে তাকে সরিয়ে নতুন কাউকে নিয়োগ দেওয়ার বিষয়ে সরকার ভাবছে বলে আইনাঙ্গনে জোর গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়েছে। বিষয়টি নিয়ে বিচার বিভাগ, প্রসিকিউশন মহল এবং রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা চলছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক প্রসিকিউটর গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন যে, তাজুল ইসলামকে সরিয়ে দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। এ প্রেক্ষাপটে চিফ প্রসিকিউটর হিসেবে আলোচনায় এসেছে আইনজীবী আমিনুল ইসলাম-এর নাম। তিনি বিএনপির প্রয়াত চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া-এর দুর্নীতির মামলায় গঠিত আইনজীবী দলের সদস্য ছিলেন। ওই মামলায় তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া দণ্ডিত হয়েছিলেন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠ আসন পেয়ে বিএনপি সরকার গঠনের পর থেকেই চিফ প্রসিকিউটরসহ পুরো প্রসিকিউশন টিমে পরিবর্তন বা রদবদল নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। তবে এ বিষয়ে ব্রিটিশ সাংবাদিক ডেভিড বার্গম্যান-এর একটি ফেসবুক পোস্ট ঘিরে এ আলোচনা আরও জোরালো হয়।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করা এ সাংবাদিক তার পোস্টে লেখেন, সরকার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর হিসেবে নতুন একজনকে নিয়োগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বর্তমান চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলামকে সরিয়ে এ পদে আমিনুল ইসলামকে বিবেচনা করা হচ্ছে এবং তাজুল ইসলামকে প্রতিস্থাপনের সিদ্ধান্তের বিষয়টি ইতোমধ্যে জানানো হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
আরও পড়ুন : তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রীর সাথে ওনাব’র সাক্ষাৎ
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মুখে ক্ষমতাচ্যুত হয় শেখ হাসিনা-র নেতৃত্বাধীন সরকার। পরবর্তীতে নতুন করে ঢেলে সাজানো হয় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। একই বছরের সেপ্টেম্বরের শুরুতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার তাজুল ইসলামকে অ্যাটর্নি জেনারেলের পদমর্যাদায় চিফ প্রসিকিউটর হিসেবে নিয়োগ দেয়।
নির্বাচনের আগ পর্যন্ত তাজুল ইসলামের নেতৃত্বে জুলাই ও আগস্ট ২০২৪-এ সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ২৪টি আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করে প্রসিকিউশন। বর্তমানে এসব মামলার বিচারকাজ ট্রাইব্যুনাল-১ ও ট্রাইব্যুনাল-২-এ চলমান রয়েছে। এর মধ্যে তিনটি মামলায় রায় ঘোষণা হয়েছে। ঘোষিত রায়ে দণ্ডিত ২৬ জনের মধ্যে রয়েছেন ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল এবং পুলিশের শীর্ষ কর্মকর্তারাও।
এছাড়া জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রথম শহীদ আবু সাঈদ হত্যা মামলাসহ দুটি মামলার রায় এখনো অপেক্ষমাণ। আগামী ৪ মার্চ রামপুরায় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের একটি মামলার রায় ঘোষণার কথা রয়েছে।
অন্যদিকে, আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে গুম ও নির্যাতনের অভিযোগে দায়ের করা মামলাগুলোর বিচারও চলছে ট্রাইব্যুনালে। এসব মামলায় অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসান। আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী বহু সাবেক এমপি ও মন্ত্রীও বর্তমানে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আসামি হিসেবে বিচারাধীন।
সম্প্রতি সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তাজুল ইসলাম বলেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচারকাজ আগের গতিতেই চলবে। সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বার্তা না এলেও আইন নিজস্ব গতিতে চলবে বলে তাদের জানানো হয়েছে। বিশেষ করে আইনমন্ত্রী ট্রাইব্যুনালের কার্যক্রম স্বাভাবিক গতিতে চলমান থাকবে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন। তাজুল ইসলাম আশা প্রকাশ করেন, বিচারিক প্রক্রিয়া তার নিজস্ব নিয়ম ও কাঠামো অনুযায়ী অব্যাহত থাকবে।

